আয় বেড়েছে মাত্র ৪০ ভাগ: ম খা আলমগীর

18

MKA

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, তাঁর আয় বেড়েছে মাত্র ৪০ ভাগ, এক হাজার ১৩৫ ভাগ নয়। প্রথম আলো-ডেইলি স্টার মিথ্যাচার করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, আয়ের যে বিবরণী নিয়ে প্রথম আলো-ডেইলি স্টার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার। আমার জ্যেষ্ঠ ছেলে জালাল আলমগীর পিতা হিসেবে আমাকে সম্পদ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচার চালানো সংবাদপত্রের উচিত হয়নি। এ দুটি পত্রিকার নিজেদেরও সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা উচিত।
মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ‘পত্রিকা দুটি লিখেছে ইউরোপিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আমার মালিকানাধীন। এ বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা সম্প্রসারিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত। এখানে একটি টাকাও আমার নয়। ফারমার্স ব্যাংকের মালিকানা আমার বলে তারা লিখেছে। এই ব্যাংকের মূলধন ৪০০ কোটি টাকা। আমার আছে সাড়ে আট কোটি টাকা। এই ব্যাংকটির বর্তমানে ১০টি শাখা, ২০০ কোটি টাকার মূলধন। ব্যাংকটি কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে কাজ করছে। আমি যে সম্পদ বিবরণী দিয়েছি পত্রিকাগুলো বলছে, তাতে আমার এক হাজার ১৩৫ ভাগ বেড়েছে। পত্রিকা যে দলিল উত্থাপন করেছে তাতে দেখা গেছে সে সময় আমার সম্পদ ছিল পাঁচ কোটি টাকা। সেটি এখন সাত কোটি টাকা। আমার সম্পদ বেড়েছে মাত্র ৪০ ভাগ, এক হাজার ১৩৫ ভাগ নয়।’
প্রথম আলো-ডেইলি স্টারকে কটাক্ষ করে ক্ষমতাসীন দলের এই সাংসদ বলেন, এরাই সেই সংবাদপত্র যারা ১/১১-র স্বৈরতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে তথাকথিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, প্রথম আলো-ডেইলি স্টারকে তাঁর আয় বিবরণীর দলিল সরবরাহ করেছেন সুজনের প্রেসিডেন্ট বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে বদিউল আলম মজুমদার হলফনামার ওই তথ্য সরবরাহ করেছেন। অভিযোগে জানা গেছে, আত্মীয়দের দূরে সরিয়ে রেখে তিনি (বদিউল আলম মজুমদার) শ্বশুরকুলের বাড়ি দখল করে আছেন। যা-ই হোক, এটা তাঁদের পারিবারিক বিষয়।’
মহীউদ্দীন খান আলমগীর আরও দাবি করে সংসদে বলেন, বদিউল আলম মজুমদার গবেষণার নামে নির্বাচন কমিশন থেকে ৬০ লাখ টাকা নিয়েছেন। গবেষণা করেননি, টাকাও ফেরত দেননি। দুদক যথাযথভাবে বিষয়টি অনুসন্ধান করুক।

চেয়ারে যিনিই বসবেন, তিনিই স্পিকার
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী আজ জাতীয় সংসদে মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে উদ্দেশ করে বলেন, সংসদ চলাকালে স্পিকারের চেয়ারে যিনি বসবেন, তাঁকেই স্পিকার বলে সম্বোধন করতে হবে। মহীউদ্দীন খান আলমগীর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেওয়ার সময় দুবার ফজলে রাব্বীকে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার বলে সম্বোধন করেন। উত্তরে মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ‘আমি দুবার আপনাকে ডেপুটি স্পিকার বলে সম্বোধন করেছি। কোনোমতে যদি আপনি ব্যথিত হয়ে থাকেন তবে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here