বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনীর অভিযানে ৬৯ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকালে টেকনাফে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৮ লাখ ইয়াব উদ্ধার করে বিজিবি’র কর্মকর্তারা। এছাড়া টেকনাফ থানার ছেড়া দ্বীপ থেকে তিন লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে কোস্টগার্ডের সদস্যরা। তবে দুটি অভিযানে কোন চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এদিকে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ৮৬ হাজার ইয়াবা ও ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ ১৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি’র বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আছাদুজ্জামান চৌধুরী জানান, শুক্রবার ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফে উপজেলার নাফ নদীর দমদমিয়া ও ঝিনুখাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবাগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য ৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। তিনি বলেন, মায়ানমার থেকে ইয়াবার বড় একটি চালান আসার খবরে বিজিবির একটি দল শুক্রবার সকাল থেকে নাফ নদীর দমদমিয়া এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় মায়ানমারের দিক একটি নৌকায় করে ২/৩ পাচারকারী নাফ নদীর পাড়ে এসে নামে। তাদের কাঁধে বস্তা দেখে বিজিবি’র সদস্যরা তাদের থামার জন্য সংকেত দেয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তিনটি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায় তারা। পরে ওই বস্তায় তল্লাশি করে ১২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এর আগে নাফ নদীর ঝিনুখাল এলাকা থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা করা হয়। মায়ানমার থেকে ইয়াবার বড় একটি চালান আসার খবরে শুক্রবার ভোর থেকে বিজিবির সদস্যরা ঝিনুখাল এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় মায়ানমারের দিক থেকে ইঞ্জিন চালিত একটি নৌকায় করে ৩/৪ জন পাচারকারীকে আসতে দেখে তাদের থামার জন্য সংকেত দেয় বিজিবি। এ সময় পাচারকারীরা নৌকা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ওই নৌকায় তল্লাশি করে তিনটি বস্তা মধ্যে ইয়াবাগুলো পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা বিজিবি’র টেকনাফ ব্যাটালিয়ন দপ্তরে রাখা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড সদর দফতরের সহকারী পরিচালক (গোয়েন্দা) লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মারুফ জানান, গতকাল সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড বাহিনীর পূর্ব জোনের অধীনস্থ সিজি স্টেশানের কর্মকর্তারা টেকনাফ ছেড়া দ্বীপে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ইয়াবা পাচারকারীরা কোস্ট গার্ড বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা রেখে মায়ানমার সীমান্তের দিকে পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫ কোটি টাকা।

এদিকে ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান জানান, গত দুই দিনে রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮৬ হাজার ইয়াবা ও ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ ১৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি’র বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৮৬ হাজার ৭৮৮ পিস ইয়াবা, ১৩ কেজি ২১০ গ্রাম গাঁজা, ১ কেজি ৪৯৮ গ্রাম ১১৮৩ পুরিয়া হেরোইন, ৬ ক্যান বিয়ার, ১১ বোতল ফেন্সিডিল ও ১০২টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম, ইমু আক্তার (২৪)। তার কাছ থেকে ইয়াবা তৈরির মেশিন ও বিপুল পরিমাণ উপাদানসহ প্রস্তুতকৃত ১২৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে তিন বোতল দেশি মদ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাড়ির মালিক শহিদুল্লাহ ও গ্রেফতারকৃত ইমুর স্বামী আলমগীর পরস্পর যোগসাজশে ইয়াবা প্রস্তুত করে বিক্রয় করত। তারা দুজনই পলাতক রয়েছে। তাদেরকে ধরতে অভিযান চলছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here