Main man

news

দেশের সকল আইন-কানুন বিধি-বিধানকে হার মানিয়ে হত্যা চার্জশীটভুক্ত ১নং আসামী মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিনে থেকে ঐ জেলারই স্বাস্থ্য বিভাগের সব্বোর্চ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে কর্মরত!! ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালী জেলায় । অনুসদ্ধানে জানা যায় ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, নোয়াখালীর তত্ত্বাবধায়ক পদে বর্তমানে কর্মরত ডাঃ এ বি এম আহসান উল্ল্যা, যার বিরুদ্ধে তারই ছেলের বৌকে যৌতুকের জন্য নির্মমভাবে হত্যার দায়ে ২৩/০৪/২০১২ইং তারিখে বেগমগজ্ঞ থানায় ১১(ক)/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয় , যার নং -৪২ । পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ডাঃ এ বি এম আহসান উল্ল্যা সহ এজাহারে উল্লেখিত ৪ জন আসামী সবার বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন ।

পরবর্তীতে মামলার আসামীগন বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করে মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য একখানা আর্জি নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারক জনাব, সাঈদ আহমেদ বরাবরে জমা দেন । উক্ত আর্জির প্রেক্ষাপটে সকল পক্ষের প্রয়োজনীয় শুনানি শেষে বিগত ২০/০৩/২০১৩ইং তারিখে আদালত অব্যাহতির আবেদন না মজ্ঞুর করেন এবং উক্ত আদেশে সকল আসামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক)/৩০ ধারায় অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন ও ২৪/০৪/২০১৩ ইং তারিখ বিচার ও স্বাক্ষীগনের প্রতি সমন জারির আদেশ প্রদান করেন । তখন ডাঃ এ বি এম আহসান উল্ল্যা মহামান্য হাইকোর্ট একটি রিট পিটিশান করেন । যার প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি জনাব, সালমা মাসুদ চৌধুরী ও মাননীয় বিচারপতি জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের দ্বৈত বেঞ্চ ছয় মাসের মধ্যে কেন মামলাটি খারিজ করা হবেনা অথবা অন্য কোন আদেশ প্রদান করিবেন না তাহার কারণ জানানোর জন্য নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ প্রদান করেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ প্রদান করেন ।

তিনি বিগত ১৩/০৪/২০১৪ ইং তারিখে পুরো নোয়াখালী বাসীকে বিস্মিত করে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে যোগদান করেন এই হত্যা মামলার ১নং অভিযুক্ত আসামী ডাঃ এ বি এম আহসান উল্ল্যা । এখানে উল্লেখ্য তিনি যে হত্যা মামলার আসামী সেই মৃতের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এই হাসপাতালেই । উক্ত ময়না তদন্তটি পরোপুরি সরকারি বিধি মোতাবেক ৫ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ডের সমন্বয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর রিপোর্ট প্রদান করা হয় । অনুসদ্ধানে জানা যায় ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ডাঃ এ বি এম আহসান উল্ল্যা যোগদানের পর থেকেই উক্ত মেডিকেল বোর্ডের ডাক্তারদের নানাভাবে হয়রানি করে চলেছেন এবং উক্ত বোর্ডের ডাক্তারদের তখন চাপে পড়ে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন এ মর্মে তাকে লিখে দিতে ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছেন। শুধু তাই নয় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সব্বোর্চ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে কর্মরত হবার সুবাদে মামলার বাদী, সাক্ষীসহ নিহতের পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য নানা হুমকি দিচ্ছেন । ফলে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতার মাঝে দিন কাটাচ্ছেন ।

father of victim

এ ব্যাপারে নির্মম হত্যার স্বীকার ফারহানা নূর এর পিতা ও মামলার বাদী জনাব সাব্বির আহম্মেদ জনতার নিউজের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন আমার মেয়ের খুনী কিভাবে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সব্বোর্চ পদে চাকুরী করে এর প্রতিকার আমরা আপনার নিকট আশা করি এবং আমার পরিবারকে মামলা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও আইনী সহায়তা প্রদানের জন্য ও তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন জানান । এ ব্যাপারে তিনি ১৮/১০/২০১৪ ইং তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত আবেদন ও প্রেরন করেন । উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে ডাঃ এ বি এম আহসান উল্ল্যার বক্তব্য নিতে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গেলে তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি, তবে মিলেছে আরো চমকপ্রদ তথ্য । জানা যায় তিনি হাসপাতালের প্রধান হলে ও ঠিকমত কর্মস্থলে আসেন না, আসলে ও অনেক দেরীতে আসেন এবং ঘন্টাখানিকের মধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেন । তিনি তার ব্যাক্তিগত ক্লাসিক হাসপাতাল, চৌমুহনীতেই বেশীর ভাগ সময় অবস্থান করেন । ফৌজদারী অপরাধ জানা সত্ত্বে ও তার অফিস কক্ষে নিজ চেয়ারে বসে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনান্য ভিজিটরদের সামনে ধুমপান করেন ।

