জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে আটক করেছে সাদা পোশাকধারী পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা পৌণে ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের পূর্ব প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করে। এ সময় হঠাৎ কে বা কারা সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের দিকে মোটরসাইকেল চালকদের কয়েকটি হেলমেট ছুড়ে মারলে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজেদের কাছে থাকা অস্ত্র উঁচিয়ে ধাওয়া শুরু করেন। হঠাৎ এ দৃশ্যে ভড়কে যান প্রেসক্লাবের প্রাঙ্গণে থাকা অনেকেই। অনেকেই বুঝতে পারছিলেন না অস্ত্রধারীরা কারা। এটা বিএনপির সমাবেশ কেন্দ্র করে পক্ষ বা বিপক্ষের মধ্যে হামলা মনে করে আতংক চলছিল। এক পর্যায়ে বিএনপির মানবন্ধনে আসা কিছু লোকজন তাদের দিকে মারমুখী হয়ে উঠলে অস্ত্র হাতে থাকা পুলিশ সদস্যরা ‘আমরা পুলিশ পুলিশ’ বলে চিৎকার করতে থাকে। 
 
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন সাংবাদিক জানান, অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া দেওয়ায় প্রেসক্লাবের প্রাঙ্গণে থাকা সাংবাদিকসহ অনেকেই দৌড়ে বাইরে চলে যান। বাইরে বিএনপির মানববন্ধন থেকেও অনেকেই চলে যান। শুরুতে তারা বুঝতেই পারেননি অস্ত্র হাতে এরা কারা। তারা মনে করেছিলেন, অস্ত্রধারীরা নাশকতা করার চেষ্টা করছে। ঢাকার মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, শফিউল বারী বাবুকে প্রেসক্লাব থেকে আটক করে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।
 
মির্জা ফখরুলের নিন্দা
এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
 
মির্জা ফখরুল বলেন, বাবুকে গ্রেফতারের ঘটনা বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর নীতি-নৈতিকতা বিরোধী, নির্মম ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতা। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট ও হাস্যকর মামলা দায়ের করে গ্রেফতারের মাধ্যমে তাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মির্জা আলমগীর বলেন, এভাবে একটা দেশ চলতে পারেনা, চলতে দেয়া যায়না। বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে শফিউল বারী বাবু’র বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও শর্তহীন মুক্তির জোর দাবি জানান।
শেয়ার করুন
  • 7
    Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here