newবার্সেলোনার হয়ে ২৭৭ ম্যাচে ২৪৩ গোল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৮৬ ম্যাচে ৬৭টি, ছয়টি লা লিগার শিরোপা, তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, চারটি ব্যালন ডি’অরের সেরার মুকুট — এতো সব অর্জন তার পায়ের তলায় এসে লুটিয়ে পড়েছে। কিন্তু সর্বকালের সেরা হতে তো বিশ্বকাপ জিততে হবে। অনন্য কীর্তিগুলো তাই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছিল বিশ্বকাপে বড় কিছু করতে না পারার কারণে। তাই লিওনেল মেসি হয়ে উঠতে পারেননি ম্যারাডোনা, পেলে, রোনালদো কিংবা জিদান। হয়ে উঠতে পারেননি কিংবদন্তী।

কিন্তু এবারের ব্যাপারটা ভিন্ন। ভিনগ্রহের ফুটবলার ব্রাজিলে এসে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। গোল করা, বল বানিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে দলের সব পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে তাকে ঘিরে। পাঁচ ম্যাচে চার গোল করেছেন, এমনকি সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার বানিয়ে দেয়া বল থেকেই গোল করেছেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। তাই আজকের সেমিফাইনালেও মেসির কাছ থেকে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সেরই প্রত্যাশা করবে আর্জেন্টিনা।

কিন্তু, এদিকে আর্জেন্টিনা যে পড়েছে নতুন বিপদে। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ঠাঁই করে নেয়া দলটি শেষ চারের লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দলে পাচ্ছে না আরেক তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। এর অর্থ কি দাঁড়াচ্ছে? অতিরিক্ত দায়িত্বটা এবারও অধিনায়ক মেসির কাঁধেই এসে ভর করছে!

রিয়াল মাদ্রিদের প্লে-মেকার মারিয়া ব্রাসিলিয়ার স্ট্যাডিও ন্যাসিওনালের মাথে বেলজিয়ামের বিপক্ষে উরুর ব্যথা নিয়ে মাঠ ছেড়ে যান। পড়ে ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা যায় মাংসপেশী ছিঁড়ে যাওয়ার কারণেই ব্যথা হচ্ছে। ইনজুরির মাত্রা এমন যে, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই খেলোয়াড়ের বিশ্বকাপটাও শেষ হয়ে গেছে। তাই আজ সাও পাওলোতে খেলা হবে না তার।

মারিয়ার পরিবর্তে মেসিকেই বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করছেন সাবেক স্প্যানিশ কিংবদন্তী রাউল গঞ্জালেস। ভারতীয় দৈনিক টাইম অব ইন্ডিয়াকে তিনি বলেন, ‘এর ফলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের উপর থেকে কিছুটা চাপ কমে গেল। তারা এখন কেবল মেসিকে নিয়েই আলাদা করে ভাবতে পারবে। মারিয়ার দক্ষতা ও গতি আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে নতুন একটা মাত্রা যোগ করতে পারতো। তার অনুপস্থিতির অর্থ হল মেসির উপর চাপ বেড়ে যাওয়া। বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সেমিফাইনালের দিন চাপে থাকবেন, বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবেন। গোটা বিশ্বের জন্যও ব্যাপারটা হবে দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার মেসি-নির্ভরতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলে আসছেন। সাবেক রিয়াল তারকা রাউল অবশ্য এখানে বড় কোন সমস্যা দেখছেন না। বরং এটাই আর্জেন্টিনার কৌশল হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি, ‘আর্জেন্টিনা আগের ম্যাচগুলোতেও তার উপরই নির্ভর করেছে। সেগুলোর সবগুলোতেই দলটি জিতেছে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে যে, কাজটা বেশ ভালভাবেই করতে পেরেছে তারা। আমার মতে তাদের এই কৌশলটাই ধরে রাখা উচিত। আর মেসিকে আটকানো তো সহজ কথা নয়। মেসিকেই মূল কাজটা করতে হবে।’

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ লড়াই থেকে মেরুদণ্ডের ইনজুরি নিয়ে সেমিফাইনালের আগেই ছিঁটকে গেছেন নেইমার। একইভাবে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার ছিঁটকে পড়াও আর্জেন্টাইনদের জন্য বড় একটা বিপদ হতে পারে বলেই মানছেন রাউল, ‘নেইমারের পর দক্ষিণ আমেরিকানদের জন্য এটা ছিল বড় একটা হতাশার সংবাদ। তবে, আশাকরি আলেসান্দ্রো সাবেলার সাইড বেঞ্চের খেলোয়াড়রা মারিয়ার অভাব বুঝতে দেবেন না। সব মিলিয়ে আমি একটা জমজমাট লড়াইয়েরই আশা করছি। দারুণ একটা ম্যাচ হবে।’

ফুটবলভক্তরাও তেমনটাই চায়!

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here