15 August নাছির ধ্রুবতারা:-

newsহে নূতন প্রজন্ম জাতির পিতার রক্তের ঋণ সামান্যটুকু হলে শোধ করতে আসুন ১৫ই আগস্ট আন্তর্জাতিক শোক দিবস বাস্তবায়ন ফোরামে আমরা সবাই যুক্ত হই ও একসাথে আওয়াজ তুলি—। ‘‘হে জাতির পিতা রক্ত দিয়া গড়িয়াছ বাংলা, তোমার রক্তের জয়, তোমার রক্ত মিশিয়া গিয়াছে ৩২ নম্বরের সিঁড়ি বেয়ে – পদ্মা, মেঘনা, যমুনা হয়ে সমগ্র বাঙ্গালীর হৃদয়” । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ শুধু একটি নাম এটি বাঙ্গালীর জাতি স্বত্তার পরিচয় ।

১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গি-পাড়া গ্রামে স-ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন বাঙ্গালীর এই মুক্তি-দূত, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী । যে বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিতুমীর, ঈসা খাঁ, সুযসেন, নুরুলদীন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ, বিদ্রোহী কবি নজরুল, যে বাংলার বুকে ও কবিতায় তারুণ্যের কবি সুকান্ত, জীবনানন্দ দাশ, সেই বাংলার সফল রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । তিনি ছিলেন শুধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাঙ্গালীর মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা প্রতিষ্ঠা আর বাঙ্গালী মুক্তি-সনদ ছয় দফা দিয়ে যিনি বাঙ্গালীকে দেখিয়েছেন স্বাধীনতার স্বপ্ন, মোকাবেলা করেছেন সাহসিকতার সংগে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা (রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা), স্বীকৃতি দিয়েছেন তার মুক্তি-সনদসহ ছাত্রসমাজের ১১ দফাকে। তাইতো বাংলার ছাত্রসমাজ ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেরুয়ারি রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

প্রায় ১০ লাখ ছাত্র জনতার এই সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। বঙ্গবদ্ধু মানে বাংলার বদ্ধু, তাইতো এ জাতির মুক্তির লক্ষ্যে জীবনের ৫৫টি বছরের ২৩ বছরই কাটিয়েছেন অন্ধকার জেলের বদ্ধ প্রকোষ্ঠে, তবু আপোষ করেননি, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পদ প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রস্তাব ও প্রত্যাখ্যান করেছেন ঘৃনাভরে ।তাঁর জন্য তার সেলের পাশে কবর খোঁড়া হয়েছিল, আমি মানুষ, আমি মুসলমান, মানুষ একবার মরে দুইবার না । তিনি বলেছিলেন আমার মরণ এসে থাকে যদি আমি হাসতে হাসতে মরবো, তবু আমার বাঙ্গালী জাতকে অপমান করবোনা । শুধু অনুরোধ মৃত্যুর পর আমার লাশটা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিও । আর যাওয়ার সময় বলে যাবো জয় বাংলা, স্বাধীন বাংলা, বাঙ্গালী আমার জাতি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলা আমার ঠিকানা ।বাঙ্গালী জাতি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দীঘ নয়মাস বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকার (মুজিব নগর সরকার ) এর নেতৃত্বে যুদ্ধ করে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রবের বিনিময়ে অজিত হয়েছে আমাদের মহান স্বাধীনতা ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ৯০ হাজার সুসজ্জিত পাকসেনা আত্নসমপন করে ।

মাত্র নয়মাসে কোন দেশ স্বাধীন হওয়ার ইতিহাস এই পৃথিবীতে এটিই একমাত্র । আর তা সম্ভব হয়েছে জাতির পিতার সুদূরপ্রসারী চিন্তা, সুগভীর প্রঞ্জা, আর দেশের মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা থেকে । তিনি ধীরে ধীরে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন আর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে অলিখিত এবং ঐতিহাসিক ২৬ মিনিটের যে বক্তৃতা তিনি দিয়েছিলেন তার পুরোটাই ছিল গেরিলা যুদ্ধের দিকনির্দেশনা। তার পূবে নিজের সহকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন এবং নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নিদেশ দেন । তার সহকর্মীরা তাকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বললে তিনি উত্তরে বলেছিলেন আমাকে না পেলে পাকসেনারা ঢাকা শহরের একটি মানুষকে ও জীবিত রাখবেনা, পুরো ঢাকাকে তারা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে । কতখানি গভীর আর নিঃস্বার্থ ভালবাসা থাকলে একটি মানুষ নিজেকে ও তার পুরো পরিবারের নিরাপত্তার চেয়ে জাতির নিরাপত্তাকে বড় করে দেখেছেন ।

