এডিপি বরাদ্দ বাড়িয়ে দুই মন্ত্রীর দ্বন্দ্ব মেটালেন প্রধানমন্ত্রী

12

pmসংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মধ্যে এক মাস ধরে চলতে থাকা দ্বন্দ্ব ও টানাপড়েনের অবসান হলো। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ ক্ষমতাবলে সংশোধিত এডিপির আকার নির্ধারণ করে দেন। এতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া ৫৫ হাজার কোটি টাকার সঙ্গে আরো পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাঁচ হাজার কোটি টাকা পুরোপুরি সরকারি কোষাগার থেকেই জোগান দেওয়া হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী যে অবস্থানে অনড় ছিলেন, এর ফলে তাই বরাদ্দ পাওয়া গেল।

৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় হবে ৩৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাকি ২১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বৈদেশিক সাহায্য থেকে মেটানো হবে। এদিকে আইএমইডির হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৮ শতাংশ। এ সময় মোট ২৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সে হিসাবে শতভাগ অর্থ খরচ করতে হলে আগামী তিন মাসে খরচ করতে হবে ৩৪ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা।

জানা গেছে, গতকালের এনইসি সভার শুরুতেই পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বৈঠকে আমি কোনো কথা বলব না। তবে এতটুকু বলব যে অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী তিন মাসের জন্য সংশোধিত এডিপিতে যে ৫৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, তা দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’ শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন করতে চাইলে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রীরা তাঁর কাছে ৬২ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ একটি কারণে আজকের বৈঠকে আমি আসতে চাইনি। পরে চিন্তা করেছি, আমার বৈঠকে উপস্থিত হওয়া উচিত। কিছু কথা বলা উচিত।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীদের বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। কিন্তু এ

বছর রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় বরাদ্দ কম দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা মেনে নেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

এরপরই মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁদের মন্ত্রণালয়ে বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবি জানাতে শুরু করেন। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঈদের সময় সবাই নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে চায়। রাস্তা খারাপ থাকলে যোগাযোগমন্ত্রীর সমালোচনা হয়। আমি সেই সমালোচনা শুনতে চাই না।’ রাস্তাঘাট সংস্কারে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, টাকা না পেলে কাজ করা যাবে না। আর কাজ না হলে মানুষও নিরাপদে বাড়ি যেতে পারবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলোতে কর্মরতদের বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা অপ্রতুল। একইভাবে নৌপরিবহনমন্ত্র্রী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ অনেকেই তাঁদের মন্ত্রণালয়ে বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান। সবার মতামত শোনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মন্ত্রীরা যেসব দাবি জানিয়েছেন তা যৌক্তিক। তাই সবার কথা বিবেচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া ৫৫ হাজার কোটি টাকার সঙ্গে আরো পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে দিলাম।’ এ সময় অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা কত, সেই আলোকে এই অর্থ বরাদ্দ দেবেন। তবে যেসব প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে, সেসব প্রকল্পে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত ওই সব প্রকল্প শেষ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমার যা হয়েছে, তা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আমি এ ব্যাপারে কথা বলব না। উনি আমাদের মুরবি্ব। …এখন থেকে কথা বলার সময় আমি সাবধান থাকব।’ প্রতিটি প্রকল্প মূল্যায়ন করে চাহিদা মোতাবেক বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও পরিকল্পনামন্ত্রী জানান।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গতকালের বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া ৫৫ হাজার কোটি টাকার বাইরে আরো সাত হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন মন্ত্রীরা। এর মধ্যে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠানের জন্য দুই হাজার ৩৮ কোটি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৭৩৩ কোটি, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪৩৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিবহন খাতের জন্য ৯১৭ কোটি, কৃষিতে ৩০৫ কোটি, শিক্ষা খাতে এক হাজার ১৫০ কোটি, স্বাস্থ্য খাতে ৭২ কোটি এবং ভৌত খাতে ১১০ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন মন্ত্রীরা। কিন্তু ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেন প্রধানমন্ত্রী। কোন মন্ত্রণালয়ের জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে শিগগিরই অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ নিয়ে বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here