আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি

23

 

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে একসঙ্গে গাইলেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১ জন; শুধু সারাদেশে নয়, সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিরা গাইলেন একসঙ্গে; একাত্তরের মতো অন্যরকম চেতনায় জেগে উঠল গোটা জাতি; গিনেজ বুকের সর্বশেষ রেকর্ডের চেয়ে প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি

ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। সারাদেশে তো বটেই, সারাবিশ্বে যেখানেই বাংলাদেশি—সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গেয়ে সারাবিশ্বের সামনেই সৃষ্টি করলো অনন্য দৃষ্টান্ত। একটি জাতি এক তারে বেজে উঠলে যে ইতিহাস রচিত হয় তা বাংলাদেশের মানুষ একবার প্রমাণ করেছে ১৯৭১ সালে। সে বছর এই ২৬ মার্চেই পুরো দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে তারা ছিনিয়ে এনেছিল বিজয়ের লাল সূর্য। ৪৪ বছর পর সেই মহান স্বাধীনতা দিবসে আবারো এক সুরে এক প্রাণ হয়ে বাংলাদেশের মানুষ সৃষ্টি করলো নতুন ইতিহাস। বাংলাদেশের কিশোর-তরুণসহ প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ সারাবিশ্বের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিল দেশপ্রেমের কথা। কোটি কণ্ঠ একসাথে গেয়ে উঠলো—’আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।

গতকাল বুধবার স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ শিরোনামের এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১ জন। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার নতুন বিশ্ব রেকর্ডটির (গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস) স্বীকৃতি পাওয়া বাংলাদেশের জন্য শুধুই সময়ের ব্যাপার। ২০১৩ সালের ৬ মে সাহারা ইন্ডিয়া পরিবার (ভারত) ১ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ জন অংশ নিয়ে সে দেশের জাতীয় সংগীত গেয়ে আগের বিশ্ব রেকর্ডটি গড়েছিল। বাংলাদেশের এ আয়োজনে সে সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি। এখন গিনেজ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিলেই ভারতের নাম মুছে অঙ্কিত হবে বাংলাদেশের নাম। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল সবাই। সবার গন্তব্য প্যারেড গ্রাউন্ড। সাগরের ঢেউয়ের মত মানুষের মিছিল এসে আছড়ে পড়েছে সেখানে। ধীরে ধীরে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড পরিণত হয় জনসমুদ্রে। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে লেখা থাকবে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১ জন মানুষের অংশগ্রহণে একসাথে জাতীয় সংগীত গেয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু মানুষ ছিল আরো অনেক অনেক বেশি। জাতীয় সংগীত গাইবার এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড ও আশেপাশের এলাকাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তিন লাখ লোকের ধারণ ক্ষমতার গ্রাউন্ডে ঢুকতে না পেরে অনেককে বাইরে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইতে দেখা গেছে। ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁও জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হল,’আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…।’ সেই সুরে সুর মিলিয়ে সারাদেশে যে যেখানে ছিলেন সেখানেই উঠে দাঁড়িয়ে গেয়েছেন জাতীয় সংগীত। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বে যেখানেই বাংলাদেশিরা রয়েছেন তারাও গলা ছেড়ে একই সময়ে একসঙ্গে গাইলেন—’আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…’।

বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পোশাক ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ প্যারেড মাঠে উপস্থিত হয়ে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলান।

সকাল সাড়ে ৬টায় প্যারেড মাঠের ফটক খুলে দেয়ার আগেই নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নানা বয়সের মানুষ জড়ো হয়। ক্রমেই বাড়তে থাকে মানুষের ঢল। মূলমঞ্চে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক সুজেয় শ্যামের পরিচালনায় মিতা হকের নেতৃত্বে প্রস্তুত ১২০ জন দেশবরেণ্য শিল্পী। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে সবাই সেই মাহেন্দ্রক্ষণের প্রতীক্ষায়। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত শুরু হয় ১১টা ২০ মিনিটে। প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতীয় সংগীতের সাথে সুর মেলান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জাতীয় সংগীত শুরুর আগে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের এ আয়োজনের সঙ্গে একই সময় সারা দেশের প্রতিটি কোণে ও সারা বিশ্বের বাংলাদেশি মিশনগুলোতেও এ কর্মসূচি পালিত হয়। একই সময় মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলান সাকিব-মুশফিক-মাশরাফিরা।

সকাল সাড়ে দশটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে প্রবেশের পর মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ পর্বের শুরুতেই নির্বাচিত ১২০ জন শিল্পী গেয়ে শোনান ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’ গানটি। এরপর সবাই মিলে মহড়া দেন জাতীয় সংগীত পরিবেশনের। মহড়ার পর প্রধানমন্ত্রী এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি তার জন্য নির্দিষ্ট মঞ্চে দাঁড়িয়ে আড়াই লাখের অধিক মানুষের সঙ্গে কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এসময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক ও সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী একে খন্দকার, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল এম ইনামুল বারী প্রমুখ।

১৫ সেক্টরে ভাগ করে জনতাকে প্রবেশ করানো হয় প্যারেড স্কয়ারে

রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্যারেড গ্রাউন্ডে আসা জনস্রোতে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল পড়ুয়া কিশোর-কিশোরী, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ-তরুণী, পোশাক শ্রমিক, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, আনসার ভিডিপি; রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পোশাক, পরিবহন ও বিভিন্ন খাতের কর্মী। আগত সবাইকে প্রবেশমুখেই হাতে তুলে দেয়া হয় ব্যাগ, টুপি, পতাকা এবং জাতীয় সংগীত ও তা গাইবার নিয়মাবলী লেখা লিফলেট। সেসঙ্গে খাবারের প্যাকেট ও প্রাথমিক চিকিত্সার ওষুধও দেয়া হয়। মোট ১৫টি সেক্টরে ভাগ করে সবাইকে প্যারেড স্কয়ারে প্রবেশ করানো হয়।

