এরশাদকে বিদেশে পাঠানোর খবর নিয়ে ধোঁয়াশা

12

Ershad
সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ‘চিকিৎসাধীন’ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও তাঁর তিন সঙ্গীর পাসপোর্ট এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। তাঁকে যেকোনো সময় বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অবশ্য কখন পাঠানো হবে, তা নির্ভর করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে এরশাদকে আদৌ বিদেশে পাঠানো হচ্ছে কি না, আর পাঠালেও কখন, কোন দিন হতে পারে, তা নিয়ে জাপার দায়িত্বশীল নেতারা খোলাখুলি কিছু বলছেন না।

এরশাদের একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালেদ বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুনেছি স্যারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠনো হবে। তবে যেটুকু জানি, তাঁকে আজ বুধবার পাঠানো হচ্ছে না।’

জাপার আরেকটি সূত্রের দাবি, এরশাদকে এখনই বিদেশে পাঠানোর পক্ষে নন তাঁর স্ত্রী রওশন। তিনি চাচ্ছেন, জাপা চেয়ারম্যানকে আপাতত দেশেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হোক। এ কারণে এরশাদকে বাইরে পাঠানোর বিষয়টি আপাতত থেমে আছে। সূত্রটি জানায়, জাপা চেয়ারম্যানকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতামতের ওপর নির্ভর করছে। এ জন্য এরশাদ, ছেলে এরিক, একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালেদ ও ব্যক্তিগত কর্মচারী ওহাবের পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ আজ রওশন এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রওশনের বাসায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘এইচ এম এরশাদ এখনই বিদেশে যাচ্ছেন না। তিনি দেশেই চিকিৎসা নেবেন। ম্যাডামের (রওশন) সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে স্যার (এরশাদ) বিদেশে যাবেন না।’ এক প্রশ্নের জবাবে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘পদ্মা-যমুনার মাঝে যেমন বাঁধ দেওয়া যাবে না, তেমনি এরশাদ ও রওশনের সম্পর্কের মাঝেও বাঁধ দেওয়া যাবে না।’ এরশাদের ‘মুক্তি’ দাবিতে নতুন কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ও প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের ভালো বলতে পারবেন।’

এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যেকোনো সময় সিঙ্গাপুরে নেওয়া হতে পারে-এমন খবর কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার র্যাবের পাহারায় তাঁকে সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই থেকে তিনি সেখানেই আছেন। তবে সাধারণ নেতা-কর্মীদের দাবি, জাপা চেয়ারম্যানকে চিকিত্সার নামে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর মুক্তি দাবিতে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।

এরশাদ-জি এম কাদের বৈঠক : সিএমএইচে আজ এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জি এম কাদের। দুই ভাইয়ের মধ্যে সকাল ১১টা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী একানে্ত বৈঠক হয়। এ ব্যাপারে জানতে জি এম কাদেরের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী জানান, তিনি তাঁর ভাইকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। জি এম কাদের কারো ফোন রিসিভ করছেন না বলেও জানান তিনি। তবে জাপার একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের পরবর্তী করণীয় নিয়ে জি এম কাদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এরশাদ।

জানা গেছে, রওশন এরশাদ গত ১৬ ডিসেম্বর এরশাদের সঙ্গে দেখা করতে গণভবন থেকে সরাসরি হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকেই এরশাদকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার খবর আলোচনায় আসে।

সরকারপন্থীরা অন্তরালে, বহিষ্কারের গুজব : সরকারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিস উদ্দিন মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, মুজিবুল হক চুন্নুসহ অনেক নেতা পর্দার আড়ালে চলে গেছেন। এরশাদ সিএমএইচে ভর্তি হওয়ার পর এসব নেতাকে রওশনের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা গেলেও আজ সারা দিনে তাঁরা রওশনের বাসা বা জাপার কোনো কার্যালয়ে যাননি। এমনই পরিস্থিতিতে খবর রটেছে, এরশাদ উল্লিখিত তিনজনসহ পাঁচ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। তবে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, এরশাদকে দেখতে বা কথা বলতে তাঁদের কেউই এ পর্যন্ত সিএমএইচে যাননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here