Report

১৭ সালে কক্ষপথে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট স্থাপিত হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ২০১৭ সালের মধ্যেই কক্ষপথে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপিত হবে, যা দেশের টেলিযোগাযোগসহ তথ্য প্রযুক্তি খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

সোমবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্যসংঘ দিবস এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বপ্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ স্থাপনের জন্যে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। ইতোমধ্যেই অরবিটাল স্লট ক্রয় করা হয়েছে। আমি আশা করি, ২০১৭ সালের মধ্যেই কক্ষপথে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপিত হবে, যা দেশের টেলিযোগাযোগসহ তথ্য-প্রযুক্তি খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আইটিইউ’র মহাসচিব হোউলিন ঝাও-এর ভিডিও বার্তাও প্রচার করা হয়। বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বসু অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্যসংঘ দিবসের মূল প্রতিপাদ্যের ওপর নিবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী অন লাইন রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্যসংঘ দিবস এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী একটি ডাক টিকিট অবমুক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর বিএনপি-জামাত জোট আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রেখে যাওয়া অচলাবস্থা কাটিয়ে তুলে আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর বাস্তবায়ন শুরু করি।  টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তির সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে আমরা ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় মোবাইল ও ল্যান্ডফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি, যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন প্রায় সাড়ে বারো কোটিতে পৌঁছেছে। জনগণ শুধু ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার মোবাইল সিম ব্যবহার করছে। দেশের ৯৯ ভাগ এলাকা মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। দেশে ৩-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। ৪-জি প্রযুক্তিও অচিরেই চালু করা হবে।

তিনি বলেন, সাবমেরিন ক্যাবলের পাশাপাশি টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবলের মাধ্যমেও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ গড়ে তোলা হয়েছে। এখন দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আমরা পার্শ্ববর্তী দেশেও ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি করতে যাচ্ছি। যা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড ২০১১ সাল থেকে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাজনীতি আর মানুষ হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে যারা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, দেশের মানুষ আজ তাদের মুখোশ খুলে দিয়েছে। জনগণ বিএনপি-জামাতের উন্নয়ন বিরোধী, হত্যা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমকে রুখে দাঁড়িয়েছে। লাখো শহীদের রক্তে ভেজা বাংলাদেশের অগ্রগতি আর কেউ ঠেকাতে পারবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here