কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবী যুব মহিলা লীগ সংঘর্ষ

15

suprime courtবিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি চলাকালে গতকাল সোমবার রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীদের সঙ্গে সরকার সমর্থক যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। একই সময় জাতীয় প্রেসক্লাবে সরকার ও বিরোধী দল সমর্থক সাংবাদিকদের পৃথক প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনের মতো গতকালও রাজপথে বিএনপি বা ১৮ দলের নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি। গোটা রাজধানী ছিল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের দখলে।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের ভেতর থেকে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা একটি মিছিল নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিপরীত দিকের গেটে আসেন। গেটটি তালাবদ্ধ থাকায় মিছিলটি সেখানেই অবস্থান নেয়। গেটের বাইরে রাস্তায় পুলিশ জলকামান ও সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় ওই রাস্তা দিয়ে যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলের নেতৃত্বে একটি মিছিল যাচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্টের গেটের সামনে মিছিলটি আসলে আইনজীবীরা ‘ধর ধর’ বলে চিত্কার শুরু করেন। মহিলা লীগ কর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দেন। একপর্যায়ে শুরু হয় উভয়পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। যুব মহিলা লীগের কর্মীদের মধ্যে অনেকের হাতে ছিল বাঁশের লাঠি। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের নেতাকর্মীরা। কিছুক্ষণ উভয়পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। একপর্যায়ে আইনজীবীরা সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে চলে যান। যুব মহিলা লীগ ও প্রজন্ম লীগের নেতাকর্মীরাও এলাকা ত্যাগ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেদ মজুমদারের নেতৃত্বে একটি মিছিল ওই গেট পর্যন্ত আসে। তারা সেখানে কিছু সময় অবস্থান করেন। গত রবিবার কোর্ট প্রাঙ্গণে সহিংস ঘটনার জন্য বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীদের দায়ী করে বক্তৃতা দেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে ফিরে যান।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে কালো কোট পরে আসলেই সবাই আইনজীবী নন। আইনজীবী তথা সুপ্রিম কোর্টের স্বার্থেই রবিবার কারা হামলা করেছে সেটা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আইনজীবীরা বলেন, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। যা আইনজীবী হিসাবে আশা করা যায় না।

এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে গত রবিবার জামায়াত-শিবিরের সহিংস ঘটনা এবং সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ অন্য নেতাদের উপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময় বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাংবাদিকরা সমাবেশ করে হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন। পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ছাড়া গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা ছিল মোটামুটি শান্ত।

শিবির সন্দেহে দুইজনকে

গণধোলাই

সকাল ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলের সামনে শিবির সন্দেহে দুইজনকে গণধোলাই দিয়েছে ছাত্রলীগ। এরা হলেন আখতারুজ্জামান (২৮) ও জিয়াউল হাসান (৩০)। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চাকরির জন্য তারা ঢাকায় এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের গুলিতে পিঠা বিক্রেতা আহত

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নবাবপুর বিসিসি রোডে পুলিশের গুলিতে ইউসুফ আলী খান (৫৫) নামে এক পিঠা বিক্রেতা আহত হয়েছেন। বিএনপির একটি মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। এ সময় একটি গুলি ইউসুফের পেটে বিদ্ধ হয়। তাকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক বিএনপি কর্মীকে আটক করে।

এদিকে বেলা একটার দিকে গোপীবাগে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রশিবির। পুলিশ তাদের বাধা দিলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে শটগানের গুলি ছোঁড়ে। এ সময় ছয় শিবির কর্মীকে আটক করা হয়।

ককটেল বিস্ফোরণে আহত ২

দুপুর ২টার দিকে নবাবপুরে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া ককটেল বিস্ফোরণে শরীফুল ইসলাম (১৯) নামে জুতার দোকানের এক কর্মচারী আহত হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে প্রেস ক্লাবের পেছনে ককটেল বিস্ফোরণে রাজীব (১৮) নামে এক ছাত্র আহত হয়েছে। সে নারায়ণগঞ্জ সরকারি কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র। ‘সার্জিক্যাল ইকুইপমেন্ট’ কিনতে সে প্রেসক্লাবের পাশে বিএমএ ভবনে এসেছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here