আইসিসির ‘তিন মোড়ল নীতি’-র সমালোচনায় মনোহর

16
J News
আইসিসির ‘তিন মোড়ল নীতি’-র সমালোচনায় মনোহর

ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক আইসিসির সর্বময় ক্ষমতা তিন মোড়লের হাতে তুলে দেওয়ার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি এন শ্রীনিবাসন। এখন খোদ তার উত্তরসূরি শশাঙ্ক মনোহরই বলেছেন এটা ছিল একটা প্রহসন এবং অসংখ্য ভুলে ভরা।

শুধু তাই নয়, পদাধিকার বলে আইসিসির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তার মেয়াদকালে এই ভুলগুলো সংশোধনের চেষ্টা করবেন।

অনেক সমালোচনার পরেও গত বছর আইসিসির নিয়ন্ত্রণ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের হাতে তুলে দিয়ে সংস্থাটির সংবিধান সংশোধন করা হয়। এন শ্রীনিবাসনের নেওয়া এই উদ্যোগের যুক্তি ছিল আইসিসির দুই তৃতীয়াংশর বেশি আয় এই তিন দেশ থেকে আসে তাই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা এই তিন দেশেরই বেশি থাকবে। তবে বিসিসিআইয়ের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শশাঙ্ক মনোহর দ্য হিন্দুকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন তিনি কখনোই তিন দেশের কাছে আইসিসির সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণটা পছন্দ করেননি।

তিনি বলেন, তিন দেশ বাকি সবার উপর ছড়ি ঘোরাবে এমন ধারণার সঙ্গে আমি কখনো একমত পোষণ করি না। এটা আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি কারণ আমি সবসময় বলেছি যে ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়। আইসিসির সমস্ত বিষয় এই তিন দেশ নিয়ন্ত্রণ করার ধারণাটা ভুল। আইসিসির নিয়ন্ত্রণে সব সময় সেরা ব্যক্তিটিকেই নিয়োগ করা উচিত হোক তিনি জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ অথবা সহযোগী দেশের নাগরিক।

আইসিসির আয় বণ্টনের নিয়মেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। তার মতে ভারত বা অন্য যেকোনো দল তখনই বেশি আয় করে যখন খেলাটা আকর্ষণীয় হয়। তিনি বলেন, আপনি অবশ্যই ধনীকে আরো বেশি ধনী করতে পারেন না। এছাড়া যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হয় তাহলে সম্প্রচারক ও স্পন্সররা টাকা দেব না। তাই দ্বিপাক্ষিক সিরিজে যাই আয় হোক না কেন সেটা আসে ভালো দলের বিপক্ষে ভালো খেলার কারণে। যদি সব দলই পিছিয়ে যায় তাহলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে না আর কোনো দর্শকও থাকবে না সেই ম্যাচ দেখতে। এবং কেউ আপনাকে সেটা আয়োজন করতে অর্থও দেবে না।

আইসিসির সংবিধানের ভুলগুলো আরো খোলা চোখে দেখিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নতুন সংবিধান অনুযায়ী বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট আইসিসির চেয়ারম্যান হবেন পদাধিকার বলে। বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় এর স্বার্থ রক্ষা করাই আমার প্রাথমিক লক্ষ্য। তাহলে কিভাবে আমি আইসিসির চেয়ারম্যান হিসেবে এর স্বার্থরক্ষা করবো? যদি কখনো আইসিসি ও বিসিসিআই মুখোমুখি দাঁড়ায় তখন এই দুই পক্ষের এক পক্ষে আমাকে অবস্থান নিতে হবে। যার অর্থ হবে অন্য পক্ষের ক্ষেত্রে আমি আমার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছি।

মনোহর জানিয়েছেন তিনি এই ইস্যুগুলো আইসিসির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে জাইলস ক্লার্ক (ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড) এর সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং তিনি আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। ক্রিকইনফো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here