শুধু তাই নয় তিনি গ্রেফতারের আগে ২৫শে মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন : “ This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh. Final victory is ours.” [অনুবাদ : ‘সম্ভবত: এটাই আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যাই তোমাদের হাতে আছে তার দ্বারাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দখলদার সৈন্যবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে হবে। যতক্ষণ না পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ ব্যক্তি বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে, তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’]

এই ঘোষণা বাংলাদেশের সর্বত্র ট্রান্সমিটারে প্রেরিত হয়। এর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বাংলায় লিখিত আরো একটি ঘোষণা পাঠান ঃ- “পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোন আপোষ নাই। জয় আমাদের হবেই। পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রুকে বিতাড়িত করুন। সকল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক প্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ্ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।” হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক যোদ্ধা, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান বেতার যন্ত্র মারফত তাৎক্ষণিক-ভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় সারাদেশে পাঠানো হয়। রাতেই এই বার্তা পেয়ে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর সেনানিবাসে বাঙালি জওয়ান ও অফিসাররা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা প্রচার করা হয় গভীর রাতে।

স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার অপরাধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১-১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নং বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায় এবং ২৬ মার্চ তাকে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়।তাই ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ও স্বাধীনতার পূনাঙ্গ স্বাদ বাঙ্গালী পেয়েছে ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর । এভাবেই বঙ্গবদ্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন বাঙ্গালী জাতির পিতা । দেশে ফিরে তিনি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ পূর্ণগঠনে আত্মনিয়োগ করেছিলেন ।১২ ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে মিত্রবাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করে । যা পৃথিবীর ইতিহাসে আরো একটি একমাত্র উল্লেখযোগ্য ঘটনা । কারণ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জাপানে অমেরিকার সৈন্যের অবস্থান, সৌদি, কুয়েত ও ইরাক যুদ্ধের সময় সৌদি আরব এবং কুয়েতে আমেরিকার সৈন্যের অবস্থান অদ্যাবধি বর্তমান । হয়ত এই লৌহ মানবের আরো একটি লুকায়িত ইচ্ছা ছিল, যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ জাতীয় পতাকায় যে মানচিত্র ছিল তিনি তা তুলে দেন । শুধু তাই নয়, পশ্চিম বাংলায় জন্মানো বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ১৯৭৪ সালে প্রচণ্ড রোগাক্রান্ত অবস্থায় ও বাংলাদেশের জাতীয় কবিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন ।

যারা বুঝবার তারা ঠিকই বুঝেছিল । কমনওয়েলথ সম্মেলনে বক্তৃতায় জাতির পিতা বঙ্গবদ্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন “পৃথিবী আজ বিভক্ত শাসক আর শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে” , তার এই বক্তব্য সরাসরি কটাক্ষ করেছিল তৎকালীন নব্য মার্কিন সমাজ্যবাদকে । আর বক্তব্য শেষে ডায়াস থেকে নেমে নিজ আসন গ্রহণের পূবে আরেক সংগ্রামী-বিপ্লবী ও গন-মানুষের নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুর পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন “বদ্ধু আজ থেকে একটি বুলেট তোমার পিছনে ঘুরছে, এটি যেকোনো সময় তোমাকে বিদ্ধ করতে পারে, বদ্ধু সাবধান।” আমাদের প্রিয় নেতাকে আমরা হারিয়েছি আমেরিকা সি.আই.এস. , পাকিস্তানের আই.এস.এস. আর ভারতের র এই তিনটি দেশের সব্বোচ গোয়েন্দা সংস্থার সুনিপুণ পরিকল্পনায় এদেশীয় কিছু বেজন্মার উদ্ধত বুলেটের আঁচরে ।আমার জাতির পিতা সম্পর্কে সংগ্রামী-বিপ্লবী ও গন-মানুষের নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছিলেন “আমি হিমালয় দেখিনি, বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি”। বঙ্গবন্ধুর সুনিপুণ নেতৃত্ব কিভাবে একটি জাতি মাত্র সাড়ে তিন বছরে সোজা হয়ে দাঁড়ালো ৭৪ সালের কৃত্রিম ভাবে দুর্ভিক্ষকে পাশ কাটিয়ে ।

