আদালতের আদেশে থাই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন নিবাতুমরং

12

thai PMক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগে থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত গতকাল বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে পদত্যাগের আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার কয়েকজন মন্ত্রীকেও পদত্যাগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে বাণিজ্যমন্ত্রী নিবাতুমরং বুনসংপাইসানকে নিয়োগ দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির চলমান রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।

নয় সদস্য-বিশিষ্ট সাংবিধানিক আদালতের চেয়ারম্যান চারুন ইন্তাচান টেলিভিশনে সমপ্রচারিত এক রায়ে বলেন, বিচারকরা সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছেন যে ইংলাক তার প্রধানমন্ত্রী পদমর্যাদার অপব্যবহার করেছেন এবং তার নিজের সুবিধার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান থাউইল প্লিয়েনস্রিকে বদলি করার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করেছেন। অতএব তার প্রধানমন্ত্রী পদমর্যাদার অবসান ঘটেছে। ইংলাক আর তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার পদে বহাল থাকতে পারবেন না। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী যারা জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানকে বদলির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছিলেন তারাও মন্ত্রিত্ব হারাবেন। ২০১১ সালে থাউইলকে সরিয়ে দেন ইংলাক। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ফোংথেকে থেপকানজানা বলেন, মন্ত্রিসভা তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার জন্য নিবাতুমরংকে নিয়োগ দিতে সম্মত হয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহারের মামলায় ইংলাক আদালতে হাজির হয়ে দোষ অস্বীকার করেন। তার পদক্ষেপে দল সুবিধা পাওয়ার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। কিন্তু আদালত রায় দিয়ে বলেছে, ইংলাকের এই হস্তক্ষেপে তার এক আত্মীয় উপকৃত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নোপাদ্দন পাত্তামা বলেছেন, আদালতের রায় মানা বাধ্যতামূলক। তাই আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া ছাড়া ইংলাকের আর কোনো উপায় নেই। কারণ, সংবিধানে বলা আছে সব পক্ষের জন্যই আদালতের বিচার মেনে নেয়া বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার বাদবাকী সদস্যরা নতুন মন্ত্রিসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবে। থাইল্যান্ডে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচন আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার পর এ মাসের শুরুর দিকে ক্ষমতাসীন দল নতুন করে জুলাইয়ে সাধারণ নির্বাচন ডেকেছে। পাত্তামা বলেন, থাই জনগণ যাতে তাদের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে সেজন্য সবারই এখন আসন্ন এ নির্বাচনের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। তাদের দল প্রতিবাদ- বিক্ষোভ করতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। এদিকে রায়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ইংলাক গত দুই বছর সহযোগিতা করার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। ‘গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী’ ছিলেন উল্লেখ করে ইংলাক বলেন, আমরা কোনো অন্যায় কাজ করিনি। অন্যদিকে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উপনেতা কিয়াত শিত্থিয়া মামরণ বলেন, তার দল নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংস্কার চায়। তাই পরবর্তী দিনগুলোর দিকেই নজর রাখবে তার দল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here