আ.লীগের মনোনয়ন * ৬৭৮ ফরম বিক্রি, সুযোগ চান তরুণেরা

11

Falg_of_Bangladesh_Awami_League

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে প্রথম দিনেই ৬৭৮ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। সকাল ১০টা থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা নিয়ে দলে দলে নেতা-কর্মী মনোনয়ন ফরম কিনতে আসেন।

দিনভর পুরো বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকায় বিরাজ করে উত্সবের আমেজ। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়ন ফরম কেনার মাধ্যমে শুরু হয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি-জমা কার্যক্রম। তবে দলটির পুরোনো প্রার্থীদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের তরুণ প্রার্থীরা।
গণতন্ত্রের পথ সুগম করার আহ্বান
মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধনকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এ দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন হবে উত্সবমুখর পরিবেশে। তাতে সব ভোটার অংশ নেবেন। কেউ যদি ভোটারদের নির্বাচন কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়, তাহলে সেটা গণতন্ত্রের জন্য শুভ হবে না। আশা করি বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রের পথকে সুগম করবে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আশা করি, বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এ প্রক্রিয়া শুরু করবে। আগামী মধ্য জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ একটি নতুন সরকার পাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়ন ফরম কিনলেন আশরাফ

মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিনেই দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্য গোপালগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন ফরম কেনেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এরপর তিনি নিজের মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেন। পরে অন্য প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম কেনা শুরু করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উত্সবমুখর পরিবেশ

মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ব্যাপক উত্সাহ, উদ্দীপনা দেখা যায়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢোল-তবলা ও ব্যান্ড পার্টি নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে আসেন। সারা দিনই হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ও মনোনয়নপ্রত্যাশীর ভিড় লেগে থাকে।

বেলা ১১টার সময় কয়েক শ নেতা-কর্মী ও ব্যান্ড পার্টি নিয়ে ঢাকা-১৫ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনতে আসেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাঈনুল হোসেন খান। তবে ঢাকা থেকে যাঁরাই মনোনয়ন ফরম কিনতে আসেন, তাঁরাই বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকায় আসেন।

অতঃপর সংঘর্ষ

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৪ (কদমতলী-শ্যামপুর) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আওলাদ হোসেন ও শফিকুল ইসলাম সাইজুলের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দুইটার দিকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অস্থায়ী প্যান্ডেলে অবস্থান নেয় আওলাদ ও সাইজুল গ্রুপ। একপর্যায়ে দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীরা বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে শুরু হয় সংঘর্ষ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি। সংঘর্ষ প্রায় আধা ঘণ্টা চলতে থাকে। আওলাদের গ্রুপ সাইজুল পক্ষের নেতা-কর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকেন। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। পরে দলীয় কার্যালয়ে সামনে দায়িত্বরত পুলিশ মৃদু লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তরুণদের জায়গা ছেড়ে দিন

আওয়ামী লীগের পুরোনা প্রার্থীদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির তরুণ প্রার্থীরা। তরুণদের মতে, এখন যদি তাঁরা নতুনদের জায়গা ছেড়ে না দেন, তা হলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সংকটে ভুগবে। এজন্য তরুণদের সুযোগ দেওয়ার বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) আসনে মনোনয়ন ফরম ক্রয়কারী মনিরুজ্জামান খান প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘আমার এই আসনে দলীয় এমপি হলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি চারবার এমপি হয়েছেন। বয়স ৭০ বছরের বেশি। সুতরাং এখন তরুণদের সুযোগ দেওয়া উচিত।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিরোজপুর জেলার মনোনয়নপ্রত্যাশী এক নেতা বলেন, ‘তরুণেরাই আগামী দিনে দলের হাল ধরবে। সুতরাং তাঁরা স্থান ছেড়ে না দিলে কীভাবে আমরা বেড়ে উঠব।’

প্রথম দিনে ৬৭৮ মনোনয়ন ফরম বিক্রি

দলীয় মনোনয়ন বিক্রির প্রথম দিনে দেশের সাতটি বিভাগের ৬৭৮ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, সৈয়দ আবুল হোসেন, শেখ ফজলে নূর তাপস, মুকুল বোসসহ ২১৫ জন, রাজশাহীর বিভাগ থেকে আবদুল লতিফ বিশ্বাস, জুনায়েদ আহমেদ পলক, জিন্নাতুন নেসা তালুকদারসহ ৭৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে দীপু মনি, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সুবিদ আলী ভূঁইয়া, নূরুল ইসলাম, আ হ ম মুস্তফা কামালসহ (লোটাস কামাল) ১০৩ জন, খুলনা বিভাগ থেকে আবদুল হাই, বীরেন শিকদার, ননী গোপাল, সোলায়মান জোয়ার্দারসহ ৯৫ জন, রংপুর বিভাগ থেকে আবুল হাসান মাহমুদ আলী, রায় রমেশ চন্দ্র, সতীশ চন্দ্র রায়, আসাদুজ্জামান নূরসহ ৮০ জন, সিলেট বিভাগ থেকে শাহাব উদ্দিন, ইমরান আহমেদ, মহসিন আলীসহ ৫২ জন এবং বরিশাল বিভাগ থেকে শ ম রেজাউল করিমসহ ৫৮ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। আর ২২ জন মনোনয়ন ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছেন।

প্রথম দিনে এক কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়। ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন ক্রয় ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলবে। তবে প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়ানো হবে জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here