উপনির্বাচনে বাধা কাটল, কাদের সিদ্দিকীর রিট আবেদন খারিজ

10
J News
উপনির্বাচনে বাধা কাটল, কাদের সিদ্দিকীর রিট আবেদন খারিজ

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের আর কোনো বাধা নেই। তবে ওই নির্বাচনে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী অংশ নিতে পারবেন না। মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কাদের সিদ্দিকীর রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আইন মোতাবেক নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১২৫ অনুচ্ছেদ অনুয়ায়ি নির্বাচন শুরু হওয়ার পর (তফশিল-ফলাফল পর্যন্ত) নির্বাচন কমিশনের পুনঃসিন্ধান্তের ওপর হাইকোর্টে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না। তবে কোনো প্রতিকার পেতে প্রার্থীকে নির্বাচনী ট্রাইবুনাল যেতে হবে। একই সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর মনোয়নপত্র বাতিলের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না?

আদালতে কাদের সিদ্দিকীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন ড. মো. ইয়াছিন।

টাঙ্গাইল-৪ আসনে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী।  গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়।

এরপর গত বছরের ১০ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৪ আসনে উপ-নির্বাচনের দিন ধার্য করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

অন্যদলের পাশাপাশি এতে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে কাদের সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

কিন্তু ঋণখেলাপের অভিযোগে গত বছরের ১৩ অক্টোবর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর ১৬ অক্টোবর ‍এ দুই নেতা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল আবেদন করেন।

১৮ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন কাদের সিদ্দিকীর আপিল খারিজ করে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের চূড়ান্ত রায় দেন।

এরপর নির্বাচন কমিশনের বাতিল আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন কাদের সিদ্দিকী।

এ রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ২১ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত ও কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে আদেশ দেন বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আদেশের বিষয়ে রুল জারি এবং রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করেন আদালত।

পরে ২৬ অক্টোবর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন জানান ইসির অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড ব্যারিস্টার ড. মো. ইয়াসিন খান।

পরদিন ২৭ অক্টোবর আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালত টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপ-নির্বাচনই স্থগিত করে দেন। একইসঙ্গে ইসি’র আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়ে ২ নভেম্বর এর শুনানির দিন ধার্য করে দেন।

২ নভেম্বর চেম্বার বিচারপতির দেয়া উপ-নির্বাচনের ওই স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত উপ-নির্বাচন স্থগিত রেখে এর মধ্যে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের জারি করা রুল বিচারপতি মো.আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চে নিষ্পত্তির আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here