‘খুনীর পরিচয় আছে সাড়ে ৬ মিনিটের ফোনালাপে’ ওই রাতে বাইরের কেউ ফ্ল্যাটে ঢোকেনি :র‌্যাব।

30

sagor Runiসাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি যে রাতে খুন হন, সে রাতে বাইরে থেকে কেউ তাদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করার আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান। র্যাবের এই কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, ঘটনার পর রুনি সাড়ে ৬ মিনিট তার মোবাইল ফোন থেকে কথা বলেছিলেন। ওই সময়ের মধ্যে তিনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছু তথ্য অপরপ্রান্তের ব্যক্তিকে বলেছেন। এই সাড়ে ছয় মিনিটের কথপোকথনেই রয়েছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আসল কাহিনী। রয়েছে খুনিদের পরিচয়। তবে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটন করার প্রক্রিয়া এখনো চলছে বলে জানান কর্নেল জিয়াউল আহসান।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি এখনো তদন্ত করছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)। ২০ মাস তদন্ত করেও র্যাব খুনিদের সনাক্ত করতে পারেনি। রহস্য উদঘাটনে সাগর-রুনির ব্যক্তিগত ব্যবহূত জিনিসপত্র ও তাদের বাসায় ব্যবহূত জিনিসপত্র বিদেশে নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। এমনকি বাসার রান্নাঘরের জানালায় যে গ্রিল কাটা ছিল তার নমুনাও পরীক্ষা করা হয়েছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও খুনিদের সনাক্ত করতে পারেনি র্যাব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র্যাবের আরেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মেঘ ঘটনার পরপরই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তার বাবা-মার হত্যা সম্পর্কে একটি তথ্য দিয়েছিল। এখন সেটিই সত্য হতে চলছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। মেঘের ওই বক্তব্যের রেকর্ড র্যাবের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

র্যাবের ভাষ্যমতে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের সুরক্ষিত অ্যাপার্টমেন্টে সাগর-রুনি খুন হন। সে সময় বাসায় ছিল শুধু তাদের একমাত্র শিশুপুত্র মেঘ। সংবাদ পেয়ে রুনির মা নুরুন নাহার মির্জা ও ভাই রোমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ভেতর থেকে বাসার দরজা মেঘই খুলে দিয়েছিল। সকাল ৭টা ২৫ মিনিট থেকে সাড়ে ৬ মিনিট রুনি তার মোবাইল ফোন থেকে কথা বলেছিলেন।

ঘটনার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রুনি নিজেই তার মোবাইল ফোন দিয়ে তার নিকটতম একজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কললিস্টের তথ্য অনুযায়ী ওই কর্মকর্তা বলেন, রুনি মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতেই মারা যান। রুনি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জীবিত ছিলেন বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এখনও সাংবাদিক সমাজ সাগরু-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে আসছে। ঘটনার পর সিআইডিসহ থানা পুলিশ আলামত সংগ্রহে ঘটনাস্থল সুরক্ষিত রাখতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে অভিযোগ র্যাবের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক কনসালটেন্ট ও অভিজ্ঞ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, সাগর-রুনির হত্যার আলামত নষ্টের অভিযোগের তীর পুলিশের দিকেই যায়। বাংলাদেশের বাইরে কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রথমেই আলামত নষ্টের জন্য পুলিশকে অভিযুক্ত করা হতো। সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের পর আলামত সংগ্রহ ও হত্যার ঘটনাস্থল সংরক্ষণ করতে না পারায় খুনের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

ঘটনার পর শেরে বাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক এসআই। একদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপর ন্যস্ত করা হয়। দুই মাসেরও অধিক তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ওই বছর এপ্রিল মাসে হত্যা মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে ন্যস্ত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here