ফাইল ছবি

রংপুর নগরীর রাজেন্দ্রপুর বনিটারি এলাকায় এক হিন্দু পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় প্রকাশ্যে বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর, নগদ অর্থসহ জমির কাগজপত্র ও ২টি বলদ গরু লুট করে নিয়ে গেছে দুবৃর্ত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার দুপুরে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর ৩ দিনেও মামলা রেকর্ড করেনি কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে আবারও হামলার আশঙ্কায় পুরো পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে নগরীর রাজেন্দ্রপুর বনিটারি এলাকার কামিক্ষা চন্দ্র বর্মনের ছেলে কার্তিক চন্দ্র বর্মনের কাছে একই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোল্ডস্টার কার্তিকের কাছে মোবাইল ফোনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে টাকা না দিলে হত্যা করার হুমকি দেয়। কেন চাঁদা দিতে হবে জানতে চাইলে হিন্দু হিসেবে বসবাস করতে হলে চাঁদা দিতে হবে বলে জানায়। কার্তিক টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে গোল্ডস্টার তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। বুধবার দুপুরে গোল্ডস্টার ও তার সহযোগী ফজলার, জিয়ারুল, বাবুসহ কয়েকজন অজ্ঞাত সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে তিনটি মোটরসাইকেলে করে কার্তিকের বাড়িতে আসে। বাসায় এসে তারা কার্তিক কোথায় বলে তার স্ত্রী দীপালী রানীর কাছে জানতে চায়। এ সময় কার্তিক বাসায় নেই জানালে সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে আসাবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় তারা আলমারি ভেঙে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বাড়িতে পোষা দুটি বড় আকারের বলদ গরু লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় আশেপাশে অন্যান্য হিন্দু পরিবারের লোকজন থাকলেও তারা কেউই ভয়ে সেখানে আসেনি বলে জানায় কার্তিক চন্দ্র। এ ঘটনায় বুধবার রাতে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে অভিযোগটি রেখে দেয়। কার্তিক চন্দ্র জানায়, এ সময় কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া জানান, ‘আপনি কেন সাংবাদিকদের দিয়ে ফোন করান, সাংবাদিকদের কথায় কি মামলা হবে নাকি প্রধানমন্ত্রীর কথায় হবে’। কার্তিক জানায় তিনি কোন সাংবাদিককে বলেননি। তবে ঘটনার পর কয়েকজন সাংবাদিক এখানে এসেছিল। এ সময় ওসি সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর ছাড়া মামলা নেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন বলে কার্তিক চন্দ্র অভিযোগ করেন।

এ ঘটনার পর ৩ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও কোন মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ, এমনকি আসামিদের গ্রেফতারও করা হয়নি বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে শুক্রবার ঘটনাস্থল বনিটারি মহল্লায় গিয়ে কার্তিকের স্ত্রী দীপালী রানী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল কোন কারণ ছাড়াই চাঁদা দাবি করে আসছিল গোল্ডস্টার নামে যুবকটি। দীপালী রানী জানান, একদিন পর দুলাল নামে এক এসআই এসেছিল। গত বৃহস্পতিবার কয়েকজন যুবকের দ্বারা লুট করে নিয়ে যাওয়া গরু দুটি ফেরত দিয়ে গেছে। তবে ৫০ হাজার টাকা আর জমির কাগজপত্র ফেরত দেয়নি। কার্তিক চন্দ্র জানান, তিন দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ আসামিরাও গ্রেফতার হয়নি বরং তারা উল্টো নানান হুমকি প্রদান করছে।

বনিটারি মহল্লার কয়েকজন হিন্দু অধিবাসী জানান, তারা গ্রামের এক পাশে কয়েকটা হিন্দু পরিবার বসবাস করে। আশেপাশে তাদের বাড়িঘর ছাড়া আর কারও বাড়ি নেই। গোল্ডস্টার তাদের প্রায়শই বিভিন্ন ছলছুতায় নানান হুমকি-ধামকি দেয়। এর আগে পার্শ্ববর্তী এলাকার জগদীশ চন্দ্র নামে এক যুবককে আটকে রেখে বিকাশের মাধ্যমে তার স্বজনদের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন এ ঘটনার পর তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে গোল্ডস্টারের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন কার্তিকের কাছে টাকা পান এ জন্য তাকে ফোন করেছিলেন। গরু ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া জানান গোল্ডস্টারের সঙ্গে টাকার লেনদেন রয়েছে বলে জানা গেছে। কার্তিক চন্দ্রের লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন
  • 6.4K
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here