এ আর রহমানের সুরের মায়াজালে মুগ্ধ দর্শক শ্রোতা

20

ARদর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। উন্মাদনা। কোলাহল। কিংবা স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ। এধরনের বিশেষণ জুড়ে দেয়া যায় গতকালের বিসিবি সেলিব্রেশন কনসার্টের জন্য। তবে পুরো স্টেডিয়ামের লাখো দর্শক দেশি-বিদেশি শিল্পীদের সমন্বয়ে গান শোনার যে আগ্রহ নিয়ে এসেছিল সে আগ্রহের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশ্বের এ সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সুরস্রষ্টা এ আর রহমান। শুরুতে দেশীয় শিল্পীদের পারফর্মেন্সে মুগ্ধ করে দর্শকদের। খানিক উপস্থাপনা আর বাকিটা ঘোষণা থাকলেও উত্সব উল্লাসের কোলাহল বাংলাদেশি প্রখ্যাত শিল্পীরাই যেন পুরো পরিবেশটা উত্সবমুখর করে তোলেন। অর্ণব ও তার দলের পরিবেশনায় ‘সে যে বসে আছে একা একা’ তখনো সোলসসহ একাধিক দল বাকি। কিন্তু তাদের জন্য বরাদ্দ সময়ও ছিল কম। মাত্র বিশ মিনিট। তাই প্রতিটি ব্যান্ডদলই তাদের নিজস্ব নিয়মিত পরিবেশনায় অনেকটা জ্যামিং এর মাধ্যমে নিজেদের গান সংক্ষিপ্ত করে পরিবেশন করে।

সোলসের পরিবেশনায় ছিল নাসিম আলীর কণ্ঠে তপন চৌধুরীর বিখ্যাত গান, মন শুধু মন ছুঁয়েছে। এরপর পার্থ বড়ুয়া গাইলেন, বৃষ্টি দেখে অনেক কেঁদেছি আর নাসিম আলীর চায়ের কাপে।

এরপরই এলআরবির গিটার ঝংকার। মনে হয় যেন জিমি হেনড্রিক্স তার সুরের দ্যোতনা ছড়াচ্ছেন। শুরুতে মনে হয়েছিল শুধু গিটারেই মুগ্ধ করবেন। কিন্তু না, একেবারে নতুন একটি গান দিয়েই শুরু করলেন। সেটিও বাংলাদেশ নিয়ে। তোমারই আঁচলে ঠাঁই দিয়ে বলি আমি আজ বীর সেনানী। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। এরপর হকার। নিজেদের মোবাইলগুলো হাত দিয়ে উঁচিয়ে দেখাতে বললেন দর্শকদের। আরো কিছু গানের ইচ্ছে ছিল তার। তাই নিজের ক্ষোভের কথা কিছু বললেন দর্শকদের। মাঠভর্তি দর্শকদের বললেন ‘আপনারা তালিগুলো রাতের জন্য রেখে দিন। যারা বাংলা গান শুনছেন। তাদের ধন্যবাদ। আপনাদের হাত না চলুক। চোখ কান আশা করি খোলা আছে।’ এলআরবি’র আইয়ুব বাচ্চু কি ইঙ্গিত করলেন তা গ্রীনরুমেই বোঝা গেল। কারণ মাইলস বাজাতে পারছেন না। আয়োজক বললেন, সময় নেই। মাইলস এর শাফিন আহমেদ ক্ষোভ আর আক্ষেপের কথা বললেন।

অতপর রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু। এই পর্ব শুরু হলো ছায়ানটের পরিবেশনা জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী উপভোগ করলেন পরিবেশনা। এরপর ফুয়াদের ওয়েলকাম গান পরিবেশিত হলো মনোমুগ্ধকর কোরিওগ্রাফিতে। অতিথিদের বক্তব্য শেষেই শুরু হবে মাহেন্দ ক্ষণ। তেমনই ঘোষণা চলছে।

অবশেষে আধা ঘন্টা বক্তব্য ও প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শেষে মঞ্চে আসলেন এ আর রহমান। ক্যাপ মাথায় ‘ফানা’ গানটির মাধ্যমে। পেছনের আলোকসজ্জা আর রাতের আঁধারকে সামিয়ানা করে যেন পুরো দৃশ্যপটই বদলে গেল। অপরূপ সুরের মাধুর্যে তখন শুধু উপভোগের সময়। একটি গান গাইবার পর এ আর রহমানের প্রথম উচ্চারিত শব্দ ‘বাংলাদেশ’। তিনি বললেন, ‘অনেকবার অনেকভাবে আসার প্ল্যান হলেও কেন জানি আসা হচ্ছিল না। অবশেষে সৃষ্টিকর্তা বললেন চলে এলাম।’

এভাবে অল্প কথা বলেই আবার ছড়ালেন সুরের ইন্দ্রজাল। টি-টুয়েন্টির অংশগ্রহণকারী ১৬টি দলকে নিয়ে ‘চালো চালো’ গানটি গাইলেন। জাভেদ আলী, শ্বেতা পন্ডিতসহ প্রখ্যাত শিল্পী উদিত নারায়ণ আর শ্বেতা গাইলেন ডুয়েট একটি গান। তবে উদিতের সাথে শ্বেতার কিছু বেসুরো গায়কী কানে বেজে যায় অনেকেরই। এভাবেই কখনো মঞ্চে গান গাইতে গাইতেই ঢুকছে বাংলাদেশের রিকশা, কখনো পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে ঐশ্বরিয়া রায়ের নাচ। এভাবে অনবদ্য পারফর্মেন্সে মাতিয়ে রাখেন ভারতের অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক এ আর রহমান। টানা দুই ঘন্টা পারফরম করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here