খালেদা জিয়ার আবেদন হাইকোর্টে খারিজ

12

khaledaজিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রিভিশন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার দুপুরে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

গত ১৩ এপ্রিল হাইকোর্টে রিভিশন আবেদনটি করেন খালেদা জিয়া। বিচারিক আদালতে মামলা দুইটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২১ এপ্রিল দিন ধার্য ছিল। কিন্তু রিভিশনের রায় না আসা পর্যন্ত আসামিপক্ষ সময় বাড়ানোর আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আদালত। নতুন করে তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২১ মে। ঢাকার তৃতীয় ও বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায় এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৬ ও ১৭ এপ্রিল খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী। উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে ২০ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলার অপর আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

তারেক রহমান সরকারের নির্বাহী আদেশে দেশের বাইরে আছেন। মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন। তবে শরফুদ্দিন আহমেদ আদালতে হাজির না থাকায় ১৯ মার্চ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। অপর দুই আসামি ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

অন্যদিকে, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তত্কালীন একান্ত সচিব, বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান জামিনে আছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here