আর ৭৫ যে জাতীয় বিপ্লবের ঘোষণা তিনি দিয়েছেন তাতে বজুয়া রাষ্ট্র আমেরিকা ও তার তাবেদার ইসরাইল ও পাকিস্তানীরা বুঝে নিয়েছিল বাংলাদেশ পরাশক্তি হতে খুব বেশী সময় লাগবেনা, কারণ দেশটি সদ্য স্বাধীন কিন্তু এই রাষ্ট্রের নেতা বঙ্গবদ্ধু ইতিমধ্যেই আসন করে নিয়েছেন বিশ্ব নেতার, গলায় ঝুলিয়েছেন জুলিও-কুরি পদক, স্বীকৃতি নিয়েছেন জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসি সহ আরো বিশ্বসংস্থার ।শুধু তাই জাতিসংঘের স্বীকৃতি লাভের পর জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে প্রথম বক্তৃতায় পুরো বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে চমকে দিয়ে আপন মায়ের ভাষা বাংলায় বক্তব্য দিয়ে ৫২ এর ভাষা শহীদদের রক্তের ঋণের প্রতি জাতির পিতা সন্মান দেখিয়েছেন।কত বড় বীর, কত বড় অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন তিনি, যা কোন বিশেষণ যুক্ত করে লেখার ভাষা আমার জানা নেই । হে আমার প্রজন্ম, হে নূতন প্রজন্ম আপনাদের জানা আছে কি???

জাতির জনক বঙ্গবদ্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কি বিশেষন দিয়ে তার সম্পর্কে লিখবো তা আমার জানা নেই, প্রশ্নটি ছিল আমার প্রজন্ম কিবাং নুতন প্রজন্মের জানা আছে কিনা ? আমি নিশ্চিত জানা নেই, জানা থাকবার কথাও নয় । কারণ আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেমন মানুষকে হেদায়েত প্রদানে নবী ও রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং আমরা যার উম্মত সেই বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে পাঠিয়েছেন সর্বশেষ নবী ও রাসূল করে আমাদের হেদায়েত প্রদানে সবশেষ্ঠ জীবন ব্যাবস্থা ইসলাম ধমকে নিজের জীবনে পরিপূন বাস্তবায়নের মাধ্যমে,তাঁর পর পৃথিবীতে কেয়ামত পর্যন্ত কোন নবী বা রাসূল আর আসবেন না ।

ঠিক তেমনি প্রত্যেকটি দেশে একজন নেতা ও তিনি পাঠিয়েছেন,যে নেতার নেতৃত্বে ঐ জাতি পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন জাতি হিসেবে পৃথিবীতে আতœপ্রকাশ করেছে অথবা ঐ নেতার বিচক্ষন দেশ পরিচালনায় পৃথিবীতে পরাশক্তিধর জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে ( এখানে অবশ্যই তুলনা করার অর্থে নয় বরং সহজ কথায় বুঝানোর জন্য নবী ও রাসূল প্রেরনের উদ্দেশ্যটি বলা হয়েছে,কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে সফল নেতা ও আল্লাহর প্রেরিত নবী ও রাসূলদের সমকক্ষ তো নয়ই বরং তাদের সামান্য সিফাতের সমকক্ষ নয় ।) কিন্তু সবই মহান আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে সংগঠিত হয় । তাই যুগে যুগে প্রত্যেক জাতিতে ও একজন অবিস্বরনীয় নেতৃত্ব জন্মগ্রহণ করেছে । যেমন- আমেরিকার আব্রাহাম লিংকন,পাকিস্থানের কায়েদ আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ভারতে নেহেরু, মালয়শিয়ায় মাহাতি মোহাম্মদ, কিউবায় ফিদেল কাস্ট্রো, মায়ারমারে অংসাং সূচি, দক্ষিন আমেরিকার বর্নবাদ বিরোধী কিংবদ্ধতী নেতা মেনসেন মেন্ডেলা, ফিলিস্তানে ইয়াসির আরাফত সহ আরো অনেকে ) । এসব নেতাকে ঐ দেশের জনগন একমাত্র অবিসংবাদিত নেতার মর্যাদাই দিয়েছে । যাদের কেউ নেতৃত্ব দিয়ে করেছেন পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত করেছেন , আবার রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজ দেশকে গড়েছেন পৃথিবীর উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে ।

