উপজেলা নির্বাচন :কোথাও শান্তিপূর্ণ কোথাও সংঘাত

34

upপ্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত ৯৭টি উপজেলা নির্বাচনে কোথাও শান্তিপূর্ণ কোথাও সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হলেও অনেক স্থানে ব্যালট পেপার ছিনতাই, কেন্দ্র দখল হয়েছে।

ব্যালট পেপার ছিনতাই ঠেকাতে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে গুলি করতে হয়েছে। বরিশালের গৌরনদীতে, ঝিনাইদহের শৈলকোপায় ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের কারণে কয়েকটি কেন্দ্রে উল্লাপাড়ায় ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ২টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রয়েছে। নড়াইলে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মাগুরার শ্রীপুরে জাল ভোট দেয়ার অপরাধে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের জেল দেয়া হয় । সাতক্ষীরায় ভোট শুরুর আগেই ২০ জন প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়।

এছাড়া কেন্দ্র দখল এবং প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ এনে ২০টির মত উপজেলায় প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে গৌরনদী, বাকেরগঞ্জে ভোটগ্রহণের ২ ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির সমর্থক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেন। পাবনার সুজানগরেও ভোট বর্জন করে বিএনপির প্রার্থীরা। কিশোরগঞ্জে ১টি কেন্দ্রে হামলায় এসআই আহত হয়েছে। প্রতিনিধিদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, কালিয়া, লালমোহন, সরিষাবাড়ি, ভেড়ামারা, কেন্দুয়া, কাহারুল, ডিমলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট, শেরপুর, নন্দীগ্রাম, ধুপচাঁচিয়া, নাচোল, রাণীনগর, মহাদেবপুর, মোহনপুর, শ্রীপুর, দীঘলিয়া, কয়রা, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা ও সিলেটের ১২টি উপজেলার মধ্যে ১১টি এবং পঞ্চগড়ের ৪টিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গৌরনদী, শৈলকুপা, সরিষাবাড়ী, বিশ্বনাথ, সোনাতলা, কেন্দুয়া, উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সারাদেশে প্রথম ধাপে ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে গতকাল ৯৭টি উপজেলার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদে ছিল উত্সবের আমেজ। এই ভোট উত্সবের মধ্যেই বেশকিছু স্থানে সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশন উপজেলাগুলোতে স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরে সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড মোতায়েন করে।

এবার ৯৭টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ২৫৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৪২৯ জন। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা ৫০৫ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা ৩২৩ জন। মোট ভোটার ছিল ১ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজারের মতো। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৬ হাজার ৮৮৯টি, ভোটকক্ষ প্রায় ৪৩ হাজার। প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোট কেন্দ্রে একজন করে ৬ হাজার ৯৯৫

জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকক্ষের জন্য একজন করে মোট ৪৩ হাজার ২৯০ জন এবং ৮৬ হাজার ৫৮০ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেন।

গত ১৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন প্রথম ধাপের ১০২টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করলেও গতকাল বুধবার ভোট হয় ৪০ জেলার ৯৭টি উপজেলায়। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণে রংপুরের চারটি উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এগুলো হলো- রংপুর সদর, কাউনিয়া, গঙ্গাচরা ও পীরগাছা। এ ধাপের পীরগঞ্জ উপজেলার ভোট হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি।

গৌরনদীতে ব্যালট পেপার ছিনতাই

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, কারচুপিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সমর্থিত প্রার্থী ভোট শুরুর ২ ঘণ্টার মাথায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কারণে সরিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার অসিম কান্তি বিশ্বাস ও দায়িত্বরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাসির উদ্দিনকে ক্লোজ করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই চেষ্টার সময় সরকার দলীয় চার জন সমর্থক ও নির্বাচনী আচারণ বিধি লংঘনের অভিযোগে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস.এম পারভেজ এবং আওয়ামী লীগের ৫ কর্মীকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বুধবার বিকালে পুনঃনির্বাচনের

দাবিতে নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপির ৫ প্রার্থী সহকারী রির্টানিং অফিসারের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শাহে আলম খান বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন।

