kheladula
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ঘিরে আলোর ঝরণাধারা ছিল না। আলোকোজ্জ্বল পরিবেশও ছিল না। তারপরও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের এই ট্রফি সবার চোখে রোশনাই ছড়াচ্ছিল। আগামী বছর ১৩ জুলাই ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর মারকানা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে তুলে দেয়া হবে এই ট্রফি। এবারই বাংলাদেশে প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের আসল ট্রফি আসল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রফি পৌঁছানোর পর সেখান থেকে সরাসরি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকাল তিনটায় ট্রফি গ্রহণ করেন আবদুল হামিদ এবং ট্রফি দেখে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। প্রকৃত ফুটবল প্রেমিকের মতই উদ্দীপ্ত হয়ে হাস্যোজ্জ্বল রাষ্ট্রপতি ট্রফি নিয়ে মাথার উপরে তুলে ধরেন। আনন্দিত রাষ্ট্রপতি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ভ্রমণে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় ফিফা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

বঙ্গভবন থেকে ফিফা ট্রফি প্রধানমন্ত্রীর বাস ভবন গণভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ট্রফিটি উন্মুক্ত করা হয়। পরে ট্রফির সাথে ছবি তোলেন তিনি। এসময় বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল বাফুফের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই ট্রফি বহনকারী একটি বিশেষ বিমান নির্ধারিত সময়ের প্রায় ঘন্টাখানেক আগেই বিমানবন্দরের মাটি স্পর্শ করে। বেলা ১টা ৭ মিনিটে ট্রফি বহনকারী ফিফা কোকাকোলার বিজ্ঞাপনে মোড়া বিমান থেকে ট্রফি নামিয়ে ৩০ গজ দূরে বিমানের ল্যান্ডমার্কে অস্থায়ী মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ট্রফি বরণ করে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। কালো কাপড়ে ঢাকা ট্রফি বাফুফে সভাপতি উন্মোচন করলে সবাই করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। ফিফার কর্মকর্তারা ছিলেন ট্রফির পাশে। পর্দা উন্মোচনের পর ট্রফির পাশে ছবি তোলার জন্য হৈ-চৈ শুরু হয়। পালাক্রমে বাফুফের কর্মকর্তারা ছবি তোলেন ট্রফি ঘিরে। মঞ্চের চারদিকে ঘিরে ছিল কয়েকশত উত্সুক দর্শক। যারা বিমানবন্দরেই কর্মরত। চারদিক থেকে কড়া নিরাপত্তার পরও ট্রফি দেখার জন্য অন্তত কয়েকশত দর্শকের উপস্থিতি ছিল। ১৮ ক্যারেটের ৫ কেজি ওজনের স্বর্ণের ট্রফি হাতের নাগালে। এমন দুর্লভ মুহূর্ত ধরে রাখতে সবাই মোবাইলে ছবি তুলছিলেন। বিমানচালক, বিমানবালাও গিয়ে ছিলেন সোনার ট্রফির ছবি তুলে সোনার ফ্রেমে ধরে রাখার জন্য।

১৭ মিনিটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ ট্রফি পুনরায় বিমানে তুলে নেয়া হয়। নিরাপত্তার খাতিরেই এমনটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রফির সাথে আসা কোকাকোলা ব্রাজিলের কর্মকর্তা ব্রুনো বরেত্রো লিনো। তারই সূত্রে জানা গেলো, ট্রফি নিয়ে নিরাপত্তা বজায় রাখছে ফিফার লোকজন। প্রায় ২০০ আসনের বিমানে ছিলেন ২০ জন। এসেছেন ফ্রান্স ও ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক। ট্রফি নিয়ে ফিফার এক কর্মকর্তা বিমানের পেছন সিটে বসেছেন নিরাপত্তার কারণে। বেলা আড়াইটায় বিমান থেকে নামিয়ে কালো লাগেজে ট্রফি ভরে গাড়িতে তোলা হয়। বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তায় বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে গণভবনে নেয়া হয়। ট্রফির গাড়ির বহরে ছিল পুলিশ, র্যাবসহ ফয়ার সার্ভিস এবং অ্যাম্বুলেন্স।

বিশ্বকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন দলকে ফাইনাল শেষেই এই ট্রফিটি তুলে দেয়া হয়। আবার কিছুক্ষণ পরই সেটা নিয়ে রেপ্লিকা হাতে দেয়া হয় চ্যাম্পিয়ন দলকে।

তিন দিনের জন্য বাংলাদেশে আসা ট্রফিতে বিশ্বকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক এবং তার সতীর্থ খেলোয়াড়দের হাতের স্পর্শ রয়েছে। স্বপ্নের এই ট্রফি হাতে নিয়েছেন ইটালির পাওলো রসি (১৯৮২), আর্জেন্টিনার ডিয়েগো ম্যারাডোনা (১৯৮৬), জার্মানির লোথার ম্যাথিউস (১৯৯০), ব্রাজিলের কার্লোস দুঙ্গা (১৯৯৪), ফ্রান্সের জিনেদিনে জিদান (১৯৯৮), ব্রাজিলের কাফু (২০০২), ইটালির মালদিনি (২০০৬) স্পেনের পুওল (২০১০)।

বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কের হাতে কবে এই ট্রফিতে স্পর্শ করবে, তা জানে শুধু ভবিষ্যত্।

ফুটবলকে প্রমোট করার জন্য বিশ্বকাপের আসল ট্রফি পৃথিবি ভ্রমণ করতে শুরু করে গত ১২ সেপ্টেম্বর। গতকাল মঙ্গলবার ওই কর্মকর্তা বিমানবন্দরে জানিয়েছেন ট্রফিটি ৮৯টি দেশ ভ্রমণ করছে। বাংলাদেশ তারই একটি অংশ। ৯ মাসে ফুটবল পৃথিবীর দেড় লাখ কিলোমিটার আকাশ পথ পরিভ্রমণ করবে ট্রফি। গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে ট্রফি। এখান থেকে ২০ ডিসেম্বর সকালে ভুটানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here