আগামী দশম জাতীয় সংসদ গঠনের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলে পুরো ৫ বছরই ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগ।

12

AL Logoআগামী দশম জাতীয় সংসদ গঠনের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলে পুরো ৫ বছরই ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগ। আর বিরোধী দলের আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দিতে না পারলে সমঝোতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনাধীন আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের কাছে।
সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারির পর সরকার গঠনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐকমত্যের একটি সরকারের প্রস্তাব করতে পারেন। এতে নির্বাচিত সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সরকারের ৫ বছর পাড়ি দেয়ার পথ সুগম হবে বলে ধারণা করছে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকলেও বেশিসংখ্যক মন্ত্রী দিয়ে তাদেরকে সরকারে রাখার কৌশলও নেয়া হবে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বেশি প্রতিকূলে চলে গেলে সমঝোতার ভিত্তিতে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করবে তারা। এজন্য দশম জাতীয় সংসদের পর অল্প সময়ের মধ্যেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে এক রকম প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে আওয়ামী লীগের। তবে নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে যাবে তাই এখনই এ বিষয়টি সামনে আনতে চাচ্ছে না বিরোধী দল।
সূত্র জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় এবং কোনো ধরনের সরকারের অধীনে তা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন নেতারা। বিএনপি নেতারা যুদ্ধাপরাধীদের কোনো দায়ভার নিতে চান না বলেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক রকম হয়েই গেছে। ইতিমধ্যে ১৫৪ জন প্রতিনিধি সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ৫ জানুয়ারিতে বাকি আসনগুলোর নির্বাচনের পরই দশম সংসদ গঠিত হবে। বিএনপি আন্দোলন করেও এ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। কারণ নির্বাচনের আগেই সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়ে গেছে।
তারপরও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন। সূত্রমতে, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করার লক্ষ্য অটুট রেখেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের আগে জরুরি অবস্থা জারির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ও গোলযোগপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর আশপাশের এলাকায় ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে থেকেই অঘোষিতভাবে জরুরি অবস্থার মতো পরিবেশ-পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হতে পারে।
এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর বাংলাদেশ সফর শেষে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতারা দুই দফা কথা বলেছেন। ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় আইনগতভাবে এই নির্বাচন পেছানোর যে আর সুযোগ নেই, তা নির্বাচন কমিশন প্রকাশ্যেই বলেছে। বাস্তবতা মানছেন বিএনপি নেতারাও। গতকাল আওয়ামী লীগের দুই নেতাও প্রকাশ্যে বলেছেন আলোচনা করে কিছু সময়ের ব্যবধানে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা।
সূত্র জানায়, আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দশম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে। সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশনেই দেয়া হতে পারে ‘সর্বদলীয় সরকারের’ গঠন প্রক্রিয়াসহ এ আমলের গৃহীত নানান পদক্ষেপের বৈধতা। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সর্বদলীয় ক্ষমতাসীন সরকার পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে যাচ্ছে। তারপর পরিস্থিতি দেখে ব্যবস্থা নেবে দলটি।
সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী দল যতই আন্দোলন সংগ্রাম করুক না কেন অন্তত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছুই করতে চান না সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। সংবিধান অনুযায়ীই দশম সংসদ গঠিত হবে। পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের সহিংসতা ঠেকাতে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জামায়াত অধ্যুষিত সাতক্ষীরা, লক্ষ্মীপুর, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান শুরু করেছে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সমন্বয়ে যৌথবাহিনী। এসব অভিযান সহসাই থামবে না, তাও স্পষ্ট করেছে সরকার। আর সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচনকালীন সরকারের চেয়ে নির্বাচিত সরকার বেশি শক্তিশালী, সে বিবেচনায় ৫ জানুয়ারি ভোট শেষ করে নতুন সরকার দ্রুত দায়িত্ব নেয়ার পক্ষে। তারপর পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষপাতী আওয়ামী লীগ। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নিয়ে আর কোনো কথা বলার সুযোগ নেই। এখন কথা বলতে হবে একাদশ সংসদ নিয়ে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের যৌক্তিকতা থাকলে তা নিয়েও আলোচনা হবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে আলোচনার বিকল্প নেই। সকলে মিলে, নতুন বাস্তবতা মেনে নিয়েই আলোচনায় বসা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সমঝোতা হলেও বিএনপির এখন আর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ নেই। তফসিল হয়ে গেছে, নির্বাচনের প্রক্রিয়াও অনেক এগিয়ে গেছে। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য আলোচনা হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here