এরশাদের অনুষ্ঠানে যাননি দলের ৩০ এমপি ‘কেন নির্বাচন থেকে সরলাম একদিন খুলে বলবো’

11

ershadনানা ঘটনা ও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দলের জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। তবে আমন্ত্রণ জানালেও এতে যোগ দেননি দলের ৩০ এমপি। তাদের উদ্দেশে এরশাদ বলেছেন, ‘আমি জাপার স্রষ্টা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তোমরা আমার কাছে ফিরে এসো। নইলে শুধু আমার দলেই নয়, রাজনীতিতেই তোমাদের স্থান হবে না। তোমরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’ উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েলস সেন্টারে এই মতিবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া, হাসপাতালে ভর্তি ও নির্বাচন শেষে কার্যত গতকালই দলীয় কোনো উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানে এলেন এরশাদ।

প্রসঙ্গত, চলতি দশম জাতীয় সংসদে এরশাদ ও তার স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদসহ জাপার ৩৪জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে আজকের অনুষ্ঠানে এরশাদ ছাড়া অন্য এমপিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলাম ও এমএ হান্নান। বেগম রওশন এরশাদসহ অন্য ৩০ এমপি অনুপস্থিত ছিলেন।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, একটা নির্বাচন হয়ে গেল। এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। অনেক কথা বলার ছিল, বলতে পারছি না। আমি কেন নির্বাচন করিনি সেটা আজ বলবো না, পরে একদিন সব খুলে বলবো। চেয়ারম্যান যেটা বলে, সেটিই সঠিক বলে ধরে নিতে হবে। আমার নির্দেশে প্রায় ২০০ জন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এই দায়ভার তো এখন আমারই, তাদের দায়-দায়িত্ব আমি নেবো। যারা আমার নির্দেশ উপেক্ষা করবেন, তাদের আর জাপায় প্রয়োজন নেই। ওদের ছাড়াই দল চলবে।

বহুল আলোচিত মঞ্জুর হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে এরশাদ বলেন, ‘৯০ সাল থেকে মামলায় ঝুলে রয়েছি। রায় দেওয়ার দিনে বিচারক বদলানো হয়েছে।

যে ৩০ জন এমপি অনুষ্ঠানে আসেননি তাদের বিষয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, তারা কী দলের বাইরে? তারা কী জাপার এমপি নন! জাতীয় পার্টিতে এখন সংকট চলছে। মহাসংকট নয়, কৃত্রিম সংকট। ক্ষমতা ছাড়ার পর সংকট আমাদের পিছু ছাড়েনি। এখন দলে বিভক্তির চেষ্টা হচ্ছে। তবে বিভক্তির যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। ৩০ জন এমপি নিয়ে দল নয়, লক্ষ-কোটি মানুষ নিয়ে দল। আমন্ত্রণ পেয়েও তারা আসেননি। ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে তারা নির্বাচন করেছেন। আর এখানে আসবে না। যারা বন্ধন ছিন্ন করতে চায়, আমি শেষবারের মতো তাদের বলছি, আগামীতে যারা সুদিন দেখতে চাও-যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে এসো।

‘চেয়ারম্যানের নির্দেশ উপেক্ষা করে যারা নির্বাচনে গিয়েছিলেন, তারা কী আমাদের প্রিয়পাত্র, তারা কি দলে থাকবে?’ এমন প্রশ্ন রাখলে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘বহিষ্কার’ ‘বহিষ্কার’ বলে চিত্কার করেন। তারা স্লোগান দেন ‘দালালরা হুঁশিয়ার, সাবধান’। তখন এরশাদ বলেন, এটাই দেখতে চেয়েছিলাম। হতাশা কেটে যাচ্ছে। নির্দেশ উপেক্ষাকারীরা দেখবে, পার্টি কীভাবে এগিয়ে চলে। যারা আমার সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নিয়েছে, তাদের চিনে রাখুন। কিন্তু তাদের কী ক্ষমা করা যায় না? আমি তাদের আরেকবার সুযোগ দিতে চাই। নির্দেশ অমান্যকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি এ দলের প্রতিষ্ঠাতা। তোমরা আমার সন্তানের মতো। বুকের রক্ত দিয়ে এই দল লালন করেছি। ফিরে এলে সব ভুল ক্ষমা করে বুকে টেনে নেবো।

জাপার যারা সরকারের মন্ত্রিত্ব নিয়েছেন, তাদের উদ্দেশে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, গর্ব করে বলি না, আমি যেখানে আছি, সেখানেই জাপা থাকবে। আমি না থাকলে থাকার কোনো প্রশ্নই নেই। সামান্য মোহ বা পদের কারণে এই বন্ধন ছিন্ন করা যাবে না। কর্মীদের বলবো, কাদের নেতৃত্ব আছে, কাদের নেই তা তোমরা দেখছো।

তিনি বলেন, জাপা আরো শক্তিশালী হবে। আগামী নির্বাচনে আমরা অংশ নেবো। যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দেবে, তখন জাপা নির্বাচন করবে। মেঘ কেটে যাবে, আমরা রাস্তায় নামবো, ভোটারদের কাছে যাব। ইনশাল্লাহ আগামী নির্বাচনে আমরা জিতব। শুরুতে এরশাদ বলেন, বহুদিন রাজনীতির বাইরে ছিলাম। বিশেষ কারণে তোমাদের সামনে আসতে পারিনি। তাই, আজকে ডেকেছি। তোমরা আমার সঙ্গে আছ কিনা। এসেছো দেখে খুশি হলাম।

এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে জাপা মহাসচিব মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। জাপা টিকে থাকবে। জাপাই আগামীতে ক্ষমতায় যাবে। এরশাদের উদ্দেশে তিনি বলেন ‘আপনি বেইমানদের ক্ষমা করলেও আমরা কিন্তু মনে রাখবো। আর কিছু না পারি তাদের অন্তত অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবো।’

এরশাদ জেলা কমিটিকে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন। তিনি নিজেও ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে সাংগঠনিক সফরে যাবেন বলে জানান।

তাজুল ইসলামকে দপ্তর থেকে সরিয়ে দিলেন এরশাদ

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে দলের দপ্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন এরশাদ। আজ তাকে সরিয়ে সুলতান মাহমুদকে দপ্তরের দায়িত্ব দেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here