image_71154.govtজঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাওহীদ ও আনসার উল্লাহ বাংলা টিমকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে আরও পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছে গোয়েন্দাদের। তার পাশাপাশি অন্য সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড নজরদারি ও আত্মগোপনে থাকা সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং জামিন বাতিল করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ময়মনসিংহের ত্রিশালে পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গি ধরা না পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বৈঠকে। আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জঙ্গি সংক্রান্ত বৈঠকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেনতা বৃদ্ধি ও অর্থায়ন রোধ করতে বিশেষ প্রদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। জঙ্গিদের যারা লালন-পালন করে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, আইন, বিচার, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, স্থানীয় সরকার ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিজিএফআই, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং এনএসআইয়ের প্রধানসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই গত দশ বছরে জঙ্গি গ্রেপ্তার এবং তারা কিভাবে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে ময়মনসিংহের ত্রিশালে দুই জঙ্গি জাহিদুর রহমান ওরফে বোমারু মিজান ও সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীনকে ধরতে কিছু কৌশল নেওয়া হয়। গোয়েন্দারা কর্মকর্তারা বৈঠকে জানান, তাদের ধরতে সীমান্ত এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাড়াশি অভিযান চলছে। তারা এখনো দেশের বাইরে পালিয়ে যাননি বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন। জেএমবিসহ নিষিদ্ধ ৫ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি এখন নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে হিযবুত তাওহীদ ও আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের তত্পরতা নিয়ে। তারা এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক তত্পরতা চালিয়ে আসছে। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত থাকা সদস্যরা বলেছেন-এ দুটি সংগঠনকে নিষিদ্ধের ব্যাপারে আরো পর্যালোচনা করা উচিত। পরে বৈঠক থেকে বলা হয়- গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিবে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের সাংবাদিকদের বলেন, গোয়েন্দারা সুপারিশের ভিত্তিতে এ দুটি সংগঠনকে শিগগির নিষিদ্ধ করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য সংগঠনগুলোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হবে। তবে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে কিছু রাজনৈতিক বিষয় জড়িত আছে। তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বেশির ভাগ কর্মকর্তাই বলেছেন-যেসব সংগঠনের বিরুদ্ধে জঙ্গি তত্পরতার অভিযোগ আছে সেগুলোকে বাজেয়াপ্ত করাই উত্তম। কারণ হিসাবে তারা উল্লেখ করেন-নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর পলাতক সদস্যরা অন্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে আতাত করে নাশকতামুলক কর্মকাণ্ড চালাবে। তাছাড়া জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করার পর এজাহারে কঠিন ধারা সংযুক্ত করতে হবে। তাহলে জঙ্গিরা সহজেই জামিন পাবে না। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। কালো তালিকাভুক্ত সবকটি সংগঠনগুলোর ব্যাপারে আরও নজদারী বাড়াতে বলা হয়েছে। ত্রিশালে পলাতক জঙ্গিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরকার সবসময় হার্ডলাইনে। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জঙ্গি অর্থায়নের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও নজরদারী বাড়ানো হবে। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জঙ্গিদের পক্ষে অর্থায়ন করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের জঙ্গিবাদ বিরোধী সচেনতা বাড়ানো হবে। এই জন্য শিক্ষকদের সহযোগিতা চাওয়া হবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here