খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

17

khondokarবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যানমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত সাড়ে নয় কোটি টাকা যুক্তরাজ্যে পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার বাদি হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মামলাটি (মামলা নং-১৩) দায়ের করেন। দুদক মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০০২ এর ১৩ ধারা, ২০০৯ এর ৪ ধারা এবং ২০১২ এর ৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে দুদক কার্যলায়ে কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এই মামলার অনুমোদন দেয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রচুর অর্থ-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। এ সময় তিনি দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা গোপন করে দেশে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাজ্যের ‘লর্ড টিএসবি অফসোর প্রাইভেট’ ব্যাংকে তার নিজের ও স্ত্রী বিলকিস আক্তারের যৌথ নামে ৮ লাখ ৪ হাজার ১৪২ ব্রিটিশ পাউন্ড পাচার করেন। যা বাংলাদেশি টাকায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা। এ টাকাগুলো তিনি বিভিন্ন সময়ে ১০৮৪৯২ নম্বরে ফিক্সট টার্ম ডিপোজিট হিসেবে জমা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ড. মোশাররফ হোসেনের দেয়া সম্পদ বিবরণীর বাইরে যুক্তরাজ্যের একটি প্রাইভেট ব্যাংকে ৮ লাখ ৪ হাজার ১৪২ ব্রিটিশ জমা করেন। তিনি এ টাকা দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর সময় বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব খোলার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করেননি। যাতে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ এর ৫ ধারা লঙ্ঘিত হয়। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই টাকা পাচার করেন করেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া যায়। এদিকে উক্ত ঘটনায় এখন পর্যন্ত তার স্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে তাকে আসামী করা হয়নি। তবে অর্থ পাচারের সঙ্গে তার স্ত্রী মিসেস বিলকিস আক্তার বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা মামলার তদন্ত পর্যায়ে খতিয়ে দেখা হবে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here