খালাস পেলেন তারেক, মামুনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

11

image_86261
২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদকের(দুর্নীতি দমন কমিশন) দায়েরকৃত মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে খালাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, একই মামলায় তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ডসহ ৪০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন আজ রবিবার এ রায় দেন।

এর আগে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত বৃহস্পতিবার বিচারক মো. মোতাহার হোসেন রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করেন। তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় তার অনুপস্থিতিতেই এ রায় ঘোষণা করা হল। মামলা দায়ের থেকে শুরু করে পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।

গত ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৬ জুলাই তারেক রহমান ও মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তারেক ও তার বন্ধু মামুনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৬ জুলাই এই মামলার বিচার শুরু হয়। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে অভিযোগ গঠন করা হয়।

গত বছরের জুলাই মাসে অভিযোগপত্র আদালতে দেয়া হয়।

চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর বাদী ও আসামি পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়, যা শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার।

তারেক রহমান ও মামুনের বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের কাজ নির্মাণ কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন মামুন।

সিঙ্গাপুরে লেনদেনের পর সেখানকার সিটি ব্যাংকে মামুনের হিসাবে জমা রাখা এই অর্থের মধ্যে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা তারেক খরচ করেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পন্থায় ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঐ অবৈধ টাকার কিছু অংশ তারেক রহমান ভিসা কার্ডের মাধ্যমে খরচ করেছেন। কিন্তু ওই টাকা সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থায় দেখানো হয়নি।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বনানীর নির্মাণ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে মামুন ঐ অর্থ নিয়েছিলেন।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোও মুদ্রা পাচারের আরেকটি মামলায় কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। কারদণ্ডাদেশ নিয়েই তিনিও বিদেশে অবস্থান করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here