অলির শর্ত, পার্থর সিদ্ধান্তহীনতা

22

১৮ দল শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ (অব.) বিএনপিকে তিন শর্ত বেঁধে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে সম্মানজনক প্রতিশ্রুতি না পেলে বর্তমান মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে পারেন তিনি। মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পেয়েছেন ১৮ দলের আরেক শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তবে এ ব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন তিনি। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের আরও কয়েকটি শরিকও নানা কারণে সরকারের সঙ্গে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

কর্নেল অলির ঘনিষ্ঠ ও এলডিপির কেন্দ্রীয় দু’জন নেতা জানান, প্রথমে তিন দফায় আওয়ামী লীগের ড. হাছান মাহমুদ বৈঠক করেছেন অলি আহমদের সঙ্গে। কথা চূড়ান্ত না হওয়ায় পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য। তাদেরকে অলি আহমদ বলেছেন, তাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও তার দলের একজনকে উপদেষ্টা করা হলে এবং আগামী নির্বাচনে এলডিপিকে ১২টি আসন ছেড়ে দেয়া হলে তিনি মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করবেন। সূত্র জানায়, সরকারি দলের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর বিএনপির সঙ্গে আগামী নির্বাচনকেন্দ্রিক ভাগাভাগির বিষয়গুলো এখনই ফয়সালা করে নেয়ার উদ্যোগ নেন অলি আহমদ। এজন্য তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করে দু’দিন আগে ১৮ দল নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে দূত পাঠান তিনি। ওই দূতকে নাকি খালেদা জিয়া বলেছেন ‘এখন তো এসব নিয়ে ভাবা হচ্ছে না, এখন আন্দোলন নিয়েই তারা কাজ করছেন। এসব পরে দেখা যাবে।’ অবশ্য খালেদা জিয়া সেদিন এলডিপিকে বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা বলারও পরামর্শ দেন। জানা গেছে, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমদ এরই মধ্যে ফখরুলের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে আশানুরূপ কোনো প্রতিশ্রুতি পায়নি এলডিপি। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মঙ্গলবার বঙ্গভবনেও গেছেন অলি আহমদ। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত কোনো চমক দেখাতে পারেন একসময় বিএনপি ছেড়ে যাওয়া কর্নেল অলি। এদিকে, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান এমপিকেও আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকেও মন্ত্রী হওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, আত্মীয়-স্বজনকে পার্থ জানিয়েছেন, ১৮ দলে তার কোনো সমস্যাও নেই। তবে জানা গেছে, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন পার্থ। তিনি বলেছেন, ‘আমি এ সরকারের মন্ত্রিসভায় যাবো না’।

জানা গেছে, ১৮ দলের আরও অন্তত তিনটি শরিক দলও সরকারের সঙ্গে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ব্যাপারে আগ্রহ কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here