এগিয়ে আওয়ামী লীগ

15

al

তৃতীয়, চতুর্থ ধাপের মতো পঞ্চম ধাপের উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বেশি বিজয়ী হয়েছেন। এই ধাপেও বিএনপি-জামায়াত জোটকে টপকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে তারা। যদিও বিএনপিসহ অন্যান্য দল সমর্থিত ও স্বতন্ত্র ৬০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট চলাকালেই বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। আর বিএনপি ২৩টি উপজেলায় নির্বাচন বর্জন করে হরতালের আহবান করেছে। ৭৩টি উপজেলার মধ্যে গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ৫৩টি উপজেলার ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৩৮ জন, বিএনপি সমর্থিত ১১ জন, জামায়াত সমর্থিত ২ জন এবং অন্য ২ জন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহীরাও বিজয়ী হয়েছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে গতকাল পর্যন্ত পাঁচটি ধাপে ৪৫৮টি উপজেলার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ ধাপের তিনটি উপজেলার ফলাফল স্থগিত রয়েছে। আগামী ৩ মে আরো ২১টি উপজেলার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। এ পর্যন্ত ৪৩৫টি উপজেলায় আওয়ামী লীগ ২১৬, বিএনপি ১৬০টি, জামায়াতে ইসলামী ৩৪টি এবং অন্যান্য ২৫ জন বিজয়ী হয়েছেন।

এর আগে চার ধাপে ৩৮৫ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ৩৮২টির ফল ঘোষিত হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৭৮, বিএনপি সমর্থিত ১৪৯ এবং জামায়াতে ইসলামী ৩২ জন এবং অন্যান্য ২৩ জন বিজয়ী হয়েছেন। প্রথম ধাপে ৬৫ কেন্দ্র, দ্বিতীয় ধাপে ১০০ কেন্দ্র, তৃতীয় ধাপে ২০০ কেন্দ্র এবং চতুর্থ ধাপে চার শতাধিক কেন্দ্র দখল ও অনিয়মের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় ১২ জন মারা গেছে। গত ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের ৯১টি উপজেলার মধ্যে ৮৮টির ফলাফলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৫৫ জন, বিএনপি সমর্থিত ২৪ জন, জামায়াত সমর্থিত ৫ জন এবং অন্য ৪ জন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহীরাও বিজয়ী হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের বিজয়ী ৩৮ জন

পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ীরা হলেন ১. বরগুনার সদর উপজেলায় মো. আব্বাস হোসেন মন্টু ২. আমতলীতে জিএম দেলোয়ার হোসেন ৩. বামনায় সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা ৪. পাথরঘাটায় রফিকুল ইসলাম রিপন ৫. মৌলভীবাজারের জুড়িতে এম এ মোমিত আশুক ৬. রাজনগরে আসকির খান ৭. নোয়াখালীর সুবর্ণচরে খায়রুল আলম সেলিম ৮. হাতিয়ায় মাহবুব মোরশেদ ৯. কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রফিকুল ইসলাম রেনু (বিদ্রোহী) ১০. অষ্টগ্রামে শহীদুল ইসলাম জেমস ১১. ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আশরাফ উদ্দীন বাদল ১২. ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মেজবাহুল হায়দার ১৩. রাঙামাটির রাজস্থলীতে উথিন সিন মারমা ১৪. পাবনা সদরে মোশাররফ হোসেন ১৫. বেড়ায় আব্দুল কাদের ১৬. কক্সবাজারের টেকনাফে জাফর আহমেদ ১৭. সাতক্ষীরার সদরে আসাদুজ্জামান বাবু, ১৮.দেবহাটায় আবদুল গণি ১৯. তালায় সনত্ কুমার ২০. চুয়াডাঙ্গা সদরে আসাদুল হক বিশ্বাস ২১. আলমডাঙ্গায় মো. হেলালউদ্দিন ২২. রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল ইসলাম ২৩. জামালপুরের মাদারগঞ্জে ওবায়দুর রহমান ২৪. গাইবান্ধার ফুলছড়িতে হাবিবুর রহমান (বিদ্রোহী) ২৫. পটুয়াখালীর দশমিনায় সাখাওয়াত হোসেন (বিদ্রোহী) ২৬. টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ২৭. মির্জাপুরে মীর এনায়েত হোসেন ২৮. ঘাটাইলে মো. নজরুল ইসলাম খান শামু ২৯. মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহেদ ৩০. লৌহজংয়ে ওসমান গণি তালুকদার ৩১. সিরাজদিখানে মহিউদ্দিন আহমেদ ৩২. চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মো. শাহজাহান খান ৩৩. নরসিংদীর মনোহরদী সাইফুল ইসলাম খান বিরু ৩৪. সিরাজগঞ্জের বেলকুচি মোহাম্মদ আলী ৩৫. শাহজাদপুরে আজাদ রহমান ৩৬. কুমিল্লার চান্দিনায় তপন বকশী ৩৭. গাজীপুরের কালিগঞ্জে মোয়াজ্জেম হোসেন ৩৮. নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে শাহজালাল মিয়া।

বিএনপির বিজয়ী ১১ জন

বিএনপির বিজয়ীরা হলেন ১. কক্সবাজার সদরে আব্দুল মাবুদ ২. উখিয়ায় সরোয়ার জাহান চৌধুরী ৩. রাঙামাটির লংগদুতে তোফাজ্জল হোসেন ৪. ময়মনসিংহের ত্রিশালে জয়নুল আবেদিন ৫. সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে হারুন উর রশিদ ৬. তাহিরপুরে কামরুজ্জামান কামরুল (বিদ্রোহী) ৭. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে আবু আসিফ আহমেদ ৮. দিনাজপুরের বিরলে আ ন ম বজলুর রশিদ কালু ৯. হাকিমপুরে আব্বাস হোসেন মন্ডল ১০. পার্বতীপুরে মো. আমিনুল ইসলাম ১১. বগুড়া সদরে আলী আসগর তালুকদার হেনা।

জামায়াতের বিজয়ী ২ জন

জামায়াতের বিজয়ীরা হলেন ১. গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাজেদুর রহমান ২. রাজশাহীর পবায় মকবুল হোসেন।

অন্যান্য বিজয়ী ২ জন

অন্যান্যর মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন ১. খাগড়াছড়ির দিঘিনালায় ইউপিডিএফের অমল চাকমা ২. রাঙামাটির বিলাইছড়িতে জনসংহতি সমিতির শুভ মঙ্গল চাকমা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here