স্কয়ারের উত্তর দিক থেকে আগতরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর দিয়ে এসে রোকেয়া সরণির উত্তর প্রান্ত দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। স্কয়ারের পশ্চিম দিক থেকে আসা অংশগ্রহণকারীরা শ্যামলীর শিশুমেলার রাস্তা ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের রাস্তা দিয়ে, স্কয়ারের দক্ষিণ দিক থেকে আগতরা চন্দ্রিমা উদ্যানের পাশের রাস্তা ও রোকেয়া সরণির দক্ষিণ প্রান্ত এবং স্কয়ারের পূর্ব দিক থেকে আগতরা বিজয় সরণির পূর্ব প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে সামরিক জাদুঘরের পাশের রাস্তা হয়ে বিজয় সরণির দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। ছাত্র-ছাত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ঢাকা সেনানিবাসের ভেতর দিয়ে প্যারেড স্কয়ারের পেছন দিক থেকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। প্রতিটি এলাকা থেকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সবাইকে নির্ধারিত প্রবেশপথ দিয়ে নির্দিষ্ট সেক্টরে নিয়ে যান।

বিভিন্ন দিক থেকে যখন প্রবেশ চলছিল, তখন বড় পর্দায় বারবার ভেসে আসছিল মাঠের পরিস্থিতি ও মোট উপস্থিতির সংখ্যা। সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে ভারতের গড়া ১ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ জনের রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলেন দেশপ্রেমিক বাংলাদেশিরা। এরপর বিভিন্ন সময় বড় পর্দায় জানানো হয়, উপস্থিতি সংখ্যা। সে হিসেবে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার, ৯টা ১২ মিনিটে ১ লাখ ৮০ হাজার, ৯টা ৫০ মিনিটে ২ লাখ ১০ হাজার। এর দশ মিনিট পর ১০টায় জানানো হয় উপস্থিতির সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার, প্রধানমন্ত্রী যখন মঞ্চে আসেন তখন জমায়েত ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার মানুষের। ১০টা ৫৫ মিনিটে প্রথম মহড়ায় অংশ নেন ২ লাখ ৫১ হাজার মানুষ এবং সর্বশেষ জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় এ উপস্থিতির সংখ্যা হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১ জনে।

মূল অনুষ্ঠান শুরুর প্রায় আড়াই ঘন্টা আগেই মঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির দুই পাশে জাতীয় চার নেতা ও সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয় মঞ্চটি। এর দুই পাশে ছিল রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।

প্রথম সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতেই সুজেয় শ্যামের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী তিমির নন্দী, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, বুলবুল মহলানবীশ, মালা খুররম ও শাহীন সামাদ দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন। ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা আমাদের বসুন্ধরা’ গানটি গাওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের পরিবেশনা শুরু করেন। এরপর তারা একে একে গেয়ে শোনান ‘আজি বাংলাদেশের হূদয় হতে’, ‘দুর্গম গিরি কান্তার’ ও ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ গানগুলো। এরপর মঞ্চে আসেন নবীন প্রজন্মের শিল্পী কণা। পরে একে একে সংগীত পরিবেশন করেন শুভ্র দেব, কনকচাঁপার মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা। জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করেন মমতাজ ও এলআরবি।

তীব্র জ্যাম, প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করতে না পেরে অসন্তোষ

প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করতে না পেরে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্যারেড গ্রাউন্ডে আসার জন্য সকাল সাতটার পর থেকেই বাংলা মোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি মোড়ে প্রচণ্ড জ্যামের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্কুল থেকে আসা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ পথ হেঁটে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করেন। এদিকে দেরি করে পৌঁছানোর কারণে অনেকেই ঢুকতে পারেননি। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকেই ধৈর্য হারিয়ে ফিরে গেছেন। অনেকে অভিযোগ করেন ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করানোর জন্য অনেকেই ফিরে গেছেন গেটের বাইরে থেকে। ফলে ১১টা ২০ মিনিটে জাতীয় সংগীত গাওয়া হলেও অনেকেই প্রবেশ করতে পারেননি মূল আয়োজনে। এদিকে, প্যারেড স্কয়ার আসা অনেকেই প্রচণ্ড রোদে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ রকম অন্তত ৩০ জনকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্থাপিত সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিত্সা দেয়া হয়।

যে যেখানে ছিলেন সেখানেই দাঁড়িয়ে অংশ নেন

প্যারেড স্কয়ারের চারপাশে বিশেষ করে বিজয় সরণি, রোকেয়া সরণি, ফার্মগেট, খামারবাড়ি, জাহাঙ্গীর গেট পার হয়ে মহাখালী রেল ক্রসিং, আগারগাঁও হয়ে শিশুমেলা, মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে আসাদ গেট পর্যন্ত মানুষ দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইতে থাকেন। মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ২০ মিনিট আগে থেকেই রাজধানীতে চলাচলকারী গণপরিবহন ও অন্যান্য পরিবহন থেমে যায় এবং এ সব পরিবহনে অবস্থানরত যাত্রীরাও অংশ নেন জাতীয় সংগীত গাওয়ার এই কর্মসূচিতে।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ১১টা থেকে ১১টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে রেল থামিয়ে এ আয়োজনে অংশ নেন। ট্রেনের মধ্যে স্পিকারে প্রচার করা হয় মূল অনুষ্ঠান। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম অফিসে কর্মরতরাও দাঁড়িয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন জাতীয় সংগীত গাইবার এই কর্মসূচিতে। একই সঙ্গে প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও এ কর্মসূচিতে অংশ নেন বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here