ইয়াবা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স :সংসদে প্রধানমন্ত্রী

14

জনতার নিউজঃ

সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং কোস্টগার্ড নিরলসভাবে কাজ করছে। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবা পাচার রোধকল্পে টেকনাফ উপজেলায় ৯ জনবল সম্বলিত একটি নতুন অস্থায়ী সার্কেল অফিস স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সংসদে জাতীয় পার্টির (জাপা) এ কে এম মাইদুল ইসলামের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে ইয়াবা পাচার বিরোধী অভিযান ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে। ভারত সরকার সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ফেনসিডিল কারখানা স্থাপন না করার নির্দেশ দিয়েছে। বিজিবি ও বিএসএফ পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফের প্রতিনিধির কাছে ফেনসিডিল তৈরির কারখানার তালিকা সম্বলিত বুকলেট হস্তান্তর করে সেগুলো ধ্বংস করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি জানান, কক্সবাজারসহ সীমান্ত এলাকাগুলোতে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাচার রোধে বিজিবি’র সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা, তল্লাশি এবং নজরদারি বৃদ্ধির ফলে সীমান্ত এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং ফেনসিডিলসহ অন্য মাদকদ্রব্য আটক করা হচ্ছে। ফলে মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ হরাস পেয়েছে।

নদীগর্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ জমি উদ্ধারের পরিকল্পনা

ঝিনাইদহ-৩ আসনের নবী নেওয়াজের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দেশের বৃহত্ নদীসমূহ খনন করে নদীর গভীরতা ও নাব্যতা বৃদ্ধি এবং ড্রেজিংকৃত মাটি দিয়ে নিচু জমি ভরাটের পরিকল্পনা করেছে। এই কাজ সমাপ্ত করলে বিপুল পরিমাণ জমি নদীগর্ভ থেকে উদ্ধার হবে। এই জমিগুলো শিল্পায়নসহ নগরায়নের কাজে ব্যবহার করতে সরকার শিগগিরই ব্যাপক পরিকল্পনা নেবে।

অভিবাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নিবিড় কূটনৈতিক তত্পরতা

মমতাজ বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় অভিবাসন ইস্যুকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। একজন অভিবাসী নাগরিকের সার্বিক অবদানকে বিবেচনায় এনে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী একটি সুষ্ঠু, নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক, সম্মানজনক ও অধিকারভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নিবিড় কূটনৈতিক তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে।

২০২১ সাল নাগাদ সবার জন্য বিদ্যুত্

ঢাকা-১৫ আসনের কামাল আহমেদ মজুমদারের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাসমূহের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী ২০২১ সাল নাগাদ সবার জন্য বিদ্যুত্ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, চলতি বছরের মে পর্যন্ত সরকার বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ১০ হাজার ৫শ’ মেগাওয়াটের মাইলফলক অর্জন করেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ বছরের মে পর্যন্ত সর্বমোট ৬৩টি বিদ্যুত্ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সরকারিভাবে চাল আমদানির প্রয়োজন নেই

আয়েন উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ধানের ফলন ভালো হওয়ায় সরকারিভাবে চাল আমদানির প্রয়োজন নেই। এ মুহূর্তে সরকারি ভাণ্ডারে খাদ্যশস্যের মজুদ পরিমাণ ১০ লাখ ৭ হাজার ৪৯২ মেট্রিক টন। যার মধ্যে চাল ৬ লাখ ২৯ হাজার ২৭৪ মেট্রিক টন এবং গম ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৩ মেঃ টন। তিনি জানান, এ মজুদের পরিমাণ সন্তোষজনক। এছাড়া আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৪ লাখ মেট্রিক টন চাল ও এক লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম অভ্যন্তরীণ উত্স থেকে এবং ২ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি সূত্রে সংগ্রহ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

রেলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে বিএনপি-জামায়াত

আবদুল ওয়াদুদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের আহূত হরতাল ও অবরোধ চলাকালে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ের বেশকিছু যাত্রীবাহী কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের সহিংস ঘটনায় যাত্রীবাহী কোচের ব্যাপক ক্ষতি সত্ত্বেও জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার আরও যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের ব্যবস্থা নিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here