527bba0de0e4f-0000

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (এমআইএস) সার্ভার রুম ও ডেটা সেন্টার ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে নাযদাক টেকনোলজি নামের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেন।

সার্ভার রুম ও ডেটা সেন্টারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং এর আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের ২৩ হাজার কর্মকর্তার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনসহ (এসিআর) অতি গোপনীয়, গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নথি সংরক্ষিত আছে। নাযদাককে সার্ভার রুম ও ডেটা সেন্টারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো চুক্তি করা বা দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেছেন, সব সময় দরপত্র আহ্বানের প্রয়োজন পড়ে না।

এ বিষয়ে আরও জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ব্যবহূত দুটি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে এবং খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহর জারি করা গতকালের আদেশে বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৩ হাজার কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। তাঁদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন এবং দলিলপত্র সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা একটি জটিল বিষয়। সেই সঙ্গে স্থান সংকুলানও হচ্ছে না বিধায় এসিআর অটোমেশন অতীব জরুরি।…এমতাবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের সার্ভার রুম এবং ডেটা সেন্টারটি ব্যবহার করার জন্য নাযদাক টেকনোলজির কর্মকর্তা এবং এক্সপার্টদের সাময়িক অনুমতি দেওয়া হলো।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এমআইএস এবং ডেটা সেন্টারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিতে চান। পছন্দসই প্রতিষ্ঠান যেন টেন্ডার-প্রক্রিয়ায় বাদ না যায়, সে জন্য টেন্ডার ডাকার আগেই অধিদপ্তরের সার্ভার কক্ষ ব্যবহারের সাময়িক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে নাযদাককে। এতে করে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ভবিষ্যতে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে কাজ পাওয়া সহজতর হলো বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘এমআইএসে আগুন লাগার একটা ঘটনা ঘটেছে। সেটি ঠিক করার দায়িত্ব নিয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। তাদের এসিআর অটোমেশনের কাজও করার কথা। অটোমেশনের কাজ করলে তাদের তো সার্ভার রুম-ডেটা সেন্টারে ঢুকতেই হবে।’ নাযদাককে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো টেন্ডার করা হয়েছে কি না, প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, সব সময় টেন্ডার ডাকার প্রয়োজন পড়ে না।

তবে এমআইএসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, সার্ভার রুমে শর্টসার্কিট হয়েছিল। সেটি এমআইএসের কর্মকর্তারা ঠিক করে ফেলেছেন ঘটনা ঘটার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। আর এসিআর অটোমেশনের জন্য কারও সার্ভার রুম বা ডেটা সেন্টার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। থাকলেও সেখানে এমআইএসের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান থাকা প্রয়োজন। এর একটি নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে। সিস্টেম অ্যানালিস্ট নিরাপত্তার বিষয়টি দেখেন। সিস্টেম অ্যানালিস্ট সুখেন্দু শেখর রায়কে এ সপ্তাহে বদলি করে দেওয়া হয়েছে গোপালগঞ্জে। আর আদেশ জারির পর থেকে নাযদাকের লোকজনই এমআইএসে আছেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা নেই।

তবে এ নিয়ে এমআইএসের লাইন ডাইরেক্টর ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ কোনো মন্তব্য করেননি। গোপালগঞ্জে কী দায়িত্ব পালন করবেন, জানতে চাইলে সুখেন্দু শেখর রায়ও কিছু বলতে চাননি।

জানতে চাইলে নাযদাক টেকনোলজির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘গত শুক্রবারে সার্ভার রুমে আগুন লেগে বেশ কিছু নথি নষ্ট হয়ে গেছে। সোমবার আমরা খবর পাই। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আমাদের সার্ভার রুম ও ডেটা সেন্টারে প্রবেশের অনুমতি দেয়। আমরা আজ থেকে সেখানে কাজ করছি। এটা আমাদের “চ্যারিটি”র অংশ। এর জন্য আমরা কোনো টাকাপয়সা নিচ্ছি না।’

সূত্রগুলো বলছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর প্রযুক্তিগত দিক থেকে অন্য প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের চেয়ে এগিয়ে আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই ‘ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সেন্টার’-এর কর্মীদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন, অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সেন্টারটি দক্ষভাবে পরিচালনায় সক্ষম।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here