সকাল ১০ টায় গৌরনদী প্রেসক্লাব চত্বরে বিএনপির উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হোসেন মিয়া, বিদ্রোহী প্রাথী লোকমান হোসেন খান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান শ্যামল খলিফা, বিদ্রোহী প্রার্থী জহির সাজ্জাত হান্নান শরীফ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী তাছলিমা বেগম ও জাতীয় পাটির্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আবু হানিফ খলিফা ,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী কুলসুম বেগম পৃথক সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ক্যাডাররা মঙ্গলবার রাতে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হোসেন মিয়ার মাইক্রোবাস ভাংচুর করে এবং ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এসময় টরকী বন্দর এলাকায় গৌরনদী পৌর তরুণ দলের আহবায়ক অলিল মাল, আলম রাড়ী ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মনিরুজ্জামান স্বপন, ইঙ্গুল ঘরামী, দিয়াশুর গ্রামের আব্দুর রব আকনের ডান হাত ভেঙ্গে দেয় এবং তার পুত্র টিপু আকনকে পিটিয়ে আহত করে। তারা বিভিন্ন কেন্দ্রে মনোনীত এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। এ ছাড়া ভোটারদের ব্যালট ছিনিয়ে নেয়াসহ ভোট কারচুপি বিএনপির সমর্থিত ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদান করে।

বাকেরগঞ্জে হরতাল

ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগে বরিশালের বাকেরগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম আতিকুর রহমান, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী খলিলুর রহমান সিকদার ও বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী মশিউর রহমানসহ বিএনপি দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছে। ভোট কারচুপির অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা উপজেলায় হরতাল আহবান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ২টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী খলিলুর রহমান সিকদার নির্বাচন বর্জন করে এ ঘোষণা দেন।

তার আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম আতিকুর রহমান। তিনি বেলা ১২টায় দলের সমর্থিত প্রার্থী সামসুল আলম চুন্নু’র বিরুদ্ধে ভোট কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেয়া, জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ করেন।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে জাতীয় পার্টি (জাপা) দলীয় সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনা এবং আওয়ামী লীগ দলীয় পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার উপস্থিতিতে শাসক দলের ক্যাডার বাহিনী তাদের দলীয় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রতীকে জালভোট প্রদান করতে থাকে। প্রিজাইডিং অফিসারসহ সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট অভিযোগ দিলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। ভোট কারচুপির প্রতিবাদে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা দেয়ার পর উপজেলার গারুড়িয়া, কলসকাঠী, ফরিদপুর, দাঁড়িয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক কেন্দ্র স্থগিত, প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহ শৈলকুপা ও সদর উপজেলা বাদে জেলার অপর দু’টি কালিগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার গান্না, রঘুনাথপুর ও মামুনশিয়া ভোটকেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ১৩ জন আহত হয়েছে। বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল আলিমের পোলিং এজেন্ট মিলনকে পুলিশ ভোটকেন্দ্র থেকে গ্রেফতার করে।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মথুরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহিলা ভাইস চেয়ারমান প্রার্থী আফরোজা নাসরিন লিপির সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। বিএনপি সমর্থকরা বাধা দিলে তাদের সাথে সংঘর্ষ হয়। শৈলকুপা থানার ওসি মনিরুজ্জামান মিয়া জানান, প্রায় দুইশ লোক ভোট কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। তারা দুটি বুথ থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পুলিশ ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচন স্থগিত করেন।

এদিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রাকিবুল হাসান দীপু নির্বাচনে কারচুপি, তার পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া ও তার সমর্থক ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করার অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। আজ বৃহস্পতিবার শৈলকুপায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন তিনি। এদিকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মঙ্গলবার রাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানার ওসি আনোয়ার হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি সরকারি দল সমর্থক উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করতে পারেন এমন অভিযোগ করা হয়েছিল। রাতেই মোঃ মনিরুজ্জামানকে নতুন ওসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বগুড়ায় ৫ কেন্দ্রের ব্যালট ছিনতাই

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার সোনাতলায় উপজেলা নির্বাচন চলাকালে কয়েকটি কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও বিতণ্ডা হয়েছে। ৫টি কেন্দ্রে বেশকিছু ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়েছে। উপজেলার নওদাবগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষ চলাকালে এক পোলিং অফিসার ও সুখানপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক নারীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। ওই ঘটনার পর থেকে সুখানপুকুর কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলার দুটি কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। উপজেলার ৪টি ভোট কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে।

সোনাতলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে থানা বিএনপির সভাপতি আহসানুল তৈয়ব জাকির (মোটরসাইকেল) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল করিম শ্যাম্পু (আনারস) চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সেখানে ভোট হয়েছে দলীয় আমেজেই।

