আগামী ১০ই নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ চলবে

12

527bab4059860-Parliament-2

আগামী রোববার (১০ নভেম্বর) পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলবে। ওই দিন বিকেল সাড়ে চারটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। আজ বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে আজ তা শেষ না করে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তা মুলতবি করা হয়েছে।

এদিকে হরতালকারীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আইন করার চিন্তাভাবনা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই আইনের অধীনে একটি বিমাভিত্তিক ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন করা হবে। হরতালে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এই তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

আজ সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল নিজেদের স্বার্থোদ্ধারে হরতাল করছে। হরতাল দিয়ে তারা রাস্তায় থাকে না। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক নেই। হরতাল করে তারা জনমত গঠনে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছে। নির্দোষ মানুষের নিরাপত্তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হরতাল আহ্বানকারী ও দুষ্কৃতকারীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য মন্ত্রণালয় আইন করার কথা ভাবছে। তিনি আরও বলেন, সরকার যথাসময়ে নির্বাচন করবে। কতিপয় সন্ত্রাসী সাধারণ মানুষকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এক অনির্ধারিত আলোচনায় সরকারি দলের সাংসদ তোফায়েল আহমেদ সমস্যার সমাধানে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সমস্যার সমাধান চাইলে শেখ হাসিনার সঙ্গেই আলোচনায় বসতে হবে।

খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, ‘কেন মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনা চান? কেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান না? কারণ, বলেছিলেন ২৭ তারিখ থেকে শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী নন। এ জন্য তাঁর সঙ্গে বসবেন না।’

আলোচনায় হরতাল বন্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, এখন ভাবার সময় এসেছে, হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার কি না। হরতালের নামে যে নৃশংসতা হচ্ছে, একসময় তার দায় কাউকে না কাউকে নিতে হবে। তাই হরতাল বন্ধে সুপ্রিম কোর্ট কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই সংসদকে পদক্ষেপ নিতে হবে। হরতালকারীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ও আওয়ামী লীগের ফজলে রাব্বি মিয়া।

পাকিস্তানপন্থীরা ৭ নভেম্বর বিশেষ দিবস হিসেবে পালন করে

এর আগে অনির্ধারিত আলোচনায় সংসদের হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, যারা ৭ নভেম্বরকে বিশেষ দিবস হিসেবে পালন করে, তারা পাকিস্তানপন্থী। খালেদা জিয়া পাকিস্তানের জন্য এই দিবস পালন করেন। তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দিন। এই দিবস মুসলীম লীগ ও পাকিস্তানের জন্য পালন করা হয়। জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী যখন কারাগারে আটক, তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দিবস পালন করেন। যারা পাকিস্তানের চর, পাকিস্তানপন্থী, তারা এই দিবস পালন করে। এটা জাতির জন্য নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্যতম দিন। যাঁরা এই দিবস পালন করেন, তাঁদেরকে ধিক্কার জানাই। এ সময় তিনি ৭ নভেম্বরের আগের ও পরের ঘটনাবলি তুলে ধরেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here