উনি নাটক করলেন, বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না। সংবাদ সম্মেলন, আশরাফের

12

-Ashraf

কর্মসূচিতে যাওয়া নিয়ে বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া নাটক করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘উনি সেজে আসলেন।এটা কি কর্মসূচিতে যাওয়ার পোশাক হতে পারে।আমরা তাঁর কথায় মনোরঞ্জিত হয়েছি।উনার কোনো ইচ্ছা ছিল না বাইরে যাওয়ার।’

আজ রোববার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সৈয়দ আশরাফ।

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার গুলশানের বাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা, পুলিশের বাধা ও বাড়িতে ফেরত যাওয়া প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘হঠাত্ করে তিনি দুপুরে বের হলেন।দেখে মনে হলো যেন পার্টিতে যাচ্ছেন।ক্যামেরায় পোজ দিলেন।পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করলেন।কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা দেখা না করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বললেন।এটা কোনো বিরোধী দলের নেতার কথা হতে পারে?’

বিএনপির ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ কর্মসূচি ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘গত কয়েক দিন যাবত্ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গণতন্ত্রের জন্য মার্চ এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছিল, যেন কিয়ামত হয়ে যাবে।কই কিছু তো হলো না।শুধু কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে।খালেদা জিয়ার কর্মসূচি ড্যামসকুইক (Damsquick) হয়ে গেছে।অর্থাত্ বেলুন থেকে বাতাস বের হলে যেমন হয়।হয় আওয়াজ হয়, নয়তো ফুস করে ফেটে যায়।খালেদার কর্মসূচিও তেমনি ফুস হয়ে গেছে।এ কর্মসূচিতে মানুষের আত্মিক কোনো সম্পর্ক নেই।মানুষের জানমালের ক্ষতি করে কেউ দাবি আদায় করতে পারবে না।’

হাইকোর্টে কর্মসূচিতে আইনজীবী ছিল না

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আজ হাইকোর্টে একটা ঘটনা ঘটেছে।কিন্তু সেখানে কোনো আইনজীবী ছিল না।সেখানে ছিল বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং শিবিরের ক্যাডাররা।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, উপদেষ্টা ওসমান ফারুক ছিলেন।তাঁরা কেউ আইনজীবী ছিলেন না।শীতকালীন ছুটিতে মাত্র দুটি কি তিনটি বেঞ্চ চালু রয়েছে।সেখানে এত আইনজীবী কোথা থেকে এল।আসলে বিএনপি সব সময় নিজেদের প্রেজেন্সকে (উপস্থিতি) লুকানোর চেষ্টা চালায়।’

মার্চকে অবমাননা না করার আহ্বান জানিয়ে আশরাফ বলেন, ‘মাও সে তুং থেকে লংমার্চ কিংবা মার্চ এসেছে।অথচ সামান্য কাজে খালেদা জিয়া এই লংমার্চকে ব্যবহার করছেন।১১ বছর এসব কর্মসূচি চালিয়ে খালেদার দাবি আদায় সম্ভব নয়।’ ‘ক্যান্টনমেন্টে জন্ম হওয়া দল গণতন্ত্র শেখাতে পারে না’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচারপতিরা সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে সহিংসতা বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।

বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা

গতকাল এক আলোচনা সভায় বুদ্ধিজীবীরা ৫ জানুয়ারি নির্বাচন স্থগিতের আহ্বান জানানোর কঠোর সমালোচনা করে আশরাফ বলেন, ‘তথাকথিত নির্দলীয় সভায় শমসের মবিন, মাহবুবুর রহমান থাকলেও আওয়ামী লীগের কাউকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়নি।এতেই বোঝা যায় তাঁরা কতটুকু নিরপেক্ষ।তারা এক-এগারোর মতো আরেকটি অবৈধ সরকার আনতে চেয়েছিলেন।বিএনপির দ্বারা এই আলোচনা সভা করা হয়েছিল।

খালেদার অনুরোধে নিরাপত্তা জোরদার

খালেদা জিয়ার ইচ্ছায় তাঁর বাসায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে দাবি করে আশরাফ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বাসায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।সরকারের কাছে সমাবেশের কোনো আবেদন বিএনপি করেনি বলে দাবি করেন আশরাফ।যদিও ডিএমপি কমিশনারের কাছে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চায় দলটি।’

ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছুই নয়

আশরাফ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কর্মসূচি নিয়ে আমরা আতঙ্কিত নই।তাদের চোরাগোপ্তা হামলা ছাড়া কিছুই করতে পারেনি।এই কর্মসূচি ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছুই নয়।আমাদের কর্মসূচি থাকে সঠিক।আমরা পরাজিত হয়ে ফিরে যাইনি।’

সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘মানুষ মনে করে বিরোধীদলীয় নেতা সিরিয়াস কিছু বলবেন।তাঁর অশ্লীল বক্তব্য নতুন প্রজন্মের জন্য হুমকি।’ এক প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, ‘যতদিন খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা আছেন, ততদিন তার প্রটোকল প্রত্যাহার সম্ভব নয়।’

বিএনপির কর্মসূচিতে আবারও বাধা দেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি যেন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করেন।আর যেন একটা লাশও না পড়ে।’ এ সময় তিনি দাবি করেন, ঢাকায় আসার ক্ষেত্রে কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি।জনগণ অংশ নিচ্ছে না বলেই খালেদা জিয়ার কর্মসূচি হয়নি।

আশরাফ বলেন, নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে নির্বাচন হবে।দেশ সংবিধানের বাইরে গেলে অপশক্তি ক্ষমতায় আসতে পারে।সংবিধানকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান আশরাফ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here