সকাল ১১টার দিকে দিগদাইর ইউনিয়নে সুখানপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করা নিয়ে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ভোটকক্ষ (বুথ) দখলের চেষ্টা করেন। সংঘর্ষ চলাকালে সেখানে দুই যুবলীগ কর্মী, এক নারী ভোটার ও এক বিএনপি কর্মী আহত হন। পরে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার প্রভাষক মাহবুবুল আলম ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেন। একই সময় পার্শ্ববর্তী নওদাবগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘর্ষ চলাকালে আব্দুর রশিদ নামে এক পোলিং অফিসার আহত হন।

সকাল ১০টার দিকে আটকরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হট্টগোল শুরু হলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। বেলা দেড়টার দিকে ওই কেন্দ্র থেকে দুটি ব্যালটবাক্স ছিনতাই হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে চাড়ালকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সরকার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় পুলিশ ১০ রাউণ্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।

চরপাড়া কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর পর পরই বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ কারণে প্রায় ১ ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। সোনাকানিয়া-গুড়াডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকক্ষের (বুথ) মধ্যে দুই প্রার্থীর এজেন্টের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ কারণে সেখানেও বেশকিছু সময় ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়।

এনায়েত আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে সকাল ১০টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পাকুল¬া ইউনিয়নের পাকুল¬া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেলা সোয়া ১১টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকে। সেখানে উভয়পক্ষের লোকজন বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং বেশকিছু ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এছাড়া বয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে দেড় ঘণ্টা, আচারের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাড়ে ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। সোনাতলা উপজেলায় কিছু বিছিন্ন ঘটনা ঘটলেও বাকি ৫টি উপজেলা-সারিয়াকান্দি, ধুনট, শেরপুর, নন্দীগ্রাম ও দুপচাঁচিয়ায় উত্সবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে ।

উল্লাপাড়ায় ভোটকেন্দ্রে আগুন

উল্লাপাড়া প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১২১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখতে হয়েছে। ১টি কেন্দ্র থেকে রিভলবারসহ ১ যুবককে আটক করে বিজিবি। স্থগিত কেন্দ্র দুটি হল, নলসোন্দা উচ্চ বিদ্যালয় ও উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজ। দুপুর ১২টার দিকে ভোট গ্রহণ কেন্দ্র চত্বরে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের দুই দলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ভোট কেন্দ্রের এনক্লোজার ভেঙ্গে ফেলা হয়। এক পর্যায়ে কিছু উচ্ছৃংখল লোক ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে ৫টি ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে মাঠের মধ্যে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। উল্লাপাড়া সরকারি আকবর কলেজ কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এক দল লোক ঢুকে ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। ফলে ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। এদিকে এসএ টিভি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি রহমত হোসেন অভিযোগ করেন, সরকারি আকবর আলী কলেজ কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় তিনি ছবি তুলতে গেলে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর এক কর্মী তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপির এ্যাডঃ সামছুল আলম ও জামায়াতের এ্যাডঃ জাহিদ হোসেন মিন্টু অভিযোগ করেছেন, সোনাতলা স্কুল কেন্দ্র, কানসোনা প্রাথমিক স্কুল কেন্দ্র, সরকারি আকবর আলী কলেজ কেন্দ্র, উল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, খাদুলী প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্র, চরতারাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ অন্ততঃ ১০টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকরা ঢুকে ভোট কেটে নেয়। উপজেলার নলসন্ধ্যা ভোটকেন্দ্রে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

কেন্দুয়ায় ৪৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হলেও কেন্দুয়া উপজেলার তিনটি কেন্দে সংঘর্ষ, ভাংচুর এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনটি কেন্দ্রে পুলিশকে ৪৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে হয়। কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় দুপুরে মাসকা ইউনিয়নের পিজাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুল হক ভুঁইয়ার সমর্থকদের সাথে বিএনপি সমর্থিত দেলোয়ার হোসেন দুলালের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ ৪৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই সময় ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। ঘটনার অর্ধ-ঘণ্টা পর পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

গণ্ডা ইউনিয়নের কাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা পৌনে একটার সময় চেয়ারম্যান পদের আনারস প্রতীক (আওয়ামী লীগ) এবং দোয়াত কলম (বিএনপি) প্রতিকের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এর পরপরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

এই সময় কয়েক মিনিট ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। গণ্ডা ইউনিয়নের গণ্ডা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ৩টায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং এক পর্যায়ে ব্যালট বাক্স নিয়ে পলানোর সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। ব্যালট বাক্স উদ্ধার করে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। কেন্দুয়া সদরে সায়মা শাহজাহান কেন্দে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টকে ভোট কক্ষ থেকে মারধর করে বের করে দেবারও অভিযোগ করেছেন প্রার্থীর সমর্থক কয়েকজন।

