ক্ষতিগ্রস্তরা পাবেন ৪ কোটি ডলার

11

rana plazaরানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) চার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করেছে। বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ড কম্পানির কাছ থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবার মিলিয়ে তিন হাজার ৬০০ জন এ অর্থ পাবেন। পরে ক্ষতির পরিমাণ যাচাই সম্পন্ন হলে ক্ষতির মাত্রাভেদে তহবিলের চার কোটি ডলারের পুরোটাই দেওয়া হবে।
আইএলও তহবিল দেখভাল ও বিতরণের জন্য গঠিত ‘রানা প্লাজা ক্লেইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ নামে কো-অর্ডিনেশন কমিটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রানা প্লাজা ক্লেইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক্সিকিউটিভ কমিশনার ড. মুজতবা কাজাজি গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হবে।
জানা গেছে, গত বছরের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশ থেকে যারা পোশাক কেনে এমন ব্র্যান্ড কম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ সহায়তার ঘোষণা দেয়। এ অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব নেয় আইএলও। প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে ৪০ মিলিয়ন (চার কোটি) ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এ অর্থ দেশে আনার জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও নেওয়া হয়। আগামী ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তির আগেই ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা পাওয়া শুরু করবেন।
জানা গেছে, রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন ও ক্ষতির ধরন নির্ণয়ের জন্য জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি আইএলওর তহবিল দেখভাল ও বিতরণের জন্য ‘রানা প্লাজা ক্লেইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ নামে একটি প্যানেল গঠন করে। এ প্যানেলের চেয়ারম্যান হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও এক্সিকিউটিভ কমিশনার ড. মুজতবা কাজাজি। প্যানেলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।
জানা গেছে, জাতীয় সমন্বয় কমিটি পুরো বিষয়টি তদারক করছে। এ কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তিন হাজার ৬০০ জনকে ক্ষতিপূরণের ৫০ হাজার টাকা করে অগ্রিম প্রদান করবে। সমন্বয় কমিটি ইতিমধ্যেই নিহতদের স্বজন ও আহতদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবির আবেদন নেওয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যে চার শর মতো আবেদন জমা পড়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরো মাস তিনেক সময় লাগবে।
রানা প্লাজা ক্লেইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সূত্র জানায়, রানা প্লাজা ধসে নিহতদের তালিকার পাশাপাশি যাঁরা নিখোঁজ রয়েছেন তাঁদেরও তালিকা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ও নিহতদের পাশাপাশি শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদেরও একটি তালিকা করা হচ্ছে। সবাইকেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যাঁরা বেঁচে আছেন কিন্তু শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁরা কে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন, তা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা মালিক, সরকার এবং ক্রেতাদের মাধ্যমে গঠিত কোনো তহবিল থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাননি। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বণ্টন করা হয়েছে এ তহবিল থেকে। কেউ এক লাখ, কেউ দুই লাখ, কেউ তিন লাখ টাকা করে জরুরি সহায়তা হিসেবে অনুদান পেয়েছেন। প্রথম ধাপে যাঁদের লাশ হস্তান্তরিত হয়েছে তাঁদের মধ্যে এ টাকা বণ্টন করা হয়। কিন্তু জানা গেছে, এখন পর্যন্ত অনেক পরিবার আছে, যারা লাশ পেয়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে কোনো টাকা পায়নি।
ইতিমধ্যে চরম আর্থিক সংকটে ভুগে সালমা (২৭) নামের এক নারী শ্রমিক চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি আত্মহত্যা করেছেন। প্রতি মাসেই রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক অথবা তাঁদের পরিবার ক্ষতিপূরণের অর্থের জন্য সাভার ও ঢাকায় মানববন্ধন করছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভারে আটতলাবিশিষ্ট রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চলে উদ্ধার অভিযান। ওই বছরের ১৩ মে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এক হাজার ১২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া আড়াই হাজার লোককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি হিসাবে ৩০১ জনের কোনো পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি বলেও জানানো হয়। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হবে। কারণ এখনো প্রায় দুই শর বেশি শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। এখনো কিছুদিন পরপরই ঘটনাস্থল থেকে মানুষের হাড়গোড়, কঙ্কাল পাওয়া যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here