52986764dbc4b-_PA_3863একাত্তরে মারি যেমন থুবি থুবি হালাই দিছে। মানুষ না কুত্তা-বিলাই, কোনো দয়া-মায়া নাই। এখনো ঠিক একই অবস্থা।’ বাসে ছুড়ে দেওয়া পেট্রলবোমায় দগ্ধ ভাইপো ওহিদুর রহমানকে দেখতে এসে হতবিহ্বল হাবিবা আক্তার এভাবে বিলাপ করছিলেন। নাম বলে গালি দিচ্ছিলেন নেতা-নেত্রীদের।

হাসপাতালের বিছানায় সারি সারি পোড়া বাসযাত্রী দেখিয়ে বলতে থাকেন, ‘এইডা কুন যুগ আইলো বাবা?’ বৃহস্পতিবার শাহবাগে বাসে দগ্ধ ছাত্র ওহিদুর রহমানের ফুফু তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে এমন অসংখ্য স্বজন অভিসম্পাত করছেন প্রচলিত রাজনীতির হিংস্রতাকে। সমূলে বিনাশের অভিশাপ দিচ্ছেন এ ধরনের হামলাকারীদের।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের অবরোধের তৃতীয় দিনে রাজধানীর শাহবাগে শিশুপার্কের উল্টো দিকে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হলে ১৯ বাসযাত্রী পুড়ে যায়। এঁদের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় নাহিদ মোড়ল ও গতকাল বেলা তিনটায় রবীন মাতবর নামে দুজন মারা যান। তাঁরা পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই।

বিহঙ্গ পরিবহনের বাসটি পুরান ঢাকার সদরঘাট থেকে মিরপুরে যাচ্ছিল। দগ্ধ ব্যক্তিদের ১০ থেকে ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

দুপুরে বার্ন ইউনিটের চারতলায় ওয়ার্ডের বাইরে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন আবদুল কুদ্দুস আর রাজিয়া বেগম। তাঁরা অগ্নিদগ্ধ ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের বাবা-মা। শফিকুলের বাবা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘কী এমন রাজনীতি হইলো। দেশের শিক্ষিত লোকগুলাও পক্ষ নিয়া টক শোতে কথা বলে। আর রাস্তায় আমার ছেলে পুড়ে।’

দগ্ধ ব্যবসায়ী আবু তালহার বোন সুলতানা বলেন, ‘মানুষরে পুড়াইয়া মারা কী রাজনীতি? আপনারা কন।’

বাসচালক মাহাবুব আলমের স্ত্রী পোশাকশ্রমিক শাহনাজ পারভীন পুরোটা সময়ই থাকছেন স্বামীর শয্যাপাশে। মাঝে মাঝে বের হচ্ছিলেন ছয় বছরের ছেলে শাহীনের

খোঁজ নিতে আর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে। বাইরে বসে মাহাবুব আর শাহনাজের স্বজনেরা মনের ক্ষোভ মেটাচ্ছিলেন গালি দিয়ে। মাহাবুবের ভাই আনোয়ার হোসেন বলছিলেন, ‘নদীতে ঘরবাড়ি সব নিছে। খাইটা খাই। আমার ভাইডা তো কোনো অন্যায় করেনি। এহন তো সবই গেলো।’

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here