পাবনায় ভোট বর্জন করে হরতালের ডাক

পাবনার সুজানগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজারী জাকির হোসেন চুন্নু কারচুপির অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দুপুর ১২টার দিকে নাজিরগঞ্জ বাজারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। কারচুপির ঘটনার প্রতিবাদে সুজানগর উপজেলা বিএনপি আজ বৃহস্পতিবার সুজানগরে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কাশেমের কর্মীরা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় উপজেলার সাতবাড়ীয়া, তাঁতীবন্দ, ভায়না, রানীনগর, হাটখালী এবং পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি ভোট কেন্দ্র থেকে তার দলীয় এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়াসহ তার নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভোট প্রদানে বাধা সৃষ্টি করেছে। পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থী সমর্থকদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ ্রথেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারচুপির অভিযোগ করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মাও: জহুরুল ইসলাম। সাথিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ২০ প্রিজাইডিং অফিসার প্রত্যাহার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্বরত ২০ প্রিজাইডিং অফিসারকে তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অনেকেই নির্বাচন সরঞ্জামাদি নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর তাদের প্রত্যাহারের খবর জানতে পারেন। ২০ জন প্রিজাইডিং অফিসারের অধিকাংশ স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক। হঠাত্ তাদের প্রত্যাহারের বিষয়টি জানতে পেরে বাধ্য হয়ে মালামাল অন্যের কাছে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তারা ফিরে আসেন।

লালমোহনে বিএনপির ৪ প্রার্থীর ভোট বর্জন

লালমোহন সংবাদদাতা জানান, কোন প্রকার সহিংসতা ছাড়াই গতকাল ভোলার একমাত্র লালমোহন উপজেলায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ১০টায় বিএনপি’র বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আকতারুজ্জামান টিটব (দোয়াত-কলম) ও বেলা ১২টায় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সফিকুল ইসলাম বাবুল (কাপ-পিরিচ), ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান (জাহাজ) এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভীন দুলাল (ফ্যান) ভোটকেন্দ্রে তাদের এজেন্ট বের করে দেয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা ও জালভোটের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। তারা হরতালের আহবান করে। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বেলা ২টায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ’র (আনারস) মুখপাত্র আলী রেজা মিয়া সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিদ্রোহী প্রার্থীগণ ভোট বর্জনের নাটক করেছেন।

বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া খুলনায় নির্বাচন সম্পন্ন

খুলনা অফিস জানায়, কিছু বিচ্ছিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া খুলনার দিঘলিয়া ও কয়রা উপজেলার নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনকালে ভোটারদের মাঝে উত্সবের আমেজ পরিলক্ষিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল নয়টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার ১৯ দলীয় জোট প্রার্থী সাইফুর রহমান মিন্টুর সমর্থকরা চন্দনীমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার স্লিপ দেয়া নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খান নজরুল ইসলামের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করে। এতে ৪ জন আহত হয়। এ খবর পেয়ে সাইফুর রহমান মিন্টু উক্ত কেন্দ্রে গেলে তিনিও প্রতিপক্ষের সমর্থকদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। কয়রা ১৯ দলীয় জোটপ্রার্থী মাওলানা আখম তমিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, সকালে গ্রাজুয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বেতকাশি দীঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেশ্বরীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহসিন রেজার সমর্থকরা তমিজউদ্দিনের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের ৮টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এসব নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মিরসরাইয়ে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হাটহাজারিতে দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিলো অনেক কম। চট্টগ্রামের বাইরে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির ৬ উপজেলায় উত্সবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, মানিকছড়ি, মহালছড়ি এবং রামগড় উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হয়।

অপ্রীতিকর ঘটনা

মিরসরাই সংবাদদাতা জানান, কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট প্রদানে ভোটারদের বাধা দেয়ার মুখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিলো। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ আতাউর রহমানের কর্মীরা উপজেলার কিছু কেন্দ্রে যেতে ভোটারদের বাধা দিয়েছে। এসময় তার সমর্থকদের হামলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের অন্তত ৩০ কর্মী আহত হয়। এদের মধ্যে দুই জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- আওলাদ হোসেন, জামশেদ হোসেন।

