gazinews

 

আশাবাদী ছিলেন সোহাগ গাজী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা নিরাশায় পরিণত হল। আইসিসির অ্যাকশন পরীক্ষায় পাস না করায় কপাল পুড়লো তার। নিয়ম অনুযায়ী এখন তিনি কোন ধরনের ক্রিকেটেই আর বোলিং করতে পারবেন না। তবে, অ্যাকশন শুধরে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে ফিরে আসার সুযোগ থাকছে এই অফ স্পিনারের।

ঈদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরপরই সোহাগ গাজীর এই দু:সংবাদের কথা জানালেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ‘আইসিসি একটা ই-মেইল দিয়ে আমাদের নিশ্চিত করেছে যে সোহাগ গাজীর বোলিং অ্যাকশন ত্রুটিপূর্ণ। ডেলিভারি করার সময় তার কনুই ১৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশি বাঁকে। তবে, কতটা বেশি বাঁকে সেটা আমাদের আইসিসি এখনও জানায়নি। তবে, শীঘ্রই সেই ব্যাপারে আমরা জানতে পারবো।

সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে তো বটেই গোটা বিশ্বেই বোলিং অ্যাকশনজনিত সন্দেহ খুব আলোচিত এক ব্যাপার। খুব অল্প সময়ের মধ্যে মোট সাত জন অফ স্পিনার ও একজন পেসার এই সন্দেহভাজনের শিকার হন। এদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার সচিত্র সেনানায়েকে ও নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধই হয়েছেন। উইলিয়ামসন মনযোগী হয়েছেন ব্যাটিংয়ে। আর সাচিত্রা ক’দিন আগে অ্যাকশন শুধরে ফিরেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। সর্বশেষে এই নিষিদ্ধ হওয়াদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন পাকিস্তানের অফ স্পিনার সাঈদ আজমল। এবার তিনি আছেন বিশ্বকাপের আগেই অ্যাকশন শুধরে ফেরার লড়াইয়ে। সোহাগ গাজীর সাথে একই দিনেই পরীক্ষা দিয়েছিলেন অ্যাকশনের কারণে ম্যাচ অফিসিয়ালদের সন্দেহভাজনের শিকার হওয়া জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক প্রসপার উেসয়া।

এছাড়া পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন অপেক্ষায় আছেন অ্যাকশনের পরীক্ষার। অপেক্ষায় আছেন বাংলাদেশের পেসার আল আমিনও। সেন্ট ভিনসেন্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে এই পেসারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারে। এর সাথে যুক্ত হয় ২৪ বছর বয়সী পেসারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ।

উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ তিনটি ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অফ স্পিনার সোহাগ গাজীর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আপত্তি তুলেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। সেই সন্দেহ দূর করতে তাকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা দিতে হবে কার্ডিফের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে। এরপর দেশে ফিরে আশাবাদী সোহাগ গাজী জানিয়েছিলেন, অ্যাকশনে তিনি তেমন কোন ত্রুটি দেখছেন না। দুশ্চিন্তার ভাঁজও ছিল না তার কপালে।

কিন্তু, ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির নতুন দেয়া ইমেইলে গোটা বাংলাদেশ ক্রিকেটাঙ্গনেই এখন দুশ্চিন্তার ছাপ!

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here