kabir chy

news১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নিমর্মভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর নীল নকশা তৈরি করেছিল স্বাধীনতা বিরোধী এই দেশীয় কিছু মীরজাফর। পাকিস্তানের অদৃশ্য রাষ্ট্র পরিচালক হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর হীন চক্রান্তে ছিল তখনকার সরকার প্রধান।

সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ট বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যারা নির্মম ভাবে হত্যা করেছে, যারা স্বাধীন বাংলার স্রষ্টার জীবন কেড়ে নিয়েছে, যারা একে একে শিশু রাসেলকে পর্যন্ত হত্যা করেছে তাদের নানান ভাবে পুরস্কিত করেছে মেজর জিয়া। ঐসব খুনীদের বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে।

আর এই সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রকে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র, অকার্যকর রাষ্ট্রকে কার্যকর রাষ্ট্র, মেহনতি মানুষের উন্নত জীবন-জীবীকার ব্যবস্থা করা, সংবিধান-গণতন্ত্র এবং মানুষ-মানবতা ও সকলের অধিকার নিশ্চিত করা একমাত্র শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব বলেই, সেই স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত ইসলাম ও বিএনপি পরিকল্পিত ভাবে ৭৫ এর সেকেন্ড ভার্সন হিসেবে ২১ শে আগষ্ট সংঘঠিত করেছিল।

তখন অবাক দৃষ্টি নিয়ে অবলোকন করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়, উদ্বিগ্ন আর উৎকন্ঠা জানিয়েছিল বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। কিন্তু উদ্বিগ্ন আর উৎকন্ঠা জানায়নি তখনকার সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়া, বিচলিত হয়নি বিএনপি-জামায়াত ইসলাম। কারণ তাদের পরিকল্পিত নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে না পেরে বরং তারা উল্টো বলেছে নানান ছলনায়।

যেমন- • “ওখানে মারবে কে?”

সংসদে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তখনকার সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়া মন্তব্য করেন। • সংসদে শোক প্রস্তাবে তখন সরকারের সংসদ সদস্যরা নানান ভাবে নানান ধরনের কথা বলে আর সংসদে কোন প্রকার শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বা কোন আলোচনা করতে দেয়া হয়নি। • ২২ আগস্ট, ২০০৪। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ডাকা সমাবেশে সংগঠনের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল প্রকাশ্যে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা এবং সাবের হোসেন চৌধুরীকে রিমান্ডে নিলেই প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। আজিজুল বারী হেলাল তখন আরও নানান ধরনের মিথ্যা কথা বলে প্রকৃত ২১ শে আগষ্টের অপরাধকে আড়াল করতে চেয়েছে। • বিএনপি-জামায়াত ইসলামের জোট সরকারের তখনকার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর মন্তব্য করেন- ‘we are looking for শত্রুজ’ বলে।

যা বাঙালি জাতি অত্যান্ত লজ্জ্বাবোধ করেন এবং সমাজের রাস্তা-ঘাটে হাঁসাহাঁসী করতে দেখা যায়। • ৩০ আগস্ট, ২০০৪। বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির তত্কালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়াসহ দলের কয়েকজন মন্ত্রী ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য আওয়ামী লীগকেই দায়ী করে নানান ধরনের অপপ্রচারস চালাতে থাকে। • বিএনপি ও জামায়াত ইসলামের জোট সরকারের তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আমানুল্লাহ্ আল আমান ঐ একই সমাবেশে মন্তব্য করেন- ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক তদন্ত চাচ্ছেন। আমরা সবধরনের তদন্ত করবো। খুব তাড়াতাড়িই তদন্ত রিপোর্ট দেবো।

ওই রিপোর্টে গ্রেনেড হামলার জন্য আব্দুস সামাদ আজাদ, মোহাম্মদ নাসিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ এবং মতিয়া চৌধুরীকে দায়ী করা হবে’ বলে তিরস্কার করেন। • ২ সেপ্টেম্বর, ২০০৪। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপি-জামায়াত ইসলামের জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, সরকারের সাফল্যকে আড়াল করতে ‘বোমা’ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিএনপি ও স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত ইসলাম পরিকল্পিত ভাবে ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার টার্গেড শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে না পেরে কখনো জনসভার আলোচনায়, কখনো সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আবার কখনো মহান সংসদ ভবনে একের পর এক মিথ্যা অভয়ারণ্য তৈরি করে নিজেদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্ঠা করেছিল, যে ভাবে মেজর জিয়া ৭৫ এর খুনিদের নানান ভাবে উপঢোকন দিয়ে, বিলাস বহুল জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করে দিয়ে খুনীদের আড়াল করেছে।

লেখকঃ   কবীর চৌধুরী তন্ময় সভাপতি- বাংলাদেশ অনলাইন এ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ)

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here