জনতার নিউজঃ

বিস্ফোরণে ধসে পড়েছে ওলিওর একাংশ, ব্যাপক গোলাগুলি

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালের পুরনো ভবনে বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ভবনের চারতলার একাংশ ধসে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রায় ২০/২৫ রাউন্ড গুলির শব্দও পাওয়া যায়। এখন পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বর্তমানে ভবনের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজ করছে। সিটিটিসি সূত্র জানায়, হোটেলের মধ্যে থাকা ব্যক্তি ট্রলিবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে ৩২ নম্বরে হামলার উদ্দেশ্যেই সে এখানে উঠেছিল। বিস্ফোরণে হোটেলের চতুর্থ তলার রাস্তার দিকের অংশের দেয়াল ও গ্রিল ধসে নিচে পড়ে। চতুর্থ তলার ওই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একজনের দেহও পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া সেখান থেকে বিস্ফোরণের আওয়াজের পাশাপাশি ব্যাপক গোলাগুলির আওয়াজ শোনা যায়।

অভিযান শুরুর আগে সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অভিযান শুরু আগে ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ধানমণ্ডি জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, হোটেল ওলিওকে ভোর সাড়ে ৩টা থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে ধানমণ্ডি পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, হোটেলের যে কক্ষে বিক্ষোরণ ঘটেছে, আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক যুবক সোমবার রাতে সেটি ভাড়া নেয়।

হোটেলের রেজিস্ট্রার খাতার তথ্য অনুযাযী ওই যুবকের নাম সাইফুল ইসলাম, বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়ায়। বিএল কলেজ থেকে সে অনার্স পাস করেছে। আমরা ধারণা করছি, ওই যুবকই নিহত হয়েছে। এদিকে, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল হক বলেন, ভবনের ভেতরে জঙ্গিরা নাশকতার সরঞ্জাম নিয়ে অবস্থান করছে। তবে ভেতরে ক’জন আছে এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো তথ্য আমরা পাইনি।

আইজিপি) একেএম শহীদুল হক

‘শোক দিবসে ৩২ নম্বরে যে মিছিল-সমাবেশ হবে তাতে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করেছিল ওই জঙ্গী। গতকাল থেকেই আমরা এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিলাম। এ জন্য সোমবার সারারাত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয় ও অনেক সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ফলো করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘পরে জানতে পারি এই এলাকার কোনো হোটেলে জঙ্গীরা অবস্থান নিয়েছে নাশকতার উদ্দেশ্যে। তাদের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল। পরে রাতেই গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী পুলিশ এ হোটেলে অভিযান চালায়। এ সময় হোটেলের সব কক্ষ তল্লাশি করা হলেও, এই কক্ষ (জঙ্গীর কক্ষ) ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। কেউ সাড়াও দেয়নি। এতে ভেতরে জঙ্গী রয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। পরে চারদিক থেকে হোটেলটি ঘিরে ফেলা হয়।’

আইজিপি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই জঙ্গীকে আত্মসমর্পণের জন্য বলা হলেও পৌনে ১০টার দিকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় সে। এতে হোটেলের দরজা, রেলিং ও কাঁচ ভেঙে পড়ে। এ সময় পুলিশ ওই জঙ্গীকে সুইসাইডাল ভেস্ট ও ব্যাপপ্যাকসহ দেখতে পায়। পরে তাকে গুলি করা হয়।’

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here