অতি লোভে পড়ে ভুল করেছি, আর করব না’ ৫ কোটি টাকার কোকেনসহ গ্রেফতারকৃত কেমিক্যাল ব্যবসায়ী

17

cockenপিনাকি দাসগুপ্ত

 

 

কেমিক্যাল (ওষুধ তৈরির কাঁচামাল) ব্যবসা করে ভালই চলছিল। কিন্তু কয়েক ব্যক্তির প্রলোভনে (নাম বলেননি) পড়ে লোভের পথে পা বাড়াই। ভুলটা এখানেই। আর অতিলোভ করে সত্যি ভুল করেছি। জেল থেকে ছাড়া পেলে আর এ ব্যবসা করবো না। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন কেমিক্যাল ব্যবসায়ী কামরুল আলম। ডিবি পুলিশ বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে পাঁচ কোটি টাকার মূল্যের ৬ পাউন্ড কোকেনসহ তাকে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে গ্রেফতার হয় তার আরও পাঁচ সহযোগী। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি পুলিশ গতকাল তাদেরকে (৬জনকে) তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। গ্রেফতারকৃত অপর পাঁচজন হচ্ছেন স্পেন প্রবাসী তাহের মন্ডল ওরফে জবা, খিলক্ষেতস্থ একাধিক ফার্মেসি দোকান মালিক মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া, কাজী খলিলুল্লাহ মাহমুদ, মামুন হাওলাদার ও মোশারফ হোসেন। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদি হয়ে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছে। কামরুল আলমের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর। তিনি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মালিক বলে দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি কেমিক্যাল আমদানির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্য। এ চক্রের মূল হোতা কামরুল আলম। তিনি ওষুধ তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল আদমানির আড়ালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আর এ কাজে সহায়তা করে তাহের মন্ডল। তিনি আরও বলেন, কোকেন বাংলাদেশে উত্পাদিত হয় না। বিদেশ থেকে এটি আনা হয়ে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, এর সঙ্গে বিদেশিদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত ছয় পাউন্ড পরিমাণ কোকেনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) নাজমুল আলম বলেন, কোকেনের চালানটি বিমানবন্দর থেকে ৬ দিন আগে বের হয়ছে বলে তথ্য ছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ নম্বর এলাকার ৫ নম্বর সড়কের পশ্চিম মাথার খ-৫২/৩, নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত জামান মার্কেটের সীমা ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, এর সঙ্গে (কোকেন চালান) বিমান বন্দরের একটি চক্র জড়িত রয়েছে। তারাই বিমান বন্দর থেকে খিলক্ষেত এলাকার একটি হোটেলে পৌঁছে দেয়। ঐ চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

অভিযান অংশ নেয়া ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মাহফুজুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে বাদামি রংয়ের কার্টনে রাখা কোকেন নিয়ে পালাবার চেষ্টা করেছিল। গোয়েন্দাদের জেরার মুখে তারা কার্টনে কোকেন থাকার কথা স্বীকার করে। তিনি বলেন, আর সীমা ফার্মেসি ছিল কোকেন বিক্রির অন্যতম পয়েন্ট। এখান থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কোকেন সরবরাহ করা হতো।

এডিসি মাহফুজ আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা প্রায় সবাই ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আমদানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কাজটি করতো তারা কামরুল আলমের মাধ্যমে। তবে অধিক লাভের আশায় তারা কেমিক্যাল আমদানির পাশাপাশি কোকেন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। তবে কামরুল আলমের মত অন্যরাও বলেছে, তারা ভুল করেছে।

সৌজন্য ইত্তেফাকঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here