new

সাহিত্য প্রতিবেদকঃ-

মাওলানা ভাসানী এসেছেন সিলেটে, তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। বিপুল আয়োজন।

সংবর্ধনার ভাষণ শুনে ভাসানী হকচকিয়ে গেলেন। কারণ, ভাষণ দেওয়া হলো উর্দুতে।

ভাষণে বলা হলো, ইসলামের খাদের মজলুম এই নেতাকে অশুদ্ধ উচ্চারণের সিলেটি বাংলায় সংবর্ধনা দেওয়া যায় না। এতে তাঁর কান জখম হবে। তাই উর্দু ভাষায় ভাষণ দিচ্ছি। বক্তার নাম কাপ্তান মিয়া। বক্তৃতা শুনে ভাসানী কিন্তু মুগ্ধ। তিনি কাপ্তান মিয়াকে শুদ্ধ উর্দুতে জবাব দিলেন। মূল বক্তৃতা বাংলাতেই দিলেন।

মাওলানা ভাসানীর সেই সময়ের কাণ্ডকারখানা অনেকে রহস্যময় মনে করছিল। আয়ুববিরোধী আন্দোলনে তিনি যাননি। ভারতীয় চরেরা বলে বেড়ায়, আয়ুব খানের প্রতি আনুগত্যের কারণেই তিনি জেলের বাইরে। তিনি এইসব কথা কানে তোলেন না। এইসব ভারতীয় হিন্দুদের কুৎসা। মাওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলে বলেছেন, এই দেশ ঈমানদার মোসলমানের দেশ। হিন্দুদের ঘরে আগুন লাগাও, তাদের জ্যান্ত পুড়িয়ে ফেল।

এবার সিলেটে ঘোষণা দিলেন, গ্রামে গ্রামে চোর-ডাকাত ধরবেন। বিশেষ করে গরুচোরদের ধরার কঠোর নির্দেশ দিলেন।

সংবর্ধনার পর কাপ্তান মিয়া বললেন, হুজুর, গরীবের বাড়িতে দুইটা ডাল-ভাতের আয়োজন করেছি।

কাপ্তান মিয়ার মেয়ে জাহেদা ভাসানীকে কদমবুচি করলেন। কাপ্তান মিয়া ধমক দিয়ে তাকে বোরখা পরতে বললেন। ধমক শুনে জাহেদার চোখে পানি চলে আসলো। ভাসানী বললেন, পর্দা নবীজির স্ত্রীগণের জন্য। সাধারণ মানুষের জন্য পর্দা ফরজ না।

জাহেদা খুশি হয়ে চোখ মুছল। কাপ্তান মিয়া ডাল-ভাতের আয়োজন করতে গেলেন। ভাসানী দোয়া দেয়ার জন্য জাহেদাকে কাছে টেনে নিলেন। দোয়া করতে জাহেদার পিঠ ঘষে দিচ্ছিলেন। জাহেদার ভালই লাগছিল। ভাসানী দু’দিন সিলেটে থাকার কথা ভাবলেন। বয়স হয়েছে, কিছু বিশ্রামের দরকার।

(হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘মন্দ্রসপ্তক’, পৃষ্ঠা নং: ১৯০)

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here