.sharobeem
মিসরের ১৪ বছরের কিশোরী ইমান শারোবিমের বিয়ে হয় চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে। বিয়ের পরই স্বামী তাকে নিয়ে চলে যায় অস্ট্রেলিয়ায়। এরপর ১৪ বছর পার হয় নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন মধ্য দিয়ে। এ থেকে শারোবিম মুক্তি পান যখন স্বামী মারা যায়। জীবন-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে পারিবারিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি। বেছে নেন সমাজকর্মীর জীবন। এরপর একই যন্ত্রণায় যারা বিদ্ধ তাদের পাশে দাঁড়াতে থাকেন। তবে পরিবারের সম্মানের কথা বিবেচনা করে নিজের যন্ত্রণার কথা গোপন রাখেন।

‘ঘরের মধ্যে নির্যাতন মুখ চেপে সহ্য করেছি। কখনো পুলিশকে জানানোর চেষ্টা করিনি। সে আমার চাচাতো ভাই ছিল। মনের ভিতর কষ্ট চেপে স্বাভাবিক স্ত্রীর ভান করেছি। আমি লজ্জিত যে ভেতরে-বাইরে এক ছিলাম না। সব সময় ভীত থাকতাম, আমার দুই সন্তানকে রক্ষার চেষ্টা করেছি, পরিবারের সম্মান রক্ষার চেষ্টা করেছি।’

এরপর নিজের জীবন গড়ে অ্যাডভোকেট হওয়ার পর যখন গৃহ-নির্যাতন নিয়ে কাজ করতে থাকেন তখন জানতে পারেন আরো অনেকের জীবন কাহিনী। যা তার জীবনের মতই।

অল্পবয়সী মেয়েদের কর্তব্য হচ্ছে, বাবা-মা যা বলে তা মান্য করা। মিসরের সমাজের মত অস্ট্রেলিয়াতে বসবাসকারী আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে এটা বজায় রয়েছে। অনেক প্রজন্ম পরেও জোরপূর্বক বিয়ে অব্যাহত রয়েছে, বরং আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।

সমাজকর্মীদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় আগত আরব নারীরা নিজের ঘরে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিপীড়ত হন। শিক্ষার্থী হিসেবে আসা নারীরাও এ থেকে রেহাই পান না।

ইমান শারোবিমের কাছে নির্যাতিতা এক নারী তার যন্ত্রণার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমি আমার স্বামীর মেরিল্যান্ডে বাড়িতে যৌনদাসী হিসেবে বন্দী থেকেছি। সংসারে কাজ করেছি দাসী হিসেবে। আমি স্ত্রী হিসেবে ভালো আচরণ পাইনি। একটি গ্যারেজে দুই সন্তান নিয়ে তালাবদ্ধ হিসেবে দিন পার করেছি। কোথাও যাবার অধিকার ছিল না। ধর্মীয় কাজেও বাইরে যেতে পারতাম না।’

এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে তিনি পুলিশের সাহায্য পান। এতে ক্রুদ্ধ স্বামী ইমিগ্রশান বিভাগের কাছে অভিযোগ করেন যেন তার স্ত্রী স্পাউজ ভিসা বাতিল করা হয়। আইন অনুযায়ী এমন ভিসা বাতিলের আগে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়। এ সময় তার কোনো টাকা ছিল না, থাকার জায়গা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে শারোবিম তার পরিচিতজনদের মাধ্যমে সেই নারীকে আশ্রয় দিয়ে সরকারী আশ্রয়ের আবেদন করেন। এভাবেই তিনি চেষ্টা করেন নির্যাতিতা নারীদের সাহায্য করতে। [সিডনি মর্নিং হেরাল্ড]

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here