আসামে রাহুলকে চুম্বনের সঙ্গে মহিলার আত্মহত্যার সম্পর্ক নেই । :মুখ্যমন্ত্রী

12

rahul
সম্প্রতি আসামের এক অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীকে চুম্বন এবং পরে এক নারীর আত্মহত্যার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশটিতে। রাহুলকে চুম্বনের জেরে স্বামীর সঙ্গে বিবাদে ওই নারী গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে বিভিন্ন খবরে বলা হয়। তবে এ কথা অস্বীকার করেছে ঐ নারীর পরিবার। আর আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেছেন, রাহুলকে চুম্বনের সঙ্গে ঐ নারীর আত্মহত্যার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এ ধরনের সংবাদে তিনি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বলে জানান।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে যোরহাট যান কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী। কাছারি ময়দানে মহিলা কংগ্রেসের সদস্য ও অন্য মহিলা সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন তিনি। আচমকা এক মহিলা রাহুল গান্ধীকে পিছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করেন। পর মুহূর্তে রাহুলের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে চারপাশ থেকে আরও কয়েক জন মহিলা তার উপর বলা যায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। সকলেই রাহুলকে চুম্বন করতে চান। বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন রাহুল। পরে সেখান থেকে রাহুলকে টেনে সরিয়ে আনেন দুই নিরাপত্তারক্ষী। ঘটনার ধাক্কা সামলে, ফের প্রশ্নোত্তর-পর্ব শুরু করেন রাহুল। সে দিনের অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি ছিল না সংবাদ মাধ্যমের। অনুষ্ঠানের যে সিডি সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া হয়েছিলো তাতেই ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

যোরহাটের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন তিতাবরের বেঁকাজান গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য, তিন সন্তানের জননী বন্তি চুটীয়া। অনুষ্ঠানের পর দিন নিজের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন বন্তি। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর গুজব ছড়ায়, রাহুলকে প্রথম যে মহিলা চুম্বন করেছিলেন, তিনিই বন্তি। টিভিতে তা দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন স্বামী হোমেশ্বর। কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছিল, রাহুলের অনুষ্ঠান থেকে ফিরতে রাত হওয়ায় তুমুল অশান্তি হয়েছিল দু’জনের। তার পরই বন্তিদেবী আত্মহত্যা করেন।

তবে গতকাল পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার জানায়, বন্তিদেবীর পরিবার এর বিরোধিতা করে জানিয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কারণে কলহ হয়। রাহুলকে চুম্বনরত অবস্থায় যে মহিলার ছবি সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, তিনি বন্তিদেবী নন। রাহুলের অনুষ্ঠান নিয়েও কোন অশান্তি হয়নি। বন্তিদেবী গায়ে আগুন দিলে স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন স্বামী হোমেশ্বর।

এ নিয়ে রাজ্য কংগ্রেসের মুখপাত্র মেহেদি আলম বরা বলেন, রাহুলের অনুষ্ঠানে তাঁর কাছে ছিলেন বিশেষভাবে আমন্ত্রিতরাই। ওই তালিকায় বন্তিদেবীর নাম ছিল না। রাহুলের অনুষ্ঠানের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন একটি পারিবারিক কলহের ঘটনা জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈও এর নিন্দা করে বলেন, ঘটনাটি পারিবারিক অশান্তির ফল। তার সঙ্গে রাহুলের সফরের সম্পর্ক নেই। ষড়যন্ত্র করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here