আন্দোলন ধরে রাখা নিয়ে বিএনপিতে দুশ্চিন্তা

15

BNP Logoশেষ পর্যন্ত কোনোভাবেই নির্বাচন ঠেকাতে না পারায় বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পড়েছে বিএনপি। দলটির নেতৃত্বাধীন শরিক দলগুলোর শিবিরেও ভর করেছে এক ধরনের হতাশা। নতুন সরকার গঠনের পরেও মাঠের আন্দোলন কতদিন ধরে রাখা সম্ভব, তা নিয়ে হিসাব মেলাতে পারছেন না বিএনপিসহ জোটের নেতা-কর্মীরা। যেভাবেই হোক, সরকার নির্বাচন তুলে নিতে পারায়, বিরোধী জোটের কেউ কেউ বলছেন- নাতিদীর্ঘ সময়ের মধ্যে জনসম্পৃক্ত গণআন্দোলন তীব্রতর করতে না পারলে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলের ও জোটের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বেগম খালেদা জিয়া। এজন্য গতকাল বিবৃতি দিয়ে তিনি বলেছেন, ৫ জানুয়ারির ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও সেটি হবে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’, সেই সরকার হবে ক্ষণস্থায়ী। সেইলক্ষ্যে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য তিনি নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কয়েক নেতা জানান, শেষ পর্যন্ত যখন নির্বাচন প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি এবং আন্দোলনের ঘোষিত কর্মসূচিও ক্রমান্বয়ে ঢিলেঢালা হয়ে পড়ছিল, তখন তৃণমূল নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করার ওষুধ হিসেবেই লন্ডনে অবস্থানকারী বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি শনিবার ভিডিও বার্তা দিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার ডাক দেয়ার তাত্ক্ষণিক ‘ভালো’ ফলও হয়েছে। তবে এভাবে এই আন্দোলনকে কতদিন চলমান রাখা সম্ভব হবে- এনিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে দলটি।

সূত্র মতে, বিএনপিসহ ১৮ দল এবার ‘অবৈধ’ ও ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে সরকার হঠানোর লক্ষ্যে নতুন করে আন্দোলনে গতি আনার চেষ্টা করবে। সেজন্য বর্তমান নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ পর্যন্ত, অর্থাত্ ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত টার্গেট করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারকে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দেয়ার চেষ্টা করা হবে। প্রথমত, চলতি সংসদ বহাল থাকাবস্থায় আন্দোলনকে তীব্রতর করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিলে সরকারের ওপর চাপ প্রবল করা, দ্বিতীয়ত: সেটি সম্ভব না হলে স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই একাদশ নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে বিরোধী দল।

এ ব্যাপারে ১৮ দল শরিক এলডিপি সভাপতি ড. কর্নেল অলি আহমদ (অব.) গতকাল সোমবার নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলে আন্দোলন থামানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাব, সব বিভেদ-প্রতিহিংসা ভুলে সংলাপের মাধ্যমে নতুনভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা নিন। তাহলে কেবল দেশে শান্তি ফিরে আসবে।

১৮ দলের আন্দোলন চলমান রাখতে পারা নিয়ে অলি আহমদ বলেন, বিএনপির ড, ওসমান ফারুক রবিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন বাতিল করে সংলাপের কথা বলেছেন, কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন। তারেক রহমান আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাও যথার্থ। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, সরকারকে প্রথমে বলতে হবে, তারা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ করে অতিদ্রুত নির্বাচন করবে। তাহলেই কেবল আন্দোলনের কর্মসূচির বিষয়টি আমরা পুনর্বিবেচনায় আনতে পারি। সংবাদ সম্মেলনে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন দিতে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে না পারার জন্য ১৮ দলের মধ্যে এখন চলছে পারস্পরিক দোষারোপ। শরিকদের কেউ কেউ বলছেন, জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ না করায় বিরোধী দলকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। অবশ্য কারও বক্তব্য ভিন্ন, তাদের মতে-আন্দোলন যতটুকু হয়েছে সেটিতে জামায়াতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কারও মতে, আন্দোলনের নামে ‘সহিংসতা’ চালানোর কারণে বিরোধী জোটের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

জোটের একটি শরিক দলের প্রধান  বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে ১৮ দলের সিদ্ধান্তগ্রহণে ভুল ছিল। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারলে পরিস্থিতি এতটা প্রতিকূল হয়ে উঠতো না। বিএনপি নেতাদের মতে, তারা এবং জামায়াত ছাড়া জোটের অন্য শরিকদের আন্দোলনে কোনো ভূমিকাই ছিল না। বিএনপির অভ্যন্তরেও এনিয়ে রয়েছে মতভিন্নতা। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, প্রকৃত কর্মীদের মূল্যায়ন না করায় আন্দোলন গতি পায়নি। এবারের আন্দোলনের প্রক্রিয়া থেকে বিএনপিকে বার্তা নেয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here