বিএনপির প্রার্থী নূরুল আমিন অভিযোগ করেন, বেশ কিছু কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন, সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তির সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন অন্তত বিশটি ভোট কেন্দ্র দখল করে জালভোট প্রদান করেছে। তিনি এসব কেন্দ্রে ভোট গণনা স্থগিত করে পুনঃনির্বাচনও দাবি করেন।

উপজেলার বামনসুন্দর ফকির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শেখ আতাউর রহমানের (হেলিকপ্টার) লোকজন ১০০ পাতা করে তিনটি ব্যালট বই নিয়ে জোরপূর্বক জাল ভোট দেয়। জাল ভোট দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রতন কুমার দে। তবে আতাউর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোন কেন্দ্র দখল হয়নি।

এদিকে হাটহাজারীর উত্তর মার্দাশা এলাকার নতুনহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান হাটহাজারী সংবাদদাতা। বিএনপি ও ১৯ দল সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুবুল আলম চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনিরের সমর্থকদের উপর আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাইল-এর সমর্থকদের উপর হামলা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে মুন্না, সাইফুল ও কফিলসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হয়। তবে এই ঘটনায় ভোট কেন্দ্রে কোন প্রভাব পড়েনি।

রংপুরে ২ জনকে কারাদণ্ড

রংপুরের মিঠাপুকুরের ইমাদপুরে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে গতকাল সকালে ২ জনকে ৩ দিনের কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো একদিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জেলার তিনটি উপজেলা- মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ ও পীরগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নাটোরে কেন্দ্র দখল, এজেন্ট মারধর

কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে জাল ভোট প্রদান ও মারপিটের অভিযোগের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হলো সিংড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। বেলা তিনটায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহেদুল ইসলাম ভোলা আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান শফিকুল ইসলাম শফির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।

মাগুরার শ্রীপুরে এক ব্যক্তির জেল

শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা জানান, শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আনারস প্রতীকে জাল ভোট দেয়ার অপরাধে বিকালে মোস্তাক মোল্যা নামে এক যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুইটি কেন্দ্রে বচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নড়াইলে প্রার্থীর ১০ হাজার টাকা জরিমানা

নড়াইল প্রতিনিধি জানান, নড়াইলের কালিয়া উপজেলা নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার টোনা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে এক প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র ্রকরে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। আচরণ বিধি লংঘনের দায়ে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ নওয়াবুল আলমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জামালপুরে আটক ৮ জন

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলা ও সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সরিষাবাড়ী উপজেলার সেঙ্গুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে হট্টগোল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৪ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন কেন্দ্রের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আনিছুর রহমান, রতন, শামীমা বেগম, হানিফ মিয়া ও সাবিনা বেগমসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম হোসেন গ্রেফতারকৃত আনিছুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

কিশোরগঞ্জে এসআই আহত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার নিকলী, করিমগঞ্জ ও বাজিতপুর উপজেলায় মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দুপুরের দিকে করিমগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ নানশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে জটলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জের ধরে হামলায় এসআই মনোরঞ্জন দত্ত আহত হন। র্যাব ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই সময় দৌড়াদৌড়ির কারণে এই কেন্দ্রে কিছুক্ষণের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।

নীলফামারিতে বিদ্রোহী প্রার্থী আটক, গুলি

নীলফামারি প্রতিনিধি জানান, নীলফামারির সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পৌর এলাকার একটি ভোট কেন্দ্রে হামলার চেষ্টাকালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিটলার চৌধুরী ভুলুকে আটক করেছে পুলিশ। বিকালে পৌর এলাকার গোলাহাট রেলওয়ে কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় হামলার চেষ্টাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছোঁড়ে পুলিশ।

ভোটকেন্দ্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি থাকায় ওই কেন্দ্রের বেশ কিছু ভোটার তাদের ভোট দিতে ব্যর্থ হন। এ সময় তারা ভোট কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে হৈচৈ করতে থাকেন। এর এক পর্যায়ে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিটলার চৌধুরী ভুলুর ইন্ধনে তারা ভোট কেন্দ্রে হামলার চেষ্টা চালান। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হিটলার চৌধুরী ভুলুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা ওই কেন্দ্রে গিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসেন। জেলার অন্য দুই উপজেলা- ডিমলা ও জলঢাকায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিলেট বিভাগের শান্তিপূর্ণ ভোট

