ককটেলে ঝলসে প্রাণ গেল পুলিশের

16

rajরাজশাহীতে ১৮ দলের মিছিল থেকে পুলিশের কাভার্ড ভ্যানে ছুঁড়ে মারা শক্তিশালী ককটেলের বিস্ফোরণে আহত এক পুলিশ সদস্য গত রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা গেছেন। তার নাম সিদ্ধার্থ। এ ঘটনায় আরো ৮ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর রাজারহাতা এলাকায় এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহত কনস্টেবলদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে তৌহিদ ও আনন্দের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা কনস্টেবল সিদ্ধার্থকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে সন্ধ্যায় হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। এদিকে এই হামলার পর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮ দলের অন্তত ৩৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টার দিকে লোকনাথ স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে স্থানীয় ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি নগরীর রাজারহাতা এলাকা অতিক্রম করার সময় ওই মিছিলকে ফলোকারী পুলিশের কাভার্ড ভ্যানে ১৮ দলীয় জোট নেতাকর্মীরা শক্তিশালী ককটেল ছুঁড়ে মারে। ককটেলটি ভ্যানের ভিতরে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ভ্যানের ভেতরে থাকা পুলিশের ৯ কনস্টেবল আহত হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সকরা জানান, পুলিশ কনস্টেবল শাহরিয়ার, মজিদ, রায়হান, রাফি, আসাদ, সোহেল, তৌহিদ, সিদ্ধার্থ ও আনন্দ ককটেলের স্প্লিন্টারে আহত হয়েছেন। চিকিত্সকরা জানান, ককটেলের স্প্লিন্টার সিদ্ধার্থের ফুসফুসে আঘাত করেছে। এতে ফুসফুসে রক্ত জমে গেছে। এছাড়া তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে বলেও জানান চিকিত্সকরা।

রামেক হাসপাতালের অর্থপেডিকস বিভাগের চিকিত্সক খন্দকার নাফিস রহমান জানান, ককটেলের স্প্লিন্টারে আরেক কনস্টেবলের মুখ-মণ্ডল ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। অপর কনস্টেবলের চোখে আঘাত রয়েছে।

আরএমপির সহকারী কমিশনার সাইফুর রহমান বলেন, পুলিশের কাভার্ড ভ্যানে ককটেল হামলার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গতকাল বিকাল পর্যন্ত ৩৫ জনকে পুলিশ আটক করেছে। এই ঘটনার দায়ভার নেতৃত্বদানকারী জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জানান, কারা এই হামলা চালিয়েছে তা আমাদের জানা নেই। তবে পুলিশ হামলা চালানোর আগেই ধরপাকড় শুরু করে বলে তিনি দাবি করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here