আরটিভির দুই সাংবাদিক ৪ দিনের রিমান্ডে

43

image_89950রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অবরোধের ওপর রিপোর্ট করতে গিয়ে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে আটক হয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভির সিটি রিপোর্টার তামজিদ রনি ও ক্যামেরাম্যান প্রশান্ত মজুমদার। রবিবার সকাল সোয়া আটটার দিকে রিপোর্ট সংগ্রহ করে ফেরার পথে কামরাঙীর চর ৩১ শয্যা হাসপাতালের সামনে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের আটক করে। পরে তাদের থানায় নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় চায়ের দোকানদার শাহ আলম বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই মামলায় তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠালে, আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার হারুনুর রশিদ বলেন, স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা ঐ দুই সাংবাদিককে আটক করে থানায় দিয়েছে।

কামরাঙীরচর থানায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সকাল সোয়া আটটার দিকে ৩১ শয্যা হাসপাতালের সামনে অবরোধকারীরা পিকেটিং করছিল। আরটিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যান পিকেটারদের ককটেল নিক্ষেপ করতে বলে ভিডিও ধারণের জন্য। একটি ককটেল বিস্ফোরিত না হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। ঐ সময় রিপোর্টার আরেকটি ককটেল ফাটানোর নির্দেশ দেন। এ সময় আশেপাশে থাকা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা পিকেটারদের ধাওয়া দেয়। তারা রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যানকে মারধর দিয়ে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় চা দোকানদার শাহ আলম বাদী বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় তামজিদ রনি ও প্রশান্ত মজুমদার ছাড়াও স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কর্মী কামাল, নাইম, কবির, সায়েম, সিদ্দিকসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রধান বার্তা সম্পাদক লুত্ফর রহমান জানান, সকাল পাঁচটায় রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যানের ডিউটি ছিল। পুরান ঢাকার কোর্ট এলাকায় ডিউটি শেষে তারা কামরাঙীর চরের হাসপাতাল গেট এলাকায় যায়। তারা একটি চায়ের দোকান বসে চা পান করছিলেন। এসময় যুবদলের একটি মিছিল ঐ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ক্যামেরাম্যান ঐ দৃশ্য ধারণ করার সময় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা মিছিলকারীদের ধাওয়া দেয়। যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দেয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঐ দুই সংবাদ কর্মীকে বিস্ফোরক আইনে মামলা দেয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here