সিলেট বিভাগের ১২ উপজেলার মধ্যে ১১টিতে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিশ্বনাথ উপজেলায় একটি ভোট কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ফিরোজ খান পঙ্খির সমর্থকরা ব্যালেট পেপার ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সিলেট অফিস ও বিশ্বনাথ সংবাদদাতা জানান, বিকেলে দেওকলস ইউনিয়নের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ৩৫৯টি ব্যালেট পেপার, ছিনিয়ে নিয়ে যায় মোটরসাইকেল সমর্থকরা। এ ঘটনায় প্রায় ১ ঘণ্টা ভোট কেন্দ্র বন্ধ ছিল।

এছাড়া দুটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২ জন আহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সিংগেরকাছ বাজারের করপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকরা এবং অলংকারি ইউনিয়নের পনাউল্ল¬াহ বাজারের বড়খুরমা গ্রামের ভোটকেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা নিজেদের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সুনামগঞ্জের তিনটি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার কোথাও নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

যশোরে বোমা, কেন্দ্র দখলের চেষ্টা

যশোর অফিস জানায়, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া যশোরের অভয়নগরে উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে রাজঘাট জাফরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সরকার দলীয় সমর্থকরা ৫-৬টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে কেন্দ্রটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক রাউন্ড রাইফেল ও এক রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে তারা পালিয়ে যায়। এঘটনার পর ৩০ মিনিট ওই কেন্দ্রে ্রভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। অপর দিকে বেলা দেড়টা থেকে ৩টা পর্যন্ত গাজীপুর রউফিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের বাইরে দুর্বৃত্তরা ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদান করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ছাড়া বিকাল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হলে উপজেলার বুইকারা আলহেলাল প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অদূরে মেজবাউর রহমান ডাব্লু বেগ (৪৫) ও আব্দুল আলী শাহিন (৪০) কে সরকার দলীয় সমর্থকরা মারধর করে।

নবাবগঞ্জে দু’টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় দু’একটা বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া ব্যাপক উত্সাহ উদ্দীপনায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নবাবগঞ্জের দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে প্রশাসন। বেলা ১২টার দিকে উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ দড়িকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০/৩০ জন লোক হামলা চালায়। এসময় প্রিজাইডিং অফিসার মো. চান মিয়া পুলিশের সহযোগিতায় ব্যালট বাক্স ও পেপার রক্ষা করেন।

বেলা ৩টার দিকে ৫/৭ জনের একটি দল মাঝিরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আবুল বাসারকে জিম্মি করে ৫শ ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ তা উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টানিং কর্মকর্তা মো. শাহ্ আলম কেন্দ্র দুটি স্থগিত ঘোষণা করেন এবং জেলা প্রশাসক শেখ ইউসূফ হারুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

নরসিংদীতে অস্ত্রধারী আটক

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর ডিবি পুলিশ পলাশ উপজেলার সেকান্দরদী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলিসহ এনামুল ও শরিফ নামে দুই অস্ত্রধারী যুবককে গ্রেফতার করেছে। এরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত পলাশ উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সৈয়দ জাবেদ হোসেনের কর্মী বলে জানা গেছে। এদিকে গতকাল নরসিংদীর পলাশ ও বেলাব উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

কাপাসিয়ায় সিল মারার অভিযোগ

কাপাসিয়া সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও সিল মারা, জাল ভোট প্রদান করার ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ভোট গ্রহণ।

উপজেলার ১১৭ টি কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ১৪ টি কেন্দ্রে সরকার সমর্থক প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপার ছিনতাই করে সিল মারার অভিযোগ করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টরা। বেলা ১২ টার দিকে সরকার সমর্থক প্রার্থীর নিজ কেন্দ্র খোদ াদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কতিপয় ব্যক্তি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সরকার সমর্থক প্রার্থীর পক্ষে সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ফেলে। এসময় কেন্দ্রে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। একারণে কিছুক্ষণ ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এ সময় একজন পোলিং অফিসারের পকেট থেকে ছেড়া ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়।

গাইবান্ধায় পেপার ছিনতাই

জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দু-একটি বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আজিমুদ্দিন জানান, ২০০ ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারার চেষ্টা করলে তা বাতিল করা হয়েছে। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯২৭।

পঞ্চগড় জেলার ৪টি উপজেলায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারী, বোদা ও দেবীগঞ্জে। এছাড়া দিনাজপুর জেলার কাহারোল, খানসামা, রাজশাহীর মোহনপুর, রংপুর জেলার মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ, পীরগঞ্জ কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর, ফুলবাড়ী ও ভুরুংগামারী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল, নওগাঁর রানীনগর, মহাদেবপুর, কুষ্টিয়া সদর ও ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন উত্সবমুখর ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here