আরো ১১ জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধ হচ্ছে! স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ জরুরি বৈঠক

40

govt Logo.গত ১০ বছরে পাঁচটি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার পরও দেশে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা ছদ্মবেশে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। আÍগোপনে থাকা জঙ্গিরা সব কয়টি সংগঠনকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টাও চালাচ্ছে। নিষিদ্ধগুলোর পাশাপাশি আরো ১১টি নতুন সংগঠন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে। এ কারণে ওই ১১টি সংগঠনকে দ্রুত নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটিকে কয়েক দিনের মধ্যে এবং বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্ত ২৮টি সংগঠনের ওপর কড়া নজরদারি রেখেছে গোয়েন্দারা। জঙ্গি বিষয়ে আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, জঙ্গিদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে নিয়োজিত আছে ১৭টি সরকারি প্রতিষ্ঠান। ২৩টি জেলায় এখনো জঙ্গিদের অবাধ বিচরণ আছে বলে গোয়েন্দারা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। জঙ্গিদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ বিষয়ে  বলেন, দেশ থেকে জঙ্গিদের নিধন করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জঙ্গিদের এই দেশে ঠাঁই হবে না। যারা জঙ্গিদের লালন-পালন করছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। যেসব জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধের সুপারিশ এসেছে সেগুলোর ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার শিক্ষক ও আলেম সমাজকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে জঙ্গিরা এ দেশকে আফগান-তালেবান রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের আশা পূরণ হতে দেয়নি বাংলার জনগণ।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্র“য়ারি জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। একই সময় নিষিদ্ধ করা হয় জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশকে। কিন্তু নিষিদ্ধের পর তারা আরো হিংস্র হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমাবাজি থেকে শুরু করে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেকটা বেকায়দায় পড়ে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বর্তমানে জেএমবির কলকাঠি নাড়ছে শুরা কমিটির অন্যতম সদস্য সোহেল মাহফুজ। জেএমবির পর আবার লাইম লাইটে চলে আসে আরেকটি জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ- হুজি। তারা প্রকাশ্যে মানুষ মারতে থাকে। আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী আহত হন। এর আগে বায়তুল মোকাররম এলাকায় আফগানফেরত মুজাহিদরা প্রকাশ্যে মিছিল করে। নানা সমালোচনার পর ২০০৫ সালের ১৭ অক্টোবর সরকার এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। বর্তমানে হুজিকে নিয়ন্ত্রণ করছে মুফতি শফিকুর রহমান। ২০০৩ সালের ৯ ফেব্র“য়ারি নিষিদ্ধ করা হয় শাহাদাদ-ই-আল-হিকমা। অ্যাডভোকেট রাশিদুল আলম দুলাল নামের এক ব্যক্তি সংগঠনটির উপ-প্রধান বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর নিষিদ্ধ করা হয় হিযবুত তাহ্রীরকে। বর্তমানে মোস্তফা মিনহাজ এ সংগঠনের পক্ষে কলকাঠি নাড়ছেন বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছে।
যে সংগঠনগুলো নিষিদ্ধের সুপারিশ : সূত্র জানায়, সরকারের সবকয়টি গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব আরো ১১টি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সংগঠনগুলো হচ্ছে- হিজবুত তাওহীদ, আনসারউল্লাহ বাংলাদেশ, আল্লাহর দল, কালেমা-ই-জামাত, হিযবুল মাহাদী, জামায়েতুল মুসলেমিন, দাওয়াতি ইসলাম বাংলাদেশ, জমিয়তে আহলে হাদিস বাংলাদেশ, ইসলামী গণআন্দোলন, কালেমার দাওয়াত ও ইসলামী দাওয়াতী কাফেলা।
আজ মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক : আজ বুধবার জঙ্গি-সংক্রান্ত কমিটির ১৭তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ২০১৩ সালের ৪ জুন সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, আইন, বিচার, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, স্থানীয় সরকার ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবরা, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিজিএফআই, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং এনএসআইয়ের প্রধানরা, র‌্যাবের মহাপরিচালক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা  বলেন, আগামীকালের (আজকের) বৈঠকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হবে। তার মধ্যে কিছু জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কিছু দিনের মধ্যে কয়েকটি সংগঠনকে নিষিদ্ধের ঘোষণা আসতে পারে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে করা হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা : জঙ্গি সংগঠনগুলোকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এতে করে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কর্মকর্তাও ফেঁসে যেতে পারেন বলে গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
২৮ সংগঠনে কড়া নজরদারি : কালো তালিকাভুক্ত ইসলামী সমাজ, দাওয়াতে ইসলাম, ওলামা আঞ্জুমান আল বাইয়্যিনাত, ইসলাম ও মুসলিম, হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশ, আল হারাত আল ইসলামিয়া, জামায়াতুল ফালাইয়া, তাওহিদী জনতা, বিশ্ব ইসলামী ফ্রন্ট, জুম্মাতুল আল সাদাত, শাহাদাত-ই-নবুওয়াত, জামায়াত-ই-ইয়াহিয়া আল তুরাত, জইশে মোস্তফা বাংলাদেশ, আল জিহাদ বাংলাদেশ, ওয়ারাত ইসলামিক ফ্রন্ট, জামায়াত-আল-সাদাত, আল খিদমত, হরকত-এ ইসলাম আল জিহাদ, মুসলিম মিল্লাত শারিয়া কাউন্সিল, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ফ্রন্ট ফর জিহাদ, জইশে মোহাম্মদ, আল ইসলাম মার্টায়ারস ব্রিগেড, লস্কর-ই-তৈয়্যবা, হিযবুল্লাহ ইসলামী সমাজ, হরকাতুল মুজাহিদীন, নুসরাতুল মুসলেমিন, ইসলামী জিহাদ আন্দোলন বাংলাদেশ ও ইসলামী ছাত্রশিবির- এই ২৮টি সংগঠনের ওপর কড়া নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
২৩ জেলায় জঙ্গি তৎপরতা : গোয়েন্দাদের তথ্যানুযায়ী রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, বগুড়া, রংপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, গাজীপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, পাবনা, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, টেকনাফ ও সিলেট জেলায় এখনো জঙ্গি তৎপরতা থাকায় নজরদারি কয়েক ধাপ বাড়ানো হয়েছে বলে জানান এসবির এক কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here