কলকাতার সরোবরে ধরা পড়লো কুমির সদৃশ রাক্ষুসে মাছ

61

জনতার নিউজ

কলকাতার সরোবরে ধরা পড়লো কুমির সদৃশ রাক্ষুসে মাছ

ভারতের কলকাতার সুভাষ সরোবর থেকে কুমিরের মত দেখতে একটি মাছ ধরা পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শিকারি এই মাছ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শিবু মণ্ডল নামের স্থানীয় একজন মৎসশিকারী ছিপ দিয়ে ৩.৫ ফুট লম্বা অ্যালিগেটর গার নামের এই মাছটি ধরেন মাস দুয়েক আগে। মাছটির আকৃতি কুমিরের মতো এবং ধারালো দাঁত রয়েছে। প্রায় আট ফুট পর্যন্ত লম্বা হওয়া এই মাছটি কখনো কখনো মানুষকেও আক্রমণ করে থাকে। জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই মাছটি সরোবরের বাকি সব মাছকে খেয়ে ফেলার সক্ষমতা রাখে। এই মাছের প্রাগৈতিহাসিক পূর্বসূরিদের বিশ্বের অনেক অঞ্চলে পাওয়া যেত, কিন্তু এখন শুধুমাত্র উত্তর ও মধ্য আমেরিকাতে পাওয়া যায়। বর্তমানে এই মাছের সাতটি প্রজাতি রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে বড় অ্যালিগেটর গার প্রজাতি।

পশ্চিমবঙ্গ মৎস্যশিকারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য শিবু মণ্ডল জানান, তিনি যখন ছিপ দিয়ে মাছটি ধরছিলেন তখন এটি তাঁকে আক্রমণ করা চেষ্টা করছিল এবং তাঁর আঙ্গুলে কামড়ও দেয়। মণ্ডল নিয়মিত কলকাতা বেলেঘাটার সুভাষ সরোবরে মাছ শিকার করে থাকেন। পাঁচ কেজি ওজনের মাছটি মণ্ডলের এক বন্ধু এটি রান্না করেছেন। কিছুটা অংশ শুঁটকি করে রেখেছেন। এটির স্বাদ হালকা টক। মণ্ডল বলেন, মাছটি এতই শক্ত ছিল যে আমরা বঁটি বা ছুরি দিয়ে কাটতে পারিনি। এটিকে কুড়াল দিয়ে কাটতে হয়েছে।

জাতীয় জীববৈচিত্র্য কর্তৃপক্ষ ও তেলেঙ্গানা রাজ্য জীববৈচিত্র্য বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য রাজীব ম্যাথিউ বলেন, এটি পুরোপুরি মাংসাশী প্রাণী। এটি শুধু অন্য মাছ মেরে ফেলে না, মানুষের ওপর আক্রমণ করার খবরও পাওয়া গেছে। এই মাছের ডিম বিষাক্ত হয়। এদের আক্রমণাত্মক আচরণে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

২০১৫ সালে মুম্বাইয়ের দাদরে একটি কুয়ার মধ্যে একটি অ্যালিগেটর গার পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের একটি দল এই শিকারি মাছের হুমকি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছে।

ভারতের প্রাণিবিদ্যা বিষয়ক গবেষক কেসি গোপী বলেন, এই শহরে (কলকাতা) এই প্রথমবারের মতো এই প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে। আমরা ওই লেকে একটি দল পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে চাই। পানিতে তাদের বংশবৃদ্ধি হয়েছে কি না বা এলাকার জন্য কত বড় বিপদ হয়ে উঠতে পারে এই মাছ তা আমরা পরীক্ষা করে দেখব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় অনেকে অ্যাকুরিয়ামে সাজানোর জন্য বিদেশ থেকে বিরল প্রজাতির মাছ নিয়ে আসে। কিন্তু যখন এটি বড় হতে থাকে এবং অন্য মাছগুলোকে মেরে ফেলে। তখন তাঁরা স্থানীয় জলাশয়ে সেই মাছ ছেড়ে দেন। হিন্দুস্তান টাইমস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here