new
দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে চলমান সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। এমনকি ঘাতকদের হিটলিস্টে দেশের শীর্ষ নেতাদের নামও রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওই প্রতিবেদনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষায় ইসিকে পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এদিকে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত শতাধিক প্রার্থী ইসির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

ইসি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বৈঠকে সারাদেশের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, সামনে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। আরেকটি গোয়েন্দা সংস্থা কমিশনে জমা দেয়া তাদের আড়াইশ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে সারাদেশে সংঘাত ও হামলার শঙ্কার কথা তুলে ধরেছে। এতে নির্বাচন উপলক্ষে চলমান সহিংসতা কয়েকগুণ বাড়বে বলেও জানানো হয়। দেশে রাজনৈতিক হত্যার আশঙ্কাও করা হয়। জ্বালাও-পোড়াও থেকে সরে এসে জামায়াত-শিবিরসহ অপরাধী গ্রুপগুলো হত্যাকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। আর দেশের শীর্ষ নেতাদের নাম তাদের হত্যার হিটলিস্টে রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মূলত নির্বাচনের আগে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতেই বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার ছক আঁকা হচ্ছে বলে ইসিকে তারা জানায়। এরই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক জন ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সারা দেশে অপরাধী, অবৈধ অস্ত্রধারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দেশের সামগ্রিক সহিংস অবস্থায় নির্বাচনী কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব কামরুল হাসান নিরাপত্তা জোরদারে ব্যবস্থা নিতে ইসিতে চিঠি দিয়েছেন। এছাড়াও চলমান সহিংসতায় মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) ও ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ। তারা নিরাপত্তা গ্রহণে ইসির প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তাকে জানিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। শিগগিরই পরিস্থিতির আরো উন্নয়ন ঘটবে। যেসব প্রার্থী নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে কমনওয়েলথ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র।

নিরাপত্তা চেয়েছেন শতাধিক প্রার্থী

নির্বাচনে কমিশনে নিরাপত্তা চেয়ে ইতিমধ্যে একাধিক প্রার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনএফের ২৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার প্রায় শতাধিক প্রার্থী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ব্যক্তিগত উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপত্তা চেয়েছেন। গত মঙ্গলবার কমিশনের কাছে নিজে ও পরিবারের জন্য নিরাপত্তা চান আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী মাহবুব-উল-আলম হানিফ। এর আগে আওয়ামী লীগের কুষ্টিয়া-১-এর সংসদ সদস্য প্রার্থী আফাজ উদ্দীন ও কুষ্টিয়া-৪ আব্দুর রউফও ব্যক্তিগত এবং নির্বাচনী প্রচারণায় নিরাপত্তা চেয়ে কমিশনে চিঠি দেন। এছাড়া বরগুনা-১-এর বিএনএফের প্রার্থী খলিলুর রহমান খান এবং পাবনার স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক তথ্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদও কমিশনে একই দাবি করেন। এদিকে আগে থেকেই কমিশনের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া নিরাপত্তা নিয়ে চলাচল করছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here