আর এ ধরনের নেতা একটি জাতিতে হাজার বছর পরে একবারই জন্মগ্রহণ করেন, পৃথিবীর রাজনৈতিক ও ভৌগলিক ইতিহাস পর্যালোচনা করে এ সত্যটিই পাওয়া যায় । জাতির জনক বঙ্গবদ্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ জাতির জন্য কি আত্নত্যাগ করেছেন কিবাং তিনি এই দুই শ্রেণীর নেতাদের কোন শ্রেনীর ছিলেন সে আলোচনায় যাবার আগে ঘুরে আসি তারই লেখা দিনপজ্ঞি ,যা প্রকাশিত এক অনন্য দলিল হিসেবে বঙ্গবদ্ধুর অসমাপ্ত আত্নজীবনী, এই বইটির বই এর ২০৯ এর পাতার কয়েকটি লাইন স্পর্ষ করে মূল আলোচনায় ফিরছি “ একসময় কামাল হাছিনাকে বলছে হাচু আপা, হাচু আপা, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি । আমি আর রেনু দুজনেই শুনলাম । আস্তে আস্তে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে তাকে কোলে নিয়ে বললাম ,আমি তো তোমার ও আব্বা ।

এখন আর ও সহ্য করতে পারছেনা । নিজের ছেলে ও অনেক দিন না দেখলে ভুলে যায় ! আমি যখন জেলে যাই ওর বয়স মাত্র কয়মাস । রাজনৈতিক কারনে একজনকে বিনাবিচারে বন্দি করে রাখা আর তার আত্নীয়স্বজন ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখা কত জঘন্য কাজ তা কে বুঝবে । মানুষ স্বার্থের জন্য অদ্ধ হয়ে যায় ।” প্রশ্ন করি প্রথম নিজের বিবেককে , তারপর সমগ্র বাঙ্গালী জাতি আর আজকের তরুন নুতন প্রজন্মকে, বঙ্গবদ্ধু নিজের জীবনে গভীর ব্যাক্তিগত ক্ষতকে মেনে নিয়েছিলেন, সহ্য করেছিলেন , তা কি তার ব্যাক্তিগত অর্জনের জন্য, নাকি আমাদের ন’তন প্রজন্ম, আগত ও অনাগত আগামী প্রজন্মকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে নিজ জাতিসত্তায় বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে ও অন্যের দাসত্ব থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ? তিনি সেই নেতা ৭২ এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন,সহকর্মীদের বলেছেন জাতির পিতা কিভাবে সেই জাতির প্রধানমন্ত্রী হয় ? সেই সময় তার সহকর্মীরা বিশেষ করে ৩রা নবেম্বার জেলহত্যাকান্ডের স্বীকার এবং তার সহধর্মীনী তাকে বুঝিয়েছেন দেশকে মুসলমান নামধারী পাকিস্থানী বর্বর সেনাবাহিনী যে ধবংস স্তুপে পরিণত করেছে তাকে দাঁড় করাতে আপনাকে জাতির পিতা হয়েও এ দায়িত্ব নিতে হবে ।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ ই জুন ১৯৭২ ৬দফা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত জনসভায় জাতির পিতা বলেছিলেন “ বাংলার মাটি আমার মাটি এর বেশীতো আমি চাই নাই । আপনারাতো আমাকে সব দিয়েছেন । আপনারা তো আমাকে জাতির পিতা বানিয়েছেন । প্রধানমন্ত্রীত্ব তো আমার জন্য বড় জিনিস নয় । যা কোনদিন কোন মানুষ পায় নাই , তা আমি পেয়েছি ,আপনারা যা দিয়েছেন তা হোল আপনাদের ভালবাসা । আমাকে আপনারা দোয়া করবেন , আমি যেন আপনাদের ভালবাসা নিয়ে মরতে পারি । এর বেশী কিছু চাই না । আমার দেশের মানুষ আমাকে ভালোবাসে। তাই আমার সহকর্মীরা বললেন , তোমাকেই সবকিছুর ভার নিতে হবে । তার ফলে আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব নিতে বাধ্য হলাম । বিশেষ করে এই জন্য যে, আমার বাংলার স্বীকৃতি দরকার ।”( সংকলিতঃ- বঙ্গবদ্ধু পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত, বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবদ্ধুর দর্শন বইয়ের পৃষঠা নং-৭০)। শেখ মুজিবের বিপ্লব শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভের বিপ্লব নয়। বাঙ্গালির আধুনিক ও গণতান্ত্রিক ন্যাশন-স্টেট প্রতিষ্ঠার পর তিনি দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং শোষিতের মুক্তির লক্ষ্যে তাঁর দুঃসাহসী দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী গ্রহণ করেছিলেন। এখন অনেকেই স্বীকার করেন গান্ধী ছিলেন অহিংস, অসহযোগ ও সত্যাগ্রহ আন্দোলনের স্রষ্টা। কিন্তু তাকে সফলভাবে প্রয়োগ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন শেখ মুজিব।