এছাড়া তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে বসে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করেন বলে ও অভিযোগ রয়েছে । যার জন্য তার কক্ষে প্রবেশের প্রধান দরজাটি সকল সময় আটকানো থাকে । অনুসদ্ধানে তার প্রকাশ্যে ধুমপান ও কক্ষে প্রবেশের প্রধান দরজাটি সকল সময় আটকানো থাকার বিষয়ে শতভাগ সত্যতা পাওয়া যায় । তিনি যোগদানের পর নির্বাচিত ডাক্তারদের প্রতিনিধি বিএমএ নোয়াখালী জেলার সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক এবং সরকার দলীয় ডাক্তারদের সংগঠন স্বাধীনতা চিৎকিসক পরিষদের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামাত পন্থী ডাক্তারদের নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন । তার বিরুদ্ধে জেলা উন্নয়ন সম্বন্বয় সভায় নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি জনাব আলমগীর ইউছুপ, বি.এম.এ. ও স্বাধীনতা চিৎকিসক পরিষদের সাধারন সম্পাদক ডাঃ আবদুস সাত্তার ফরায়েজী সহ একাধিক জেলার উন্নয়ন সম্বন্বয় কমিটির সন্মানিত সদস্যগন অভিযোগ করেছেন একাধিকবার । হাসপাতালে সকল ঠিকাদারী কাজের জন্য তাকে ৫% অগ্রিম ঘুষ প্রদান করতে হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জনতার নিউজ কে জানান । এছাড়া ও কোরিয়াগামীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার একটি প্যাকেজ বর্তমানে হাসপাতালে চলমান আছে ।

এই স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ৯০ ভাগ পরীক্ষা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বিদ্যমান থাকলে ও তা নোয়াখালী প্রাইভেট হাসপাতালে করার জন্য প্রেরন করা হয় । আর রিপোর্ট নিয়ে আসলে প্রয়োজনীয় সনদ দিতে তত্ত্বাবধায়ক এর নির্দেশে ২০০০/- ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ আছে । আর এ কাজের জন্য তত্ত্বাবধায়ক তার ব্যাক্তিগত স্টাফ রুবেলকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সে সরকারি বা জনবলের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়ে ও সরাসরি হাসপাতাল প্রশাসন শাখায় অবস্থান করে । উক্ত হাসপাতালে প্রধানসহকারীর কোন পদ বিদ্যমান না থাকলে ও প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষককে ডাঃ এ বি এম আহসান উল্ল্যা প্রধানসহকারী লেখা একটি রুম বরাদ্দ করে দিয়েছেন । মূলত হাসপাতালে সকল অপকর্ম ও ঘুষ আদান প্রদান এই রুমটিতেই সংগঠিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে । এছাড়া সরকারিভাবে হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত বিভিন্ন খাতের টাকা ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে আৎসাতের অভিযোগ রয়েছে । যার মধ্যে স্বাস্থমন্ত্রণালয় হতে বরাদ্দকৃত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কোডনং-৪৮৭৫ এর ৫৩,০০০/- টাকা হাসপাতালের ঝোপ-জংগল পরিষ্কারের ভুয়া ভাউচার বানিয়ে হাসপাতালে কর্মরত মালী আবদুল জলিলকে দিয়ে জমা দেখিয়ে বিগত ১৭/০৯/২০১৪ ইং তারিখে নিজে অনুমোদন দিয়ে উক্ত টাকা আতœসাত করেন ।

আর বাগান মালী হলে ও আবদুল জলিল বির্তকিত প্রধান সহকারীর নুতন রুমটিতে অবস্থান করে বিভিন্ন অপকর্ম করে । সর্বোপরি হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী তত্ত্বাবধায়ক রুপে যোগদানের পর হাসপাতালটির সকল স্তরে চরম বিশৃঙ্গলা বিরাজ করছে । তাই অবিলম্বে হত্যা মামলার অভিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এ বি এম আহসান উল্ল্যাকে অবিলম্বে উক্ত পদ থেকে সরিয়ে তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগের বিভাগীয় তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা গ্রহণ সকল সচেতন ও বিবেকবান মানুষের দাবী । সেই সাথে সাথে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তার বিরুৃদ্ধে বিচারাধীন মামলা নং-১৪৮৩/২০১২ ইং এর সকল বিচারীক বাধা অপসারন করে ফারহানা নূর এর হত্যাকারীদের প্রকৃত বিচারের জন্য সরকারের সব্বোর্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন হত্যার স্বীকার হওয়া নিহতের পরিবার সকল সচেতন মানুষ ।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here