অনলাইন গণমাধ্যম সহায়ক নীতিমালা’ হচ্ছে, :,নতুন টিভি এখনই নয়: ইনু

13

information minister inuতথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দেশে বর্তমানে সরকারি খাতে একটিসহ মোট ১৪টি কমিউনিটি রেডিও চালু রয়েছে। আজ সোমবার সংসদে সরকারি দলের আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯-১৩ সাল পর্যন্ত সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি রেডিও চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রেডিওগুলো হলো- রেডিও পদ্মা, রেডিও নলতা, লোক বেতার, রেডিও পল্লীকণ্ঠ, রেডিও সাগরগিরি, রেডিও মহানন্দা, রেডিও মুক্তি, রেডিও চিলমারী, রেডিও ঝিনুক, কৃষি রেডিও, রেডিও সুন্দরবন, রেডিও নাফ, রেডিও বিক্রমপুর ও বরেন্দ্র রেডিও। কমিউনিটি রেডিও সার্ভিসের জন্য আলাদা-আলাদা এলাকা নির্ধারিত নেই। তবে কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী কমিউনিটি রেডিও’র বৈশিষ্ট হচ্ছে, নির্দিষ্ট ভৌগলিক অবস্থানে বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী যারা সমধর্মী কিছু লোকজ, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে। তারা সুনির্দিষ্ট ভৌগলিক অবস্থান যেমন- কোন বিশেষ শহর, গ্রাম কিংবা মহলার মধ্যে থেকে পারস্পরিক আদান-প্রদানে অংশগ্রহণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিপণন, সেবা ও মালামাল লেনদেনের মাধ্যমে একই অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অভিন্ন অংশীদার হবেন।
সরকারি দলের আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গভীর সমুদ্রে যারা মাছ আহরণ করেন তাদের জন্য বাংলাদেশ বেতার আবহাওয়া ও বিভিন্ন দুর্যোগের সিগনালিংসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্প্রচার করে থাকে। কমিউনিটি রেডিও’র মাধ্যমে সিগনালিং ব্যবস্থার কোন সুযোগ নেই।
সরকারি দলের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, কমিউনিটি রেডিও পরিচালনার জন্য একটি অনুমোদিত নীতিমালা রয়েছে এবং এর সম্প্রচার কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য একটি মনিটরিং কমিটি রয়েছে। কমিউনিটি রেডিওগুলো নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা এ কমিটি প্রতিনিয়ত মনিটরিং করে থাকে। সরকারি দলের ডা. আ ফ ম রুহুল হকের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের তিনি বলেন, কমিউনিটি রেডিওগুলোর সম্প্রচার অব্যাহত রাখার স্বার্থে সরকারি বিজ্ঞাপন ও অনুদান প্রদান এবং এর সম্প্রচার এলাকা বর্তমানে ২০ কিলোমিটারের স্থলে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার করা যায় কিনা তা গুরুত্বসহ বিবেচনা করা হবে।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আরো  বলেছেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নতুন টেলিভিশন চ্যানেলের আবেদন করলেও এই মুহূর্তে এসব আবেদন বিবেচনা করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। আজ সোমবার সংসদে শামসুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

কাজী ফিরোজ রশীদ ও স্বপন ভট্টাচার্য্যের দুটি প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে এক হাজার ১৮৭টি তালিকাভুক্ত পত্রিকা রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিডিয়া তালিকাভুক্ত ৩৪৫টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ৭৩টি পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ছয় হাজার। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১৩৬টি, মফস্বল থেকে প্রকাশিত হয় ২০৯টি। এ ছাড়া সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয় ঢাকা থেকে ৪৭টি, মফস্বল থেকে ৩৩টি। পাক্ষিক পত্রিকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ১৪টি, মফস্বল থেকে চারটি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনলাইন গণমাধ্যমের কোনো নীতিমালা নেই। তবে অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য ‘অনলাইন গণমাধ্যম সহায়ক নীতিমালা’ নামে একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। হাজি মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) অনুষ্ঠানমালার চাইতে বিজ্ঞাপন বেশি প্রচার হয়, এ কথা ঠিক নয়। বিটিভিতে অনুষ্ঠানমালার চাইতে অনেক কম বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়। তা ছাড়া বিটিভি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠান প্রচার করে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here