তাঁর রাজনৈতিক রণনীতি ও কৌশল ছিল বাংলার সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার সংগ্রাম। নীলচাষ বিদ্রোহ ও প্রজা আন্দোলনের ধারা, গান্ধীজির সত্যাগ্রহের প্রেরণা, সুভাষচন্দ্র বসুর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের অসাম্প্রদায়িকতা, শেরে বাংলা ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তাঁর রাজনৈতিক চরিত্র গঠন করেছে। জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে নেমে তিনি হয়েছেন সমাজবাদী। পশ্চিমা গনতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি চেয়েছিলেন শোষিতের গনতন্ত্রের বাস্তবায়ন। জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তির ওপর যে অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্র তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, জনগণের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে তাকে তিনি মুক্ত সমাজবাদী চেতনা ও কর্মসূচীর সঙ্গে মেলাতে চেয়েছিলেন। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ যেন হয় বাংলাদেশের সকল ধর্মের, সকল অঞ্চলের, সকল মানুষের মিলন মোহন, বাংলা ভাষা যেন হয় বিশ্বসভায় বাঙ্গালির সভ্যতার শ্রেষ্ঠ পরিচয়, এই স্বপ্ন সাধনা নিয়েই গড়ে উঠেছে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন। তাই জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে তিনিই সর্বপ্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন। জাতিসংঘের ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করেছেন বাংলা ভাষার।

রবীন্দ্রনাথের নোবেল সাহিত্য পুরষ্কার লাভের পর এটাই বাংলা ভাষার আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই শতকের স্রাম্রাজ্যবাদ – বিরোধী ও নব্য উপনিবেশবাদ বিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে গান্ধী, টিটো নাসের সুকণ, লুম্বুবা নক্রুমার নামের পাশাপাশি শেখ মুজিব নামটি ও সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি তার স্বপ্ন সাধনা, সংগ্রামের মধ্যেই আত্মাহুতি দিয়েছেন। নিজের বুকের রক্তে, নিজের স্বজন-পরিজনের রক্তে তিনি বাংলার নতুন ইতিহাস লিখে রেখে গেছেন স্বাধীন বাংলার নতুন প্রজন্মের জন্যে। তিনি আজ বাংলার জাতীয় পতাকার নতুন রক্তসূয্য।বাংলাদেশ-বঙ্গবন্ধু এই দুটি নাম আজ অভিন্ন। বাংলার স্বাধীনতা, ভাষা, সমাজ সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে বঙ্গবন্ধু চিরকালের জন্য চিরজাগ্রত। জাতির পিতা দায়িত্ব নিয়েছিলেন, একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে দাঁড় করিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ঠিক তখনি ৭১ এর পরাজিত শক্তি , বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পাকিস্থানী সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা আই.এস.এস. এর অনুগত কিছু এজেন্ট আন্তজার্তিক ও এদেশীয় খন্দকার মোস্তাকদের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি করে জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার নীলনকশা । আর যেই দিনটি পাকিস্থান ও ভারতের স্বাধীনতা দিবস সেই ১৫ আগষ্টকে বেছে নেয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে কাপুরুষিত, বর্বর, জঘন্য হত্যাকান্ড সংগঠনের দিন হিসেবে ।

