বাংলাদেশের বর্তমান সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ বলেছে, এই অবস্থায় একতরফা নির্বাচন হলে ভোট পড়তে পারে খুবই কম। এতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। নতুন করে ভোটের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করতে পারে বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নামে সেনাবাহিনীর জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে। (যদিও বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর জরুরি অবস্থা জারির ক্ষমতা নেই। জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে কেবল সরকার।)

গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকা লিখেছে এমন কথা। এতে বলা হয়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফলাফল হতে পারে উদ্বেগজনক। সমঝোতা না হলে নির্বাচনে অংশ নেবেন না বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ যে বিজয়ী হবে, তা নিশ্চিত। কিন্তু সেই নির্বাচন বৈধতা পাবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এটা অনেকাংশে নির্ভর করছে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির ওপর। ৫০ শতাংশের বেশি ভোটার নির্বাচনে ভোট দিলে শেখ হাসিনা নিজেকে বিজয়ী দাবি করার একটি শক্ত ভিত্তি পাবেন। কিন্তু তা হবে বলে মনে হয় না। ভোট পড়তে পারে আরও অনেক কম।

সংঘাত-সংঘর্ষ, জ্বালাও-পোড়াও এবং এতে প্রাণহানির বিষয়টি উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকাটি লিখেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার গত সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতির আরও উদ্বেগজনক অবনতি হয়েছে। তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে দেশজুড়ে অবরোধ-বিক্ষোভ পালন করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হচ্ছে গাড়িতে। তাদের রুখতে গুলি ছুড়ছে পুলিশ। গত ২৬ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সহিংসতায় নিহত হয়েছে দুই ডজনের বেশি মানুষ।

বাংলাদেশের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিবিদ ‘নিউইয়র্ক টাইমস’কে বলেন, এই পরিস্থিতিতে ‘দুই নেত্রীর উচিত একটি আপসে পৌঁছানো’।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছেন। এই অবস্থায় তাঁদের মধ্যে সমঝোতা নিয়ে আদৌ আশাবাদী হওয়া যায় কি না, সে সংশয় প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ‘এর পরও সবশেষে সবকিছু নির্ভর করছে দুই নেত্রীর ওপর।’

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here