আলীমের মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদন্ড

19

ঢাকা, ৯ অক্টোবর: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমের আমৃত্যু কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।
বুধবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি শাহীনুর ইসলাম রায়ের ১৯১ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ পড়া শুরু করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া রায়ের দ্বিতীয় অংশ পড়েন। এরপর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান রায় ঘোষণা করেন।
আলীমের বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগ আনা হয়। এর ১, ২, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১২ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ৩, ১১, ১৩, ১৫, ১৬ ও ১৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয় প্রসিকিউশন। এছাড়া ৪ ও ৫ নম্বর অভিযোগে কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি রাষ্টপক্ষ।
প্রমাণিত ২, ৮, ১০ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আব্দুল আলীমের আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। ৬, ৭, ৯ ও ১২ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর করে ও ১নম্বর অভিযোগে ১০ বছর দণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে আব্দুল আলীমকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে হাজির করা হয়। সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে আলীমকে হাইকোর্ট সংলগ্ন ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। রায়কে ঘিরে সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশেপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর মামলার কার্যক্রম শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিভিএ) রাখে ট্রাব্যুনাল। মামলাটি রায়ের জন্য ১৭ দিন অপেক্ষমাণ ছিল। ওইদিন আলীমের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ১১ জুন আলীমের অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। আলীমের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাসহ প্রসিকিউশনের ৩৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া ২ জনের জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। এদিকে আলীমের পক্ষে তিন জন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
গত ২৭ মার্চ আলীমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ওইদিনই জয়পুরহাটের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।Alim

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here