যে হত্যাকান্ডটি সরাসরি কারবালার মহাপ্রয়াণ দিবসের আরেক প্রতিছবি । খুনী এজিদ বাহিনী যেমন হত্যাকান্ডে নারী,তৃষানার্থ শিশু বাচবিচার করেনি, এ যেন তার আরেক প্রতিচ্ছবি বাংলার বুকে । কারবালার মহাপ্রয়াণ এর বিয়োগান্ত ঘটনার পর যেটি পৃথিবীর তাবৎ সকল হত্যাকান্ডের নির্মমতাকে পরাভূত করে তা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের হত্যাকান্ড । সারাবিশ্বের পরাধীন মানুষের স্বাধীনতা অর্জনের দিশারী, ভাষা সৈনিক, স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতাকে হত্যা করে ক্ষান্তহয়নি ঘৃন্য ঘাতকচক্র, পিপাসায় কাতর অবুঝ শিশু রাসেল, ছোট্র বাবু সুকান্ত আবদুল্লাহ, অন্তঃসত্তা আরজু মনি, যে মহিয়সী নারীর অনুপ্রেরনায় বঙ্গবদ্ধু হয়েছেন অবিসংবাদিত নেতা সে বঙ্গমাতা ফজিতালুননেছা মুজিব মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় যুব সংগঠন-যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি, ক্রীয়া সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবহনী স্পোটিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল, তার পত্নী জাতীয় অ্যাথলেট সুলতানা কামাল, বঙ্গবদ্ধুর তনয় সদ্য সেনাবাহিনীর কমিশনিং অফিসার শেখ জামাল, তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী রোজি জামাল (যার হাতে তখন বিবাহকালীন মেহেদির দাগ), দেশ সেবায় নিয়োজিত মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাদ, বঙ্গবদ্ধুর আপন সহোদর শেখ আবু নাসের, বঙ্গবদ্ধুর নিরাপত্তা সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল জামিল বীর উত্তম,এই রকম খ্যাতিমানদের সাথে যাদের কথা ইতিহাসে লেখা হয়না বা যাদের লাথি মেরে তির®িকৃত করে প্রাণ ভিক্ষা দিতে পারতো সেই লক্ষীর মা ও পোটকা পর্যন্ত রক্ষা পায়নি এজিদের অনুসারী ঘৃন্য ঘাতকের বুলেটের আঘাত থেকে ।

এই বর্বর হত্যাকান্ড র্পথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু, পশ্চিম মেরু থেকে পূর্ব মেরুতে সকল মানবতাকে শোকবিহবল করে , আর আমাদের জাতিসত্ত্বাকে করেছে কলংকিত, আমরা পরিণত হয়েছি বেঈমান জাতি হিসেবে । তাই বাঙ্গালীর জাতীয় শোক দিবস একদিকে আন্তজার্তিক পরিমন্ডলে ব্যাপ্ত হয়েছে । আর অন্যদিকে সত্য, সুন্দর আর স্বাভাবিকতা, মনুষত্যবোধ এর পরাজয় এজিদের বর্বরতার জয় হয়েছে । তাইতো এজিদের অনুসারীদের বিকৃত মস্তিকের অধিকারী সীমাররূপীদের শোক দিবসে কেইক সংস্কৃতির চর্চা এখনো আমাদের চোখ খুলে মুখ বুঝে কেন দেখতে হবে ? আমাদের পূববর্তী প্রজন্ম যদি ৩০ লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মাবোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা দিয়েছেন, সেটি কি জাতির পিতার স্বপরিবারে দেওয়ার্ রক্তের উপর দাঁড়িয়ে বেইমান জাতি হিসেবে আমরা ভোগ করি এজন্যে? তাহলে আমাদের আগত ও অনাগত প্রজন্ম কি আমাদের ক্ষমা করবে ? রাজাকার না হয়ে ও একোন অভিশপ্ত রাজাকারে পরিণত হয়েছি আমরা । না , এ অপবাদ, জাতির পিতার রক্তের ঋনের দায় সামান্য হলে শুধতে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বেইমান নয় বরং সাহসী বীরের জাতি হিসেবে স্বমহিমায় পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে এ দায়িত্ব নুতন প্রজন্মের আমার আপনার সকলের । আসুন আপনার জায়গা থেকে, আপনার সাধ্যের ভেতর এ জাতীয় কলংক মোচনে হাতে হাতে ঐক্যবদ্ধভাবে আরেকবার দাঁড়াই, আর বিশ্বসভায় সমগ্র জাতি এক হয়ে দাবী জানাই “ ১৫ ই আগষ্ট আন্তজার্তিক শোক দিবস হিসেবে জাতিসংঘ, ঘোষনা করুন ।

১৫ ই আগষ্ট শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতির পিতার ১০ ই জানুয়ারী ১৯৭২ কবিগুরুকে উদ্ধৃত করে বঙ্গবদ্ধুর সেই তেজদিপ্ত কন্ঠের আওয়াজ এর সাথে একমত হয়ে আমরা নুতন প্রজন্ম আবারো একদিন বলতে চাই “কবিগুরু বলেছিলেন হে বঙ্গজননী সাড়ে সাত কোটি মানুষকে রেখেছো বাঙ্গালী করে মানুষ করোনি , কবিগুরু মিথ্যে বলেছিলেন, আজ আমার বাঙ্গালী মানুষ হয়েছে, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে” জয় বাংলা, জয় বঙ্গবদ্ধু, জয়তু দেশরত্ন শেখ হাছিনা, ১৫ ই আগষ্ট শহীদদের স্মৃতি